মুখ খুলছেন না আবু ত্ব-হা, পরিবার বলছে ‘অসুস্থ’

নজর২৪, রংপুর- নিখোঁজের আট দিন পরে অবশেষে বাড়ি ফিরলেও গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি ইসলামিক বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান। পরিবারের পক্ষ থেকে শনিবার জানানো হয়েছে, তিনি অসুস্থ। তাই গণমাধ্যমের সামনে আসছেন না।

 

রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোডের আহলে হাদিস মসজিদসংলগ্ন মামার বাড়িতে শনিবার সকালে ত্ব-হার মা আজেদা বেগম ও মামা আমিনুল ইসলাম সঙ্গে কথা বলেন।

 

আজেদা বেগম বলেন, ‘ও (ত্ব-হা) অসুস্থ, রাতে জ্বর এসেছে। সর্দিও আছে। এখন সে কারও সঙ্গে কথা বলবে না। সুস্থ হলে আমরা সবাইকে ডেকে কথা বলব।’

 

কী হয়েছিল ত্ব-হার, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কিছু জানি না। ও ভালো বলতে পারবে, সুস্থ হয়ে উঠুক। আমি এখন ছেলে পেয়েছি এটাই বড় কথা।’

 

ত্ব-হার মামা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিষয়টি অবগত না। মিসিং ছিল, আমরা জিডি করেছি, উদ্ধার হয়েছে। আসলে কী ঘটেছে, সে নিজেই বলতে পারবে। এখন তো সে অসুস্থ, পাঁচ থেকে সাত দিন লাগবে সুস্থ হতে। এরপর আমরা সব মিডিয়াকে ডাকব। তখন সে তার কথা বলবে। কী হয়েছে কী হয়নি সেটা বলবে ত্ব-হা। একটু সময় দিতে হবে… ও সুস্থ হয়ে উঠুক।’

 

উল্লেখ্য, রংপুরে ওয়াজ মাহফিল শেষে ঢাকার বাসায় ফেরার পথে আবু ত্ব-হাসহ চারজন নিখোঁজ হন বলে অভিযোগ ওঠে। আবু ত্ব-হার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ঢাকার গাবতলী থেকে তারা নিখোঁজ হন। এ সময় ত্ব-হার সঙ্গে ছিলেন আরও তিনজন। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

 

১০ জুন থেকে নিখোঁজ আবু ত্ব-হা শুক্রবার জুমার নামাজের পর রংপুর নগরির চারতলা এলাকায় তার প্রথমপক্ষের শ্বশুর বাড়িতে ফিরে আসেন বলে জানান ত্ব-হার স্বজনেরা। খবর পেয়ে বেলা ৩ টার দিকে পু্লিশ ওই বাড়ি থেকে আদনানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়।

 

পরে তাকে মহানগর পুলিশের ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়। সেখান থেকে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ত্ব-হা ও তার দুই সঙ্গীকে আদালতে নেয়া হয়। মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক কেএম হাফিজুর রহমানের আদালতে জবানবন্দি দেন তারা।

 

জবানবন্দি শেষে আইনজীবী সোলায়মান আহমেদ সিদ্দিকী বাবুর জিম্মায় রাত ১১টার দিকে তারা বাড়ি ফেরেন।

 

তবে বাড়ি ফেরার সময়েও নীরব ছিলেন আলোচিত আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান। মুখ খুলেননি তার সঙ্গী আব্দুল মুকিত ও গাড়িচালক আমির উদ্দিন ফয়েজ। এ সময় তারা সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *