পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টাকারী কে সেই নাসির?

বিনোদন ডেস্ক- অবশেষে মুখ খুললেন পরীমণি। ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার দুই ঘণ্টার মাথায় জানালেন তাকে হত্যা ও ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম। জানান, তার ওপর সেদিন রাতে নারকীয় অত্যাচার চালিয়েছেন নাসির ইউ মাহমুদ নামের এক ব্যক্তি।

 

পরী আরও জানান, এ ঘটনাটি ঘটে চার দিন আগে ঢাকার বোট ক্লাবে। এই ক্লাবের একজন পরিচালক নাসির ইউ মাহমুদ। তিনি উত্তরা ক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্টও ছিলেন। পরীর ভাষ্যে বেশ ক’বার ‘উত্তরা বোট ক্লাব’ শব্দটি আসে। যদিও এই নামে ঢাকায় কোনও ক্লাব নেই। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি উত্তরা ক্লাব ও ঢাকা বোট ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

 

নিজ বাসায় বসে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন পরী। বলেন, একটি সিনেমার মিটিংয়ের কথা বলে সেদিন রাতে বোট ক্লাবে তাকে নিয়ে যায় অমি নামে তার এক পরিচিতজন।

 

পরী বলেন, ‘বেশ ক’দিন ধরেই এই বৈঠকের কথা চলছিল। কিন্তু আমি আগ্রহ পাচ্ছিলাম না। পরে অমির অনুরোধে সেদিন রাতে আমি বৈঠকে যাই। যাওয়ার পর যা ঘটেছে সেটা আর বলে বোঝাতে পারবো না।’

 

পরী জানান, সেদিন রাতে তাকে পানীয়র সঙ্গে কিছু একটা খাওয়ানো হয়েছিল। কারণ, সারাক্ষণ তিনি প্রচণ্ড অস্থির আর অস্বস্তি ফিল করছিলেন। এরমধ্যে তাকে করতে হয়েছে বাঁচার যুদ্ধ। সেখান থেকে সেদিন রাতে বেরিয়েই পরী যান বনানী থানায়।

 

পরী জানান, থানায় তার অভিযোগ শুনলেও সাধারণ ডায়েরি করেননি কর্তব্যরত অফিসার।

 

তিনি আরও বলেন, আমি সুইসাইড করার মতো মেয়ে নই। কিন্তু কোনো কারণে আমি যদি মারা যাই, ধরে নেবেন আমাকে মারা হয়েছে।

 

এর আগে রাত ৮টার দিকে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে তিনি স্ট্যাটাস দিয়ে জানান, তাকে হত্যা ও ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমি পরীমণি। এ দেশের একজন বাধ্যগত নাগরিক। আমার পেশা চলচ্চিত্র। আমি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমাকে রেপ এবং হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’

 

‘এই বিচার কই চাইবো আমি? কোথায় চাইবো? কে করবে সঠিক বিচার? আমি খুঁজে পাইনি চার দিন ধরে। থানা থেকে শুরু করে আমাদের চলচ্চিত্র বন্ধু বেনজীর আহমেদ আইজিপি স্যার! আমি কাউকে পাই না মা। যাদের পেয়েছি সবাই শুধু ঘটনার বিস্তারিত জেনে, দেখছি বলে চুপ হয়ে যায়!’

 

পরীমণি আরও লেখেন, ‘আমি মেয়ে, আমি নায়িকা, তার আগে আমি মানুষ। আমি চুপ করে থাকতে পারি না। আজ আমার সাথে যা হয়েছে তা যদি আমি কেবল মেয়ে বলে, লোকে কী বলবে এই গিলানো বাক্য মেনে নিয়ে চুপ হয়ে যাই, তাহলে অনেকের মতো (যাদের অনেক নাম এক্ষুণি মনে পড়ে গেল) তাদের মতো আমিও কেবল তাদের দল ভারী করতে চলেছি হয়তো। আফসোস ছাড়া কারোর কি করার থাকবে তখন! আমি তাদের মতো চুপ কি করে থাকতে পারি মা? আমি তো আপনাকে দেখিনি চুপ থেকে কোনো অন্যায় মেনে নিতে!’

 

‘আমার মা যখন মারা যান তখন আমার বয়স আড়াই বছর। এতদিনে কখনো আমার এক মুহূর্ত মাকে খুব দরকার এখন, মনে হয়নি এটা। আজ মনে হচ্ছে, ভীষণ রকম মনে হচ্ছে মাকে দরকার, একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরার জন্য দরকার। আমার আপনাকে দরকার মা। আমার এখন বেঁচে থাকার জন্য আপনাকে দরকার মা। মা আমি বাচঁতে চাই। আমাকে বাঁচিয়ে নাও মা।’

 

কাজ করছে পুলিশ

 

পরীমণির ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাস প্রসঙ্গে পুলিশের মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সহকারী মহাপরিদর্শক এআইজি সোহেল রানা বলেন, ‘পরীমণির ফেসবুক স্ট্যাটাস পুলিশ সদর দফতরের নজরে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা কাজ করছেন।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘পরীমণির অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। তিনি পুলিশের প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত সেবা পাবেন। উপযুক্ত বিচার পাবেন।’

 

অভিযোগের সত্যতা জানতে যোগাযোগ করা হলে পরীমণি বলেন, ‘যা বলেছি সত্য বলেছি। আমি এর বিচার চাই। ১০ জুন থেকে আমি ট্রমার মধ্যে আছি। ভুলে যাওয়ার অনেক চেষ্টা করছি, পারছি না। চেষ্টা করেছি বিচার পাওয়ার জন্য। কিন্তু সবখানে নীরবতা। বিচারের আশ্বাস না পেয়ে বাধ্য হয়ে এ পোস্ট দিয়েছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *