পঞ্চম শ্রেণি পাস এই নদীই এখন শীর্ষ নারী পাচারকারী

নজর২৪ ডেস্ক- টিকটকে পাচার হওয়া নদী এখন শীর্ষ পাচারকারী। পাচার হওয়া এ নারীই এক সময় হয়ে ওঠে আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের বাংলাদেশ অঞ্চলের সমন্বয়ক। ভারত, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই পর্যন্ত তার জাল বিস্তৃত। পাচার করার পর মেয়েদের তদারকি করতে প্রায়ই বিদেশ ভ্রমণ করে নদী।

 

পঞ্চম শ্রেণি পাস হলেও বিভিন্ন ভাষায় পারদর্শী এ নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে ভারতে গ্রেফতার টিকটক হৃদয়, বাবুসহ মানবপাচার চক্রের সদস্যদের। এক ডজন নামধারী এ নারীকে গতকাল গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

জানা গেছে, মানব পাচার পরিচয় লুকাতে নিজেকে নৃত্যশিল্পী হিসেবে তুলে ধরে নদী। দেশ-বিদেশে তথাকথিত নৃত্য পরিবেশন করে নদী। ভিডিও ফ্ল্যাটফরম টিকটকেও রয়েছে নদীর সরব উপস্থিতি। ২০১৫ সালে পাচার হয়ে মালয়েশিয়া যায় নদী। চড়াই-উতরাইয়ের একপর্যায়ে আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের সঙ্গে হাত মেলায় নদী।

 

২৮ বছর বয়েসী নদীর জালে আটকা পড়ে ভারত, মালয়েশিয়া, দুবাইয়ে পাচার হয়েছে বহু শহুরে দরিদ্র কিশোরী ও তরুণী। এরপর তাদের যৌনকর্মে বাধ্য করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে পাচারকারীরা। পাচার হওয়া মেয়েদের দেখভাল করতে প্রায়ই বিদেশ যেত নদী। বিভিন্ন ভাষায় দ্রুতই পারদর্শী হয়ে ওঠে নদী। ফলে পাচার চক্রে নদীর অবস্থান দ্রুতই শক্তিশালী হয়ে ওঠে। দায়িত্ব পান আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের বাংলাদেশের সমন্বয়কের।

 

সোমবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় নড়াইল ও যশোর সীমান্ত এলাকা থেকে আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্রের বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়ক নদীসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগ।

 

ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ‘হাতিরঝিল থানার একটি টিম বিকেলে নড়াইল ও যশোর জেলার সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করেছে। তাদেরকে ঢাকায় আনা হচ্ছে। ভারত থেকে পালিয়ে আসা ভুক্তভোগী তরুণীর দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হবে।’

 

ভারতে পাচার হওয়ার পর দেশে পালিয়ে এসে গত ১৯ জুন নদীসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় মামলা করেন এক তরুণী। ওই তরুণী জানান, তিনি পাচার হওয়ার আগে তার বড় বোনও নদীর মাধ্যমে পাচার হয়েছিলেন। পরে বোন অসুস্থ বলে তাকে ও তার ছোট খালাকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

ওই তরুণী ফিরে আসলেও তার বড় বোন ও খালা কোথায় আছে তা জানেন না তিনি।

 

সম্প্রতি ভারতে নারী পাচারের বিষয়টি সামনে আসে সে দেশে বাংলাদেশি তরুণীকে নি/র্যা/তনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর। তখনই জানা যায়, টিকটক ভিডিও করে পরিচয়ের সূত্র ধরে ভারতে নারী পাচারের একটি চক্র গড়ে উঠেছে।

 

দুই দেশেই ব্যাপক আলোচিত ওই ঘটনায় ‘টিকটক হৃদয়’ নামে পরিচয় পাওয়া রিফাদুল ইসলাম হৃদয় বাবুসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ভারতে। একই ঘটনায় বাংলাদেশেও মামলা হয়েছে।

 

ভারত থেকে পালিয়ে আসা দুই তরুণীও মামলা করেছেন। হাতিরঝিল থানার এই তিন মামলায় বাংলাদেশে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১২ জনকে।

 

মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে সর্বশেষ শনিবার রাতে আরও দুটি মামলা হয়েছে। মামলা দুটি করেছেন ভারত থেকে পালিয়ে আসা আরও দুই তরুণী। সব কটি মামলায় টিকটক হৃদয়সহ তার চক্রের সদস্যদের আসামি করা হয়েছে। একটি মামলায় নদীসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *