গণপরিবহন নিয়ে আরেক প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত

নজর২৪ ডেস্ক- আগামী বুধবার থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব ধরনের গণপরিবহন চলবে। এ ছাড়াও খোলা থাকবে সব ধরনের অফিস, মার্কেট, শপিংমল, রেস্তোরা ও শিল্প-কারখানাও। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

 

তবে বিধিনিষেধ তুলে নিয়ে গণপরিবহন চলার বিষয়ে যে আদেশ দেয়া হয়েছে, সেটি আবার নতুন বিতর্ক তুলতে পারে।

 

এর আগে লকডাউন ও শাটডাউন সীমিত করার পর গণপরিবহন তার আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। আর ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল ৬০ শতাংশ। কিন্তু এবার বলা হচ্ছে, যাত্রী থাকবে সব আসনেই, কিন্তু গাড়ি চলবে অর্ধেক।

 

কিন্তু এতে সড়কে গাড়ি কমে যাবে, আর তখন যাত্রী বেশি থাকলে সড়কে তৈরি হবে ভিড়, গাড়িতে গাদাগাদি করে চলতে হতে পারে। একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত তাই অগ্রহণযোগ্য।

 

অর্ধেক গাড়ি সড়কে কীভাবে নামবে, তার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে এটা ঠিক করবে স্থানীয় প্রশাসন।

 

পরিবহন মালিক সমিতির নেতা খন্দকার এনায়েতউল্লাহ এই সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলেছেন। বলেছেন, এটা বাস্তবায়ন করা খুবই কঠিন হবে। আবার সড়কে গাড়ি কমিয়ে দিলে তাতে চলাচলের ভোগান্তি বাড়ার পাশাপাশি গাড়িতে ভিড়ও বাড়বে। এতে স্বাস্থ্যবিধি পালন হুমকিতে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

এর আগে যেখানে এর আগে অর্ধেক যাত্রীর বিধানটিই কার্যকর করা যায়নি, উল্টো যাত্রীদের পকেট কেটে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়েছে, সেখানে কোন গাড়ি চলবে, কোন গাড়ি চলবে না, সেটি আদৌ নির্ধারণ করা সম্ভব কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন আছে।

 

কারণ, কোনো কোম্পানির ২০টি গাড়ি থাকলে তার মধ্যে ১০টিই যে সড়কে চলছে, সেটা বোঝার কোনো উপায় নেই।

 

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদেরকে কিছু জানানো হয়নি। যেটা শুনলাম তাতে এটা অযৌক্তিক মনে হয়েছে। বাস্তবায়ন করা কষ্টকর হবে।’

 

আবার সরকার যেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচলের কথা বলছে, সেখানে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে ভিড় বাড়িয়ে দিলে সেটা পালন সম্ভব কি না, তা নিয়েও আছে প্রশ্ন। বরং গাড়ির জন্য সড়কে মানুষের ভিড় বাড়লে যাত্রী আসনের চেয়ে বেশি উঠবে, এটা নিশ্চিত। তখন ঝুঁকি বাড়বে।

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ লেনিন চৌধুরী বলেন, ‘যে সিদ্ধান্তে মানুষের গাদাগাদি ও ভিড় তৈরি হবে, সে সিদ্ধান্ত অবশ্যই গ্রহণযোগ্য নয়। সেটি ক্ষতিকর। ঢাকা শহরে সব অফিস খুলে দেয়া হলে অফিসমুখি মানুষের চাপ বাড়বে। অর্ধেক বাস চললে স্বাস্থ্যবিধিতে উদাসীনতার সঙ্গে সঙ্গে ভোগান্তিও বাড়াবে।’

 

এর আগে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় চলমান কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

 

রোববার (৮ আগস্ট) বিকেলে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, সড়ক, রেল ও নৌপথে আসন সংখ্যার সমপরিমাণ যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চলাচল করতে পারবে। সড়ক পথে গণপরিবহন চলাচলের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন (সিটি করপোরেশন এলাকায় বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক) আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সংস্থা মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিদিন মোট পরিবহন সংখ্যার অর্ধেক চালু রাখতে পারবে।

 

এ ছাড়াও সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা থাকবে। শপিংমল, মার্কেট, দোকানপাট সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা রাখা যাবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

 

সব ধরনের শিল্প-কারখানা চালু থাকবে। পাশাপাশি, খাবারের দোকান, হোটেল, রেস্তোরায় অর্ধেক আসন খালি রেখে সকাল ৮টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সব ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। গণপরিবহন, মার্কেট, বিভিন্ন দপ্তর ও যেকোনো প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনত ব্যবস্থা নেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *