আগে পণ্য, পরে টাকায় আপত্তি নেই ইভ্যালির

নজর২৪ ডেস্ক- ই-কমার্স ইস্যুতে সদ্য গৃহীত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে ই-কমার্স মার্কেট-প্লেস ইভ্যালি। গ্রাহক পণ্যের সরবরাহ বুঝে পাওয়ার পরই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো সেই পণ্যের মূল্য পাবে এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেল।

 

বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয় তার সিদ্ধান্ত জানানোর পরপর এক বিজ্ঞপ্তিতে মোহাম্মদ রাসেল এ কথা জানান।

 

বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে বেশ কিছু এমন ই-কমার্স সাইট তৈরি হয়েছে, যেগুলো গ্রাহকদের অবিশ্বাস্য ছাড় দিয়ে পণ্য বিক্রি করছে। তবে কোম্পানিগুলোকে আগে টাকা পরিশোধ করতে হয় এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর পণ্য সরবরাহ করে।

 

তবে টাকা নিয়েও পণ্য সরবরাহে বারবার সময়ক্ষেপণের অভিযোগ আছে। আবার তাদের ব্যবসার কৌশলটিও স্পষ্ট নয়। এ কারণে নানা সন্দেহ-সংশয় আছে জনগণের মধ্যে।

 

এর মধ্যেই কমার্স সাইট ইভ্যালিকে নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি একটি তদন্ত চালিয়েছে; যাতে বলা হয়েছে, কোম্পানিটি এক টাকা আয় করতে সাড়ে তিন টাকার বেশি ব্যয় করে। আবার তাদের সম্পদের তুলনায় দেনা ছয় গুণ। ফলে তারা এই টাকা আদৌ পরিশোধ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।

 

এর মধ্যে তিনটি ব্যাংক তার গ্রাহকেদর জানিয়ে দিয়েছে কার্ড দিয়ে ১০টি ই-কমার্স সাইটে টাকা পরিশোধ করতে পারবে না। আরও দুটি ব্যাংক তাদের গ্রাহকদের সতর্ক করেছে।

 

এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ই-কমার্স ব্যবসা নিয়ে একটি বৈঠক হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, কোনো প্রতিষ্ঠান পণ্য পৌঁছে দেয়ার আগে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা পাবে না।

 

ক্রেতার অর্ডার করা পণ্য হাতে না পাওয়া পর্যন্ত ওই পণ্যের পেমেন্ট সংশ্লিষ্ট বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে জমা হবে না। এ জন্য পণ্য অর্ডারের বিপরীতে পরিশোধিত টাকা বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং সরকার কর্তৃক অনুমোদিত মিডলম্যান প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকা জমা থাকবে।

 

অর্ডার করা পণ্য ক্রেতা হাতে পাওয়ার পর ডেলিভারিম্যানের কাছে দেয়া স্বাক্ষরযুক্ত রিসিভ কপি জমা দিলেই পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে টাকা ছাড় হবে। এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের গেটওয়ে সিস্টেম ব্যবহারের মাধ্যমে করা হবে।

 

এ বিষয়টি নিয়ে ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘গণমাধ্যমের সূত্রে বিষয়টি আমরা জেনেছি। বিষয়টিকে আমরা স্বাগত জানাই। এ ছাড়া শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে একটি পরিচালন নির্দেশিকা করা হবে, যাতে পণ্য ডেলিভারির আগে পেমেন্ট নেয়া না হয়। ব্যাংক বা ক্রেডিট কার্ড যাদের আছে, তারা পেমেন্ট নিয়ন্ত্রণ করবেন।’

 

ই-কমার্স নিয়ে নীতিমালা জরুরি বলে মনে করেন রাসেল নিজেও। বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ই-কমার্স নীতিমালা নেই। ইভ্যালি নিজেও দীর্ঘদিন এই নীতিমালার কথা বলে আসছে।’

 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তকে সেই নীতিমালা প্রণয়নের প্রথম ধাপ বলেই বিশ্বাস করেন ইভ্যালি-প্রধান। বলেন, এর ফলে গ্রাহক, বিক্রেতা, ই-কমার্সসহ পুরো ইকো সিস্টেমই উপকৃত হবে।

 

মূল্য ছাড় কি ঝুঁকিপূর্ণ?
তবে ইভ্যালির মোহাম্মদ রাসেল বলেছেন, বিভিন্ন যেসব অফার এখন রয়েছে, সেগুলো তাদের ব্যবসার কৌশল হিসাবে সাময়িক সময়ের জন্য।

 

“ই-কমার্সের প্রতি আকর্ষণ তৈরি করার জন্য প্রোডাক্টের ব্যাপারে এ ধরনের অফার দেয়া হয়েছে। লোভতো ফাইন্যান্সিয়াল। আমি নিজেওতো বড় বড় ব্র্যাণ্ডগুলোর কাছে কাছে ডিসকাউন্ট দেখি।

 

”গ্লোবালি ব্য্যাণ্ডগুলোও ডিসকাউন্ট দেয়। আমাদের ব্র্যান্ডকে ঐভাবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছি” বলেন মোহাম্মদ রাসেল।

 

কিন্তু ইভ্যালিসহ বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বড় একটা অভিযোগ হচ্ছে ফ্রিজ এবং টেলিভিশনের মতো পণ্য বাজার দরের অর্ধেক দামে দেয়ার কথা বলে তিন মাস আগে টাকা নেয়া হচ্ছে।

 

একটি টেলিভিশনের বাজার দর যদি ৫০,০০০ টাকা হয়, সেই টেলিভিশন ২৫,০০০ টাকায় দেয়া কীভাবে সম্ভব হচ্ছে-এটা আরও ঝুঁকি তৈরি করছে কীনা?

 

এই প্রশ্ন করা হলে ইভ্যালির মোহাম্মদ রাসেল পাল্টা প্রশ্ন করেন যে, “৫০ হাজারেরটা ২৫ হাজারে দিলে ঝুঁকি হচ্ছে – আর ৫০ হাজারেরটা ৫০ হাজারে দিলে কী ঝুঁকি হবে না?”

 

“আমরা কিন্তু একবারও বলছি না যে, আশি হাজার টাকার প্রোডাক্টটা সারাজীবন পঞ্চাশ হাজার টাকায় দিতে থাকবো। আমরা বলছি, আমরা কিন্তু ওভার দ্য টাইম।

 

”আমাদের ইভ্যালির শুরুতে কিন্তু ডিসকাউন্টের পরিমাণ অনেক বেশি ছিল। এখন কিন্তু অনেক কমে আসছে,” বলেন মোহাম্মদ রাসেল।

 

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসার ব্যাপারে এখনও কোন নীতিমালা নেই।

 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, এখন দ্রুত একটি নীতিমালা তৈরি করা এবং তার আগে কিছু নির্দেশনা ঠিক করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *