জেলখানায় বসেই রফিকুলের জুম মিটিং: তদন্তে নামছে কারা অধিদফতর

নজর২৪ ডেস্ক- জেলখানায় বসেই ব্যবসা পরিচালনা থেকে ব্যবসায়িক মিটিং— সবই করে যাচ্ছেন ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।

 

এমএলএম কোম্পানির মাধ্যমে প্রতারণা করে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন মামলায় তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে কারাবন্দি। সেখানে বসেই তিনি ভোগ করছেন বিশেষ সুবিধা। শুধু তাই নয়, জেলখানায় বসে নেপথ্যে থেকে খুলেছেন নতুন মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানিও।

 

বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে নড়েচড়ে বসেছে কারা অধিদফতর। আগামী দু-একদিনের মধ্যে এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

 

গত দুই মাস ধরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন আছেন ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমিন। হাসপাতালে থাকার কারণ হিসেবে ‘ডায়াবেটিসের সমস্যা’ উল্লেখ করেছেন তিনি। হাসপাতালে ভর্তি থাকা বন্দি রোগীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব রয়েছে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ এবং শাহবাগ থানা পুলিশের ওপর।

 

রফিকুল আমিনের বিষয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষ বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) বলেন, আমরা বিষয়টি নিউজে পড়েছি, তদন্ত করছি। রফিকুল আমিন যদি এটা করে থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কারাবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্যবস্থা নেব। আর কোনো কারারক্ষীর যদি দায়িত্বে অবহেলা থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

জেল সুপার বলেন, রফিকুল আমিন হাসপাতালের প্রিজন সেলে রয়েছেন। এটা শুধু কারাগারের বিষয় নয়। এখানে শাহবাগ থানা পুলিশ এবং বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তদন্ত হচ্ছে।

 

এ বিষয়ে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিনুর রহমান মামুন সাংবাদিকদের বলেন, তার (রফিকুল আমিন) মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের পর বলতে পারব, তিনি কখন কথা বলেছেন বা আদৌ বলেছেন কি না।

 

তিনি বলেন, এ মুহূর্তে আমরা কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। শিগগিরই একটি তদন্ত কমিটি করব। কমিটির তদন্তে সব বিষয় উঠে আসবে।

 

এর আগে বুধবার রাতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমিন কারাবন্দি হওয়া সত্ত্বেও ভিডিও অ্যাপ ‘জুম’ ব্যবহার করে সহযোগীদের সঙ্গে মিটিং করেছেন।

 

প্রতিবেদনে উঠে আসে, রফিকুল আমিন কেবল কাগজে-কলমে কিংবা চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে ‘অসুস্থ’। হাসপাতালে থেকে দিব্যি ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছেন তিনি। মোবাইল-ইন্টারনেট ব্যবহার করে জুম অ্যাপে নিয়মিত মিটিংও করছেন।

 

ভিডিওতে দেখা গেছে রফিকুল আমিন ডেসটিনির মতোই নতুন আরেকটি এমএলএম ব্যবসার বিষয়ে আলোচনা করছেন। ইতোমধ্যে সেই ব্যবসা শুরুও করেছেন তিনি। ব্যবসার জন্য শিগগিরই এক হাজার ৩০০ মার্কেটিং এজেন্ট নিয়োগের কথা বলেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *