নজর২৪, ঢাকা- ঢাকাই সিনেমার আলোচিত অভিনেত্রী পরীমণির মুক্তি চান মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র অধ্যাপক আ. ক. ম. জামাল উদ্দীন।
মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) বিকালে এই দাবি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পেজে এক পোস্ট দিয়েছেন তিনি।
ফেসবুকে জামাল উদ্দীন লিখেছেন, ‘চিত্রনায়িকা পরী মণিসহ গ্রেপ্তারকৃত সব শিল্পী কলাকৌশলীর অবিলম্বে মুক্তি দিন। স্ট্যান্ড ফর পরীমণি।’
আরও পড়ুন-
আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে : পরীমণি
পরীমনি ৫ দিন একই পোশাকে কেন? জানা গেল চাঞ্চল্যকর তথ্য
পরীমণিকে সরল সোজা বলে পুরুষতন্ত্রকে ধুয়ে দিলেন তসলিমা নাসরিন
রাতে আরেক পোস্টে আ. ক. ম. জামাল উদ্দীন লিখেছেন, ‘র্যাব কেন সৃষ্টি হয়েছিল? পরীমনির মত অবলা নারীকে ধরতে কি র্যাব লাগে? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করতে চাই। যদি র্যাব এর কাজ এত নীচে হয়, তাহলে এই র্যাব আমাদের দরকার নেই।’
‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি একজন নারী। পরীমনির মত একজন নারীকে ৪/৫ দিন পর্যন্ত রিমান্ডে নিয়ে তার পরিধেয় পোশাক পর্যন্ত পরিবর্তন করতে দেয়া হয়নি, এটা কি ধরনের বর্বরতা, অসভ্যতা? এটা দেশের সমগ্র নারী সমাজের জন্য চরম লজ্জ্বার। এসব বন্ধ করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।’
এদিকে পরীমণির মুক্তির দাবিতে স্ট্যাটাস দেওয়া নিয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগেরে এই অধ্যাপক সাংবাদিকদের বলেন, যাদের ধরা হয়েছে তারা নামিদামি তারকা। তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে পুলিশ আদালতে মামলা করবে। তারা কোর্টে যাবে, কথা বলবে। কিন্তু, তাদেরকে এভাবে রাত দিন এক করে ধরা, এটা কোন সভ্যতার মধ্যে পড়ে?
তিনি বলেন, দেশে হাজার হাজার তিন কোটি টাকা দামের গাড়ি আছে। তারা কিভাবে কিনছেন? তাদের আয়ের উৎস কী? তাদের ধরছেন না কেন?
প্রসঙ্গত, আলোচিত অভিনেত্রী পরীমনি গত ৪ আগস্ট রাজধানী বনানীর বাসা থেকে র্যারের হাতে গ্রেপ্তার হন। পরে তার বিরুদ্ধে বনানী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে আইনে মামলা করা হয়। এরপর প্রথমে চারদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় পরীমনিকে। এই রিমান্ড শেষে আবার দুই দিনের রিমান্ডে আছেন তিনি।
আরও পড়ুন-
অবশেষে পরীমণির পাশে দাঁড়ালেন আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
নজর২৪ ডেস্ক- গত কয়েকদিন ধরে চিত্রনায়িকা পরীমণি ইস্যুতে বেশ আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এবার এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন জানালেন প্রখ্যাত লেখক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী। তিনি সোমবার (৯ আগস্ট) গণমাধ্যমে এ আবেদনটি পাঠান।
আবেদনে লন্ডন প্রবাসী প্রবীণ এই সাংবাদিক লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এই আবেদন তার একার নয়। দেশে প্রশাসন, একটি বিত্তশালী এবং মিডিয়া গোষ্ঠী মিলে ২৮ বছরের একটি তরুণীকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার যে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে, এটি সে সম্পর্কে সচেতন নাগরিক সমাজের আবেদন।
আরও পড়ুন-
আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের দেখে ক্ষোভ ঝাড়লেন পরীমণি
পরীমণিকে নিয়ে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করলেন ভারতীয় অভিনেতা
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী লিখেছেন, পরীমণিকে গ্রেপ্তারের জন্য দু-চারজন র্যাব কিংবা পুলিশের সদস্য গেলেই হতো।
সেখানে যে যুদ্ধযাত্রা করা হয়েছিল, তাতে মনে হয়েছিল কোনো ভয়ংকর ডাকাতকে গ্রেপ্তারের জন্য এই আয়োজন। গ্রেপ্তারের পর থেকেই পরীমণির বিরুদ্ধে একটার পর একটা স্ক্যান্ডাল ছড়ানো হচ্ছে। এটা বোঝাই যায়, কোনো একটি মহল থেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই স্ক্যান্ডাল ছড়ানো হচ্ছে। অর্থাৎ বিচারের আগেই বিচার। চয়নিকা চৌধুরীর মতো একজন বিখ্যাত নাট্যকারকে অহেতুক রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে তার চরিত্রে কালিমালেপনের চেষ্টা করা হয়েছে। এগুলো ক্ষমতার বাড়াবাড়ি। এগুলো চলতে দিলে দেশের নাগরিক স্বাধীনতা বিপন্ন হবে।
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী লিখেছেন, বোট ক্লাবের ঘটনার পরে আসামিরা যে সহজেই জামিন পেল তার রহস্য কী? এই শক্তিশালী মহলটি প্রশাসনের একাংশকে বশ করে যে এই ঘটনাগুলো সাজিয়েছে, তা বুঝতে কি কষ্ট হওয়ার কথা? তারপর মিডিয়া প্রচার। এই প্রচারগুলো যে সত্য নয়, তা সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিনের বিবৃতিতেও জানা গেছে। সাড়ে তিন কোটি টাকার গাড়ি নিয়ে পরীমণির বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার চালানো হয়েছে, আরেফিন সাহেবের বিবৃতিতে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
পরীমণির ব্যক্তিগত সম্পর্ক ঘিরে প্রচারণার কথা উল্লেখ করে এই প্রথিতযশা সাংবাদিক লিখেছেন, পরীমণি চলচ্চিত্রের নায়িকা। নানাবিধ পুরুষের সঙ্গেই তার সম্পর্ক থাকতে পারে। সেটা কি অপরাধ? সবিনয় জিজ্ঞাসা, আদালতে বিচার হওয়ার আগে দেশের চলচ্চিত্র জগতের সম্ভাবনাময় তরুণীর জীবন যেভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হলো, তার দায় কে নেবে? আদালতের বিচারে পরীমণি যদি দোষী সাব্যস্ত হয় এবং শাস্তি পায়, তাতে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু একজন তরুণীকে যেভাবে আটক করে হেনস্তা করা হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে অপ্রমাণিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা শুধু নারী সমাজের অপমান নয়, মানবতার অপমান। এটা আমাদের নাগরিক স্বাধীনতার ওপর একটি ভয়ংকর থাবা।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী আরও লিখেছেন, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার শাসনামলেই নারীদের ক্ষমতায়ন শুরু হয়েছে। সে জন্যই তার কাছে সবিনয় আবেদন, পরীমণির ব্যাপারে তিনি হস্তক্ষেপ করুন। তাকে বিচার থেকে রক্ষা করতে বলি না। তাকে হায়েনা গোষ্ঠীর হাত থেকে বাঁচানোর জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। পরীমণির সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে, তা যে দেশের আরেকজন নাগরিকের ওপর করা হবে না, তার নিশ্চয়তা কী?
তিনি বলেন, দেশের সচেতন বুদ্ধিজীবী শ্রেণির কাছে আবেদন করি, পরীমণির ওপর এই হেনস্তার প্রতিবাদ করুন। দয়া করে চুপ থাকবেন না। পরীমণির ওপর অত্যাচারের নিন্দা করুন। মিডিয়ার কাছে অনুরোধ, তারা যেন অত্যাচারিতের পক্ষে দাঁড়ান। অত্যাচারী গোষ্ঠীর পক্ষে না যান।
আরও পড়ুন-
বাবা চাকরি করতেন পুলিশেঃ ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছিলেন পরীমনি
পরীমনি ইস্যুঃ নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন সিটি ব্যাংকের এমডি
