নজর২৪ ডেস্ক- ঢাকাই সিনেমার আলোচিত অভিনেত্রী পরীমনিকে জড়িয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন।
রবিবার (৮ আগস্ট) দিবাগত মধ্যরাতে ফেসবুকে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। তাতে তাকে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদকে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন মাসরুর আরেফিন।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে মাসরুর আরেফিন বলেন, তিনি পরীমনিকে চিনতেন না। ‘বোট ক্লাব’ ঘটনার আগে তার নামও শুনেননি এবং তার সঙ্গে কখনো কথাও হয়নি।
পরীমনিকাণ্ডে সিটি ব্যাংকের এমডির এমন বক্তব্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচনার পাশাপাশি সমালোচনাও হচ্ছে। স্ট্যাটাসটিতে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত সাড়ে ৭ হাজারের বেশি লাইক পড়েছে। সেখানে মন্তব্য করেছেন দেড় হাজারের বেশি মানুষ।
মহিউদ্দিন মোহাম্মদ নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, মাসরুর আরেফিন আপনি পরিমণিকে গাড়ি কিনে দিয়েছেন, ইত্তেফাকের এমন অভিযোগের বিপরীতে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা আমার ভালো লাগেনি।
আপনি এক জায়গায় লিখেছেন, ‘বোট ক্লাব‘ ঘটনার আগে পর্যন্ত পরীমনি নামটাও শুনিনি। আমার তখন মানুষকে জিজ্ঞাসা করতে হয়েছিল যে, কে এই পরীমনি?
আরেক জায়গায় লিখেছেন, তারা বুঝলেন না যে, ‘আগস্ট আবছায়া’ (বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ওপরে চার বছরের গবেষণার শেষে লেখা আমাদের অন্যতম এক প্রধান উপন্যাস), ‘আলথুসার‘ বা ‘আন্ডারগ্রাউন্ড‘ নামের উপন্যাসের লেখকের, বাংলায় ‘ফ্রানৎস কাফকা গল্পসমগ্র‘ কিম্বা ‘হোমারের ইলিয়াড‘-এর এই অনুবাদকের এক পয়সা দুর্নীতির টাকাও থাকতে পারে না যা দিয়ে তিনি নিজের জন্য—ব্যাংক লোন নেওয়া ব্যতিরেকে—একটা বিলাসী বা ভাল গাড়ি কিনতে পারেন। অন্যকে কিনে দেবার কথা বাদই দিন। আমি মনে করি এ দুটি কথাই অত্যন্ত আপত্তিকর।
প্রিজামশন অব ইনোসেন্স, যেটিকে আমরা ইনোসেন্ট আনটিল প্রোভেন গিল্টি বলি, সেটি আইনের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ডকট্রিন। এ ডক্ট্রিন একজন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে, চূড়ান্ত বিচারিক রায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত সুরক্ষা দিয়ে থাকে।
প্রশ্ন হলো, এ ডক্ট্রিন আপনাকে সুরক্ষা দেয় কি না?
আমি বলবো, এ ডক্ট্রিন আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্যই নয়। কাউকে গাড়ি কিনে দেয়া কি অপরাধ? শুধু পরীমনি কেন, একজন স্বীকৃত পতিতাকেও আপনার গাড়ি কিনে দেয়ার অধিকার রয়েছে। আপনি ভালোবেসে কাকে কী দেবেন, সেটি একান্তই আপনার ব্যাপার। এখানে রাষ্ট্র বা মিডিয়া কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
কিন্তু আপনার দাবি, আপনি পরীমনিকে গাড়ি কিনে দেন নি। এমন কি তার নাম পর্যন্ত শুনেন নি। আমি ধরে নিচ্ছি আপনি পরীমনিকে গাড়ি কিনে দেননি। কিন্তু বোট ক্লাবের ঘটনার আগ পর্যন্ত আপনি পরীমণির নাম পর্যন্ত শুনেননি, এটি আমাকে অবাক করেছে।
