মুখ খুলছে না কেউ, গণমাধ্যমকে এড়িয়ে যাচ্ছেন আবু ত্ব-হার স্ত্রীও

নজর২৪ ডেস্ক- আলোচিত ইসলামি বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান নিখোঁজের আটদিন পর ফিরে এসেছেন। রংপুরে তার শ্বশুর বাড়িতে তাকে সকালে দেখা গেলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তার খোঁজ পান বিকেলে। এরপর তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে রংপুর ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

 

ত্ব-হা’র নিখোঁজের পর স্ত্রী সাবেকুন নাহার তার সন্ধান চেয়ে সংবাদ সন্মেলন করলেও তার ফিরে আসার পর কোন গণমাধ্যমে সে খবর জানাননি। ত্ব-হা’র ফিরে আসার খবর নিশ্চিত হওয়ার জন্য সাবেকুন নাহারের সাথে কথা বলতে বার বার ফোন করলেও রিসিভ করেননি। বরং কিছুক্ষণ পর তার মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখেন।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিখোঁজ আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনানের সন্ধান ও অবস্থান আরো আগেই জানতে পারেন তাদের পরিবার। কিন্তু কোন এক অজানা কারণে তারা সেটা গোপন রাখতে চেয়েছেন। ত্ব-হার পরিবারের এমন আচরণে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

 

প্রশ্ন উঠছে ত্ব-হা কী আত্মগোপনে ছিলেন? তার পরিবারের সদস্যরা কি চান না তিনি কোথায় ছিলো এটা সাধারণ মানুষ জানুক? কিংবা তার নিখোঁজের বিষয়টি কী পারিবারিক কোন ঝামেলার কারণে! –এমন অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ মানুষের মনে।

 

এদিকে পুলিশ বলছে, ত্ব-হা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পারিবারিক ঝামেলার কারণে আত্মগোপনে ছিলেন -বলে তা স্বীকার করেছেন।

 

ত্ব-হা’র সন্ধান পাওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যদের আচরণেও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিগত ১০ বারোদিন যারা ত্ব-হাকে খুঁজে পেতে মিডিয়া ও পুলিশের কাছে হন্যে হয়ে ঘুরেছেন। তারাই ত্ব-হা’র সন্ধান পাওয়ার পর গণমাধ্যমকে এড়িয়ে যাচ্ছেন।

 

তার পরিবারের একাধিক জনের সাথে যোগাযোগ করলে ত্ব-হা’র বিষয়টি তারা এড়িয়ে যান।

 

তবে ত্ব-হার সন্ধান যে আগেই তার পরিবার পেয়েছেন সেটা গণমাধ্যম নিশ্চিত হয়েছে তাদের আইনি সহায়তা দেওয়া ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেনের সাথে কথা বলে। শুক্রবার এক অনলাইন নিউজ পোর্টালকে এই আইনজীবী জানিয়েছেন, নিখোঁজ ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনানের সন্ধান আগেই পাওয়া গেছে। তবে তার পরিবার নিরাপত্তার স্বার্থে সেটা গোপন করেছে।

 

জানা গেছে, ত্ব-হা’র স্ত্রী যেদিন সংবাদ সম্মেলন করেন সেদিনেই ত্ব-হা’র সন্ধান পান তার পরিবার। পুলিশি ঝামেলা হবে বলে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

 

দুপুর দুইটা ৩৭ মিনিটে যখন ত্ব-হার ফিরে আসার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসতে শুরু করেছে তখন এই আইনজীবী জানান, এখন আপনাদের এতটুকু বলতে পারি, আমরা আগামীকাল তার সাক্ষাৎ পাবো বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি। তার স্ত্রী ও পরিবারের কেউ এই মুহূর্তে কথা বলবে না। এতে তারা নিরাপত্তাহীনতার আশংকা করছে।

 

ত্ব-হা ফিরে আসার বিষয়টি তার পরিবার গোপন করেছে কী না? এমন প্রশ্নের জবাবে রংপুর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, আমরা সেরকমটাই আন্দাজ করছি। তবে এখনি পরিষ্কারভাবে কিছু বলতে পারছি না। আমরা ত্ব-হা, মুহিত ও আমিরকে হেফাজতে নিয়েছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

 

এদিকে আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপনে ছিলেন বলে শুক্রবার (১৮ জুন) বিকেলে ডিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন রংপুর মহানগর উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন।

 

আবু মারুফ হোসেন জানান, গত ১০ জুন বৃহস্পতিবার রংপুুুর থেকে প্রাইভেটকার ভাড়া করে ঢাকার পথে রওনা হন আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানসহ আব্দুল মুহিত, ফিরোজ আলম ও গাড়িচালক আমির উদ্দিন। পরে তারা ঢাকার গাবতলীতে পৌঁছালে ত্ব-হার ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে সেখান থেকে গাইবান্ধার ত্রিমোহনীতে চলে যান। সেখানে তার পূর্ব পরিচিত বন্ধু সিয়ামের বাড়িতে অবস্থান করেন। এ সময় ত্ব-হার সঙ্গে আব্দুল মুহিত, ফিরোজ আলম ও গাড়িচালক আমির উদ্দিনও ছিলেন।

 

তিনি আরও বলেন, ওই বাড়িতে অবস্থানকালে ত্ব-হার ইচ্ছাতেই সবাই তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ রাখেন। কিছুদিন এভাবে আত্নগোপনে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। মূলত পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন সমস্যার কারণে ত্ব-হা আত্মগোপনে থাকতে চান বলে সঙ্গীদের জানান এবং মোবাইল ফোন বন্ধ রাখতে বলেন। তার কথায় রাজি হয়ে বাকিরাও স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন।

 

তবে তারা স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে থাকার দাবি করলেও এই ঘটনা রাষ্ট্র বা সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতে ফেলার কোনো ষড়যন্ত্র কি-না তা খতিয়ে দেখবে পুলিশ।

 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আবু ত্ব-হা ও আমির উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তারা প্রাথমিকভাবে আত্মগোপনে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা এখন পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। বাকি দুজনের মধ্যে আব্দুল মুহিতকে মিঠাপুকুরের জায়গীরহাট থেকে এবং ফিরোজ আলমকে বগুড়ার শিবগঞ্জ থেকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

 

ত্ব-হার উদ্ধৃতি দিয়ে উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, ত্ব-হা আমাদেরকে তার ব্যক্তিগত কিছু সমস্যার কথা জানিয়েছেন। আমরা তার কথাগুলো যাচাই-বাছাই করছি। আমরা তাকে রংপুর কোতয়ালী থানায় সোপর্দ করব। এই মুহূর্তে তার ব্যক্তিগত বিষয়গুলো মুখে আনতে চাই না। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *