নজর২৪ ডেস্ক- আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটি থেকে সদ্য পদ হারানো হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় র্যাবের অভিযানে পাওয়া মদ অবৈধভাবে রাখা হয়নি বলে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন তার মেয়ে জেসি আলম।
তার দাবি অহেতুক তার মাকে হয়রানি করা হচ্ছে। তার বাসা থেকে জব্দ হওয়া হরিণের চামড়াটি উপহার হিসেবে পাওয়া। বিদেশি মুদ্রাগুলোও অবৈধ নয়।
বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) দিবাগত রাতে গুলশান-২ এর ৩৬ নম্বর রোডের ৫ নম্বর বাসা থেকে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আটকের পর এ দাবি করেন তার মেয়ে।
এর আগে, অভিযানে হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসা থেকে আমরা বিদেশি মদ, অবৈধ ওয়াকিটকি সেট, ক্যাসিনো সরঞ্জাম, বিদেশি মুদ্রা, চাকু ও হরিণের চামড়া জব্দ করে র্যাব।
বিদেশি মদ প্রসঙ্গে জেসি আলম বলেন, আমরা মদ খাই না। করোনাকালে আমরা অ্যালকোহল খাইনি। মদের কালেকশন আমার ভাইয়ের। এগুলো রাখার লাইসেন্সও তার ছিল। সেই লাইসেন্সও তারা (র্যাব) নিয়ে গেছে।
হরিণের চামড়া প্রসঙ্গে জেসি আলম বলেন, এটা মায়ের লীগের বন্ধুরা উপহার দিয়েছে। আমার ভাইয়ার বিয়ে ছিল, সেখানে এই উপহার দিয়েছে তারা।
জব্দকৃত বিদেশি মুদ্রা সম্পর্কে জেসি আলমের কথা, আমারা ফ্রিকোয়েন্টলি দেশের বাইরে যাই। একটা দেশে না, আমরা অনেকগুলো দেশে যাই। আমাদের সবার পাসপোর্টও আছে। তো ফেরত আসার পার টাকা বেঁচে গেলে সেগুলো কী আমরা ফেলে দেবো নাকি?
তিনি আরও বলেন, একটা ক্যাসিনো করতে অনেক সরঞ্জাম লাগে যা আমাদের এখানে ছিল না। আমাদের এখানে তাস ছিল যা আমরা ফ্রেন্ডদের সাথে খেলতাম।
জেসি জানান, কয়েক মাস আগে আমার মায়ের অপারেশন হয়েছে। ঘুমানোর জন্য তাকে নিয়মিত ঔষধ নিতে হয়। এমন অবস্থায় যদি এসব কাহিনী করা হয় তাহলে একজন মানুষের মন-মানসিকতা ঠিক থাকবে না।
তার দাবি, র্যাবের অভিযান পরিচালনার জন্য কোনো ওয়ারেন্ট ছিল না। তারা আমাদের সাথে সহযোগিতা করতে পারতো। তা না করে তারা উল্টো আমাদেরকে দমিয়ে রেখেছে।
এছাড়াও, অভিযান চলাকালে র্যাবের এক কর্মকর্তা তাদের সাথে বাজে আচরণ করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে সেই র্যাব কর্মকর্তার পরিচয় সম্পর্কে কিছু বলতে পারেননি তিনি।
মাঝরাতে অভিযান শেষে এখন হেলেনা জাহাঙ্গীরকে র্যাবের জিম্মায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাকে আটকের পর র্যাবের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তেমন কিছুই জানানো হয়নি। পরবর্তীতে এ বিষয়ে ব্রিফ করা হবে বলে জানান উপস্থিত কর্মকর্তারা।
এর আগে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮ টার পর হেলেনা জাহাঙ্গীরের গুলশান-২ এর এর ৩৬ নম্বরের রোডের ৫ নম্বর বাসায় অভিযান শুরু করে র্যাব-১ এর একটি দল। এসময়, তাদের সঙ্গে ছিল গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।