বাংলাদেশের প্রথম সারির দৈনিকগুলোতে নিয়মিত পরীমনির ছবি ও নাম ছাপা হয়। ঢাকার এমন কোনো রাস্তা নেই, যেখানে পরীমনির পোস্টার কখনো লাগানো হয়নি। ফেসবুক নিউজফিডে পরীমনির হাজার হাজার ছবি ও ভিডিও রয়েছে। এগুলোর ভিত্তিতে আমি যদি প্রোব্যাবিলিটির পারমুটেশোন-কম্বিনেশন করি, তাহলে আপনি পরীমনির নাম কখনো শুনেননি, এ সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি হবে।
এ সম্ভাবনাটি আমাকে উদ্বিগ্ন করেছে। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, পুরো বক্তব্যে অন্তত একটি কথা আপনি মিথ্যে বলেছেন। যে ব্যক্তি সচেতনভাবে একটি মিথ্যে কথা বলতে পারে, সে ব্যক্তি চাইলে আরও অনেক মিথ্যে কথা বলতে পারে।
আপনি যেভাবে পরীমনির নামকে ডিনাই করেছেন, তার একটি বঙ্গদেশীয় প্যাটার্ন আছে। সাধারণত বাঙালি প্রেমিক-প্রেমিকা বা স্বামী-স্ত্রীরা, ইনফাইডালিটিতে হাতেনাতে ধরা খেলে এভাবে নাম অস্বীকার করে।
পরীমনির নাম কখনো শুনেননি, এ বাক্যটি বাদ দিয়ে বক্তব্য দিলে ভালো হতো। এ বাক্যটি এখানে হাইডেন সিগন্যাচারের ভূমিকা পালন করছে।
দ্বিতীয়ত, এখন আমাদের দেশে কেউ বিপদে পড়লেই বঙ্গবন্ধুর আশ্রয় নিয়ে থাকে। আপনিও নিলেন। এ ব্যাপারগুলো মানুষের ক্রেডিবিলিটি নষ্ট করে। আপনি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষণা করেছেন ভালো কথা (যদিও আমি জানি না কী মানের গবেষণা করেছেন), কিন্তু এরকম দিনের জন্য এটিকে ব্যবহার করবেন, আমি তা আশা করিনি।
কাফকার গল্প, আর হোমারের ইলিয়াড, বাংলায় আরও অনেকেই অনুবাদ করেছেন। আপনি করে থাকলে, এবং আপনার অনুবাদের মান তাদের চেয়ে ভালো হয়ে থাকলে, আমি আপনাকে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু আপনি ইলিয়াড অনুবাদ করেছেন বলে, বা কোনও উপন্যাস লিখেছেন বলে, আপনি কাউকে গাড়ি কিনে দিতে পারবেন না, এমন দাবি ফালতু। বাংলাদেশে কোনো ব্যাংকের এমডির আয় কম নয়। আমি বিস্তারিত বলতে চাই না।
আমি আমার ‘মানুষ এবং অন্ধকারের প্রশংসা’ রচনাটিতে মানুষের গোপন জীবন নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। ওই গোপন জীবনে মানুষ অনেক কিছু করে থাকে, যা সোশ্যাল মোরালিটিতে অফেন্সিভ মনে হলেও কোনো ক্রিমিনাল অফেন্স নয়। আর ইত্তেফাক যে-অভিযোগ তুলেছে, তাকে কিছু লিমিটেড ডোমেইন ছাড়া, আমি সোশ্যাল মোরালিটিতেও অফেন্সিভ বলতে নারাজ। আমি মনে করি, এ বিষয়ে আপনার কোনো বক্তব্য দেয়ারও প্রয়োজন ছিলো না। দিলেও, তা এমনভাবে দেয়ার প্রয়োজন ছিলো না।
বার্ডেন অব প্রুফ কখনো অভিযুক্তের উপর বর্তায় না। এটি বর্তায় তার ওপর, যিনি অভিযোগ তুলেছেন। ইত্তেফাক যদি অভিযোগ তুলে থাকে, তাহলে এখন ইত্তেফাকেরই উচিত সে অভিযোগের সমর্থনে এভিডেন্স পেশ করা। ইত্তেফাকের অভিযোগ সত্য না মিথ্যা, এটি প্রমাণ করা আপনার দায়িত্ব নয়। মানুষেরও উচিত নয়, ইত্তেফাকের রিপোর্ট দেখে আপনাকে বিচার করা। এ কথা সব অভিযুক্তের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
আরেকটি কথা না বললেই নয়। আপনার স্ট্যাটাসের শব্দ বা বাক্যবিন্যাস দেখে মনে হয় নি যে আপনি ভালো মানের কোনো লেখক। আমার অনুমান ভুলও হতে পারে।
আওলাদ হোসেন মামুন নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, “আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে মানুষ দুটি ভুল কাজ করে— মিথ্যা তথ্য দেয় ও প্রচুর আবেগের অবতারণা করে।
মাসরুর আরেফিনের ফেসবুক আত্মপক্ষ সমর্থনে একটা মিথ্যা হলো পরীমনির নাম না শোনার দাবি।
বাংলাদেশে পরীমনিকে কোনো চটি পত্রিকা ফেরি করেনি। প্রথম আলোর মতো স্বনামধন্য পত্রিকা পরিমনিকে সবচেয়ে বেশি কাভারেজ দিয়েছে। মাসরুর সাহেবের চলাফেরাও একই সমতলে।
পরিমনির সঙ্গে সম্পর্ক ও ঝামেলা কোনো আলু পটল বিক্রেতার নয়, বরং মাসরুর আরেফীনের সম ও উচ্চ পর্যায়ের লোকজনের সঙ্গেই ছিল। ফলে মাসরুর সাহেব যে পরীমনির নাম না শোনার কথা বলছে তা বিশ্বাসযোগ্য নয়।
এরমধ্যে একটা পিছনের ঘটনা বলি- আগস্ট মাসে মুজিবকে হত্যার ঘটনায় কতজনইতো শোকের নাটকীয়তা করেন, এরমধ্যে সবচেয়ে হার্ডকোর ছিলেন চট্টগ্রামের এক বয়স্ক লোক। সে শিয়াদের মতো হায় মুজিব হায় মুজিব করে পিঠে ছুরি চালিয়েছিল। পরে দেখা গেল ওই লোক প্রকাশ্যে দিনে দুপুরে এক লোককে মেরে ফেলেছে। তার ওই হত্যাকাণ্ডটি দেশের ইতিহাসে অন্যতম নৃশংসতা।
এখন কথা হলো মাসরুর সাহেব নিজেকে নির্দোষ দাবি করতে গিয়ে আবেগঘন নাটকীয়তা করতে আগস্টে মুজিবকে হত্যা নিয়ে লেখা উপন্যাসের কথা বললেন। বাংলাদেশের ইতিহাস বিচার করলে কারোই মনে হবে না যে এরকমম উপন্যাস লেখিয়েরা নিরীহ হয়। বরং মুজিবভক্ত শিশু সাহিত্যিককেও আমরা ক্রিমিনাল হতে দেখে আসছি।
পরিহাস হলো, মাসরুর সাহেব আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে তার লেখক পরিচয়টা সামনে এনে বলছেন এমন লোক দুর্নীতি করতে পারে না। কিন্তু তিনি যে ব্যাংকার তা উহ্য রাখলেন সেখানে!”
সূত্র- দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস।।
আরও পড়ুন-
পরীমনিকে ‘গাড়ি উপহার’: মুখ খুললেন সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিন
নজর২৪ ডেস্ক- ঢাকাই সিনেমার আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণিকে সিটি ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিনের একটি গাড়ি উপহার দেওয়া নিয়ে সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এ সংবাদকে মিথ্যাচার বলে দাবি করছেন মাসরুর নিজেই।
পাশাপাশি পরীমণি ও পিয়াসাকে কখনো দেখেননি বলে দাবি করে রোববার (৮ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট দেন তিনি। পাঠকদের জন্য পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো।
“নায়িকা পরীমণি ও আমি
আমেরিকায় বিএসইসি আয়োজিত বিনিয়োগ রোড শো-তে অংশ নিয়ে আমি এখন ঢাকার পথে। এর মধ্যেই শিকার হলাম আমার জীবনের প্রবলতম মিথ্যাচারের। ইত্তেফাক লিখে দিলো : ‘একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিনের সঙ্গে পরীমণির অডিও রেকর্ডে একটি গাড়ি উপহার দেওয়ার কথা রয়েছে। একইসঙ্গে ওই ব্যাংকের চেয়ারম্যান শওকত রুবেলের সঙ্গে পরীমণির গভীর সখ্যের বিষয়টি কথোপকথনে উঠে এসেছে।’
আমার বলার কোনো ভাষা নেই, কোনোকিছু বলারই কোনো ভাষা নেই। আমি আমার বাপের জীবনে, এই মর্ত্যের পৃথিবীতে, এই ধরাধামে পরীমণি নামের কাউকে দেখিনি। অতএব তার নম্বর আমার কাছে থাকার প্রশ্নই আসে না। এমনকি ‘বোট ক্লাব‘ ঘটনার আগে পর্যন্ত পরীমণি নামটিও শুনিনি। আমার মানুষকে জিজ্ঞাসা করতে হয়েছিল যে, কে এই পরীমণি?
আমার কাজ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যাংকিং আর তারপর সাহিত্য নিয়ে পড়ে থাকা। প্রতিদিন। একই। ঢাকার একজন মানুষও (হাই সোসাইটির একজনও) বলতে পারবেন না তারা কেউ আমাকে কোনোদিন কোনো ক্লাব বা পার্টিতে দেখেছেন (এখানে আমি ক্লাব বা পার্টিতে যাওয়ার নিন্দা করছি না, সেটা যারা যাবার তারা যেতেই পারেন; আমি শুধু বোঝাচ্ছি যে মানুষ হিসেবে আমার টাইপটা কী?)। এতটাই ঘর ও অফিস/অফিস ও ঘরমুখী এক মানুষ আমি।
অতএব বলছি, তাকে গাড়ি দেওয়ার কথাটা আমার কানে লাগছে মঙ্গল গ্রহের ভাষায় বলা কোনো কথার মতো। আমার নিজের একটিও গাড়ি নেই। একটা সামান্য মারুতি বা ধরেন একটা টয়োটা করোলা গাড়িও না। ব্যাংক আমাকে চলার জন্য গাড়ি বরাদ্দ দিয়েছে, তাতেই চড়ি। ব্যাংকের চাকরির শেষে নিশ্চয় কোনো ব্যাংক থেকে কার লোন নিয়ে একটা গাড়ি কিনে তাতে চড়ব।
কোনো অভিযোগের মধ্যে মিনিমাম মিনিমাম মিনিমাম এক সুতো সত্য থাকতে হয়। কিন্তু এ এক ভয়ংকর বিষয় যে, আমি যাকে চিনি না, জীবনে যার বা যাদের সঙ্গে হ্যালো বলা দূরে থাক, যাদের নামটা পর্যন্ত আমি প্রথম জানলাম এই কদিন আগে (পিয়াসা নামটা মাত্র দুদিন আগে), সেই নায়িকা বা মডেলকে আমি গাড়ি দিয়ে ফেললাম?
কোথায় যোগাযোগ হলো আমাদের? ফোন কল? তার নাম্বার কী? কল রেকর্ড আনা হোক। তাহলে ঘটনা কী? আমি সত্যি জানি না, ঘটনা কী। বুঝি যে, আমাকে নিয়ে (অর্থাৎ এক অর্থে সিটি ব্যাংক নিয়ে) একটা সস্তা ষড়যন্ত্র চলছে।
ইত্তেফাক-এর খবরে ওরা দ্যাখেন সিটি ব্যাংক চেয়ারম্যানের নামটা পর্যন্ত লিখতে পারেনি, লিখেছে ‘ওই ব্যাংকের চেয়ারম্যান শওকত রুবেলের সঙ্গে পরীমনির গভীর সখ্যের বিষয়টি…।’ শওকত রুবেল নামের মানুষটা কে? এই নামে তো কেউ নেই।
নায়িকা পরীমনি ও আমি — আমেরিকায় বিএসইসি আয়োজিত বিনিয়োগ রোড শো-তে অংশ নিয়ে আমি এখন ঢাকার পথে। এর মধ্যেই শিকার হলাম…
সাংবাদিক ভাইয়েরা, কী লিখেছেন আপনারা এসব? মানুষ ও তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন আপনাদের কাছে এতই ফেলনা যে, নামটাও ঠিক জেনে লিখবেন না? প্রিয় ইত্তেফাক, আমার ব্যাংকের চেয়ারম্যানের নাম আলাদা। সেটা শওকত রুবেল না।
আমার অনুমান এই যে, ব্যবসায়ী শওকত আজিজ রাসেল আমাদের ব্যাংক চেয়ারম্যানের ছোট ভাই। একটা গোষ্ঠী তার হয়তো ক্ষতি চায়, এবং তারা তাদের সেই চাওয়ার সঙ্গে তাকে সিটি ব্যাংক চেয়ারম্যান ভেবে নিয়ে ব্যাংক প্রধান হিসেবে আমাকেও নিষ্ঠুর ও বাছবিচারহীন এক সামাজিক নর্দমার মধ্যে ঠেলে দিতে এক মুহূর্ত দ্বিধা করলেন না।
তারা বুঝলেন না যে, ‘আগস্ট আবছায়া’ (বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ওপরে চার বছরের গবেষণার শেষে বাংলায় লেখা অন্যতম সেরা উপন্যাসটা আমার লেখা), ‘আলথুসার‘ বা ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ নামের উপন্যাসের লেখক মাসরুর আরেফিন, বা বাংলায় ‘ফ্রানৎস কাফকা গল্পসমগ্র’ কিম্বা ‘হোমারের ইলিয়াড’-এর এই অনুবাদকের সিম্পলি সিম্পলি সিম্পলি এক পয়সা দুর্নীতির টাকাও থাকতে পারে না, যা দিয়ে (ব্যাংক লোন না নিয়ে) তিনি নিজের জন্য একটা সাধারণ বা বিলাসী গাড়ি কিনতে পারেন। অন্যের জন্য কেনার কথা বাদই দিন।
এবার লেখকসত্তার জায়গা থেকে একটা কথা বলি। আইনি বিষয় ও সামাজিক বোঝাপড়ার বিষয়গুলো বেশ তো গুলিয়ে যাচ্ছে! আমার কাউকে কোনো গাড়ি দেওয়ার সামর্থ্য নেই। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, আমার কাউকে ধরুন ভালো লাগল (যার সম্ভাবনা বাস্তবে কম, কারণ আমার দুই মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে এক সুন্দর সংসার আছে), তখন তাকে যদি আমি আমার সামর্থ্যের মধ্যে দুই বক্স চকলেটও কিনে দিই, সেটা নিয়ে আইন ছাপিয়ে, সংবিধানের মৌলিক অধিকার ছাপিয়ে ‘সমাজের বিচার’ নামের যে-এক ড্রাগন আছে, সে এই সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে হাউ হাউ করে উঠবে।
ব্যক্তি স্বাধীনতার সঙ্গে নৈতিকতার প্রশ্নকে টেনে টেনে এনে আইনের আরও ঊর্ধ্বেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দৈনন্দিনের বাছ-বিচারগুলোকে। এরকম সমাজে অনেকের লাভ, কারণ আমরা সাধারণ মানুষেরা তখন ইতিহাসের ল্যাবরেটরিতে কাঁউ-কাঁউ করে বেড়ানো ইঁদুর হয়ে থেকে যাই। আমাদেরকে সেই ইঁদুর হওয়ার বিরুদ্ধে লড়তে হবে। ব্যক্তি স্বাধীনতা প্রতি মুহূর্তের একটা ‘অনগোয়িং ওয়ার্ক’। এই রাষ্ট্র আমাদের স্বাধীনতাগুলো—স্বাধীনতার যে কাজটুকু অন্যের জন্য ক্ষতিকর না—এভাবে কেড়ে না নিক। বাস্তবেই অনেক ক্ষতিকর কিছু ঘটছে অনেক দিকে, অনেক অবিচার ও আর্তনাদের ময়লা উড়ছে অনেক অনেক কোনায়। সেদিকে চোখ থাকুক আমাদের।
শেষ কথা একটাই, আমি আমার মানব জীবনে এই নায়িকা বা মডেলদেরকে দেখিনি। তাদের সঙ্গে না-দেখা জগতের ফোনের যে-হ্যালো, সেটাও কোনোদিন বলিনি। তারা কারা তাও আমি জানতাম না ‘বোট ক্লাব’ কাণ্ডের আগে। সবচাইতে বড় কথা তাদের নামটাও আমি শুনিনি।
এখন তাহলে এক ব্যক্তির ওপরে, এক সাধারণ মানুষের ওপরে, এক লেখক ও কবির ওপরে, এক ‘কেউ-না এমন এক মানুষের ওপরে’ অবিচারের মাত্রাটা বুঝুন। বাকি বিচার এই সমাজের, সমাজই যেহেতু আছে বিচারকের ভূমিকায়।”
উল্লেখ্য, মাদকসহ গ্রেফতার হওয়ার পর চিত্রনায়িকা পরীমণির বিষয়ে একে একে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য বের হয়ে আসছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে। সিনেমায় অভিনয়ের আড়ালে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হওয়া, মাদক গ্রহণসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
এসব তথ্যের মধ্যে পরীমণির ব্যবহৃত ফিয়াট অটোমোবাইলসের ‘মাসেরাতি’ ব্র্যান্ডের গাড়িটি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। সাড়ে তিন কোটি টাকার গাড়িটি পরীমণিকে কে উপহার দিয়েছেন, সে বিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করছে গোয়েন্দারা।
