নজর২৪, নারায়ণগঞ্জ- রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার উচ্চাবিলাসিতা থেকেই নাশকতাসহ অপরাধে জড়ান কওমী মাদ্রাসা ভিত্তিক সংগঠন হেফাজত ইসলামের নেতা মাওলানা মামুনুল হক। বিভিন্ন দেশী ও আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্ঠতা থাকার প্রাথমিক তথ্যও পেয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে মামুনুল হকের রিমান্ড ইস্যুতে রোববার (৬ জুন) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেন পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম। এসপির ভাষ্য ‘মামুনুলের কর্মকান্ড ও পাওয়া তথ্য গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পর এসব বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে বলা যাবে।’
মাওলানা মামুনুল হক হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা বিভাগের মহাসচিব।
পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম বলেন, ২৮ মার্চ দেশবাপী কথিত হরতালের নামে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত নাশকতার ঘটনা ঘটে। এরআগে ২৫ মার্চ মামুনুল হক নারায়ণগঞ্জে আসেন। তার উসকানীমূলক বক্তব্য নাশকতায় সাহস যুগিয়েছে বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন। সহিংসতার ৩ দিন পর ৩১ মার্চও নারায়ণগঞ্জে এসে ছিলেন তিনি।
পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম আরও বলেন, ৩ এপ্রিল সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে ঝর্ণা নামের একজন নারীসহ স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়ার ঘটনায় মামুনুল হকের উপস্থিতিতে ব্যাপক তান্ডব চালানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করলে সেখান থেকে সে পালিয়ে যায়।
পরবর্তিতে ওই নারী সোনারগাঁ থানায় এসে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। ধর্ষণ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদে বিয়ের কোন বৈধ কাগজপত্র বা তথ্য প্রমান দিতে পারেননি। শরিয়ত মোতাবেক বা দেশের আইনী কাঠামো অনুসারে বিয়ের কোন তথ্য প্রমান দিতে পারেনি সে।
এসব ঘটনায় দায়েরকৃত ৬টি মামলায় ৩ দিন করে মোট ১৮ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন। প্রথমে ৩টি মামলায় জেলা পুলিশ, পরবর্তিতে দুটি সিআইডি ও একটি মামলায় পিবিআই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
১৮ দিন রিমান্ডে থাকা হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা বিভাগের মহাসচিব মামুনুল হক পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, এসব কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য দেশ-বিদেশ থেকে টাকা আসতো বলেও আমরা তথ্য পেয়েছি।
বিভিন্ন দেশী ও আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্ঠতা থাকার প্রাথমিক তথ্য আমরা পেয়েছি। বিভিন্ন জায়গা থেকে সে পর্যাপ্ত অর্থ উপার্জন বা আত্মসাত করেছেন বলে আমাদের কাছে প্রতিয়মান হয়েছে। রিমান্ডে মামুনুল অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তিন তদন্তকারী সংস্থাকে নিয়ে এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তের পর এসব বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে বলা যাবে।
এসপি জায়েদুল জানান, ধর্ষণ মামলাটি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। সেই মামলায় জান্নাত আরা ঝর্না যে বক্তব্য দিয়েছেন, আমরা সেই বক্তব্যের ব্যাপারে রিমান্ডে মামুনুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি এবং সত্যতা পেয়েছি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসপি বলেন, কাউকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা নারী নির্যাতন আইনে ধর্ষণ হিসেবে বিবেচ্য হয়। মামুনুল হক বিভিন্ন সময় ফেসবুক লাইভে এসেও এসব কথা স্বীকার করেছেন, রিমান্ডেও তা স্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, খুব দ্রুত তার দেওয়া বক্তব্য আমরা যাচাই-বাছাই করবো এবং শিগগিরই এই মামলার রিপোর্ট আমরা আদালতে দাখিল করতে পারবো বলে আশাবাদী। বাদী বলেছেন, তিনি রাষ্ট্রের কাছে ন্যায়বিচার চান। আমরা রাষ্ট্রের পক্ষে বাদী যেন ন্যায়বিচার পান তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবো।
এসপি জায়েদুল আরও বলেন, নাশকতার মামলাগুলোতে মামুনুল হকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে অনেককে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পেরেছি। আরও তথ্য আছে, যা যাচাই-বাছাই চলছে। আরও যারা জড়িত আছেন আমরা তাদেরও আইনের আওতায় নিয়ে আসতে সক্ষম হবো।
এ সম্পর্কিত আগের সংবাদ পড়ুন-
১৮ দিনের রিমান্ড শেষে হেফাজত নেতা মামুনুল হক কারাগারে
নজর২৪, ঢাকা- হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে ৬ মামলায় ১৮ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
শনিবার (৫ জুন) দুপুর ১২টায় রিমান্ড শেষে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউছার আলমের আদালতে তাকে হাজির করা হয়। পুলিশ কোন মামলায় পুনরায় রিমান্ড আবেদন না করায় আদালত মামুনুল হককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান বলেন, ‘১৮ মে ছয় মামলায় তদন্তকারী সংস্থা নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআই জিজ্ঞাসাবাদের মামুনুল হককে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে আসা হয়। প্রত্যেক মামলায় তিন দিন করে ১৮ দিনের রিমান্ড শেষে সকালে মামুনুলকে আদালতে হাজির করে পিবিআই।’
রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে জানতে চাইলে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম বলেন, গত ২৮ এপ্রিল হেফাজতের ডাকা হরতালে সাইনবোর্ডে সহিংসতার ঘটনায় ভিডিও চিত্র থেকে হেফাজতের অনেক নেতাকে শনাক্ত করেছেন মামুনুল হক। জিজ্ঞাসাবাদে মামুনুল হক জানিয়েছেন যে তিনি হরতালের তিন দিন আগে ২৫ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে এসেছেন, নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করে গেছেন। হরতালের তিন দিন পর ৩১ এপ্রিলও তিনি নারায়ণগঞ্জে এসেছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার (এসপি) জায়েদুল আলম বলেন, ‘১৮ দিনের রিমান্ডে মামুনুল অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তিন তদন্তকারী সংস্থাকে নিয়ে এসব তথ্য যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। রোববার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে সব কিছু জানানো হবে।’
উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করা এক নারীসহ সোনারগাঁয়ে রয়েল রিসোর্টে অবরুদ্ধ হন মামুনুল হক। পরে হেফাজতের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা রিসোটে হামলা-ভাঙচুর চালিয়ে মামুনুলককে ছিনিয়ে নিয়ে যান। এরপর ১৮ এপ্রিল দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদরাসা থেকে মামুনুল হককে গ্রেফতার করে পুলিশ।
