‘সব দোষ’ স্বীকার করলেন রফিকুল ইসলাম মাদানী

নজর২৪, ঢাকা- আলোচিত শিশুবক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী র‌্যাবের দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গাজীপুর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

 

শুক্রবার (২৮ মে) তাকে গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শেখ নাজমুন নাহারের আদালতে হাজির করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

 

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার শুভাশিষ ধর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, মাদানীকে গত ৭ এপ্রিল নেত্রকোনায় তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। আটককালে তাঁর কাছ থেকে চারটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়। এসব মুঠোফোনে বেশ কিছু বিদেশি পর্নো ভিডিও পাওয়া যায়। পরদিন তাঁকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গাছা থানায় হস্তান্তর করে র‍্যাব। পরে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। র‍্যাব-১ মামলাটির তদন্ত করে।

 

ওসি আরও জানান, মামলার এজাহারে রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী উস্কানিমূলক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তিনি আদালতে এসব অভিযোগ স্বীকার করেছেন।

 

গাজীপুর মহানগরীর বোর্ডবাজারের কলমেশ্বর এলাকায় একটি কারখানা চত্বরে গত ১০ ফেব্রুয়ারি এক ওয়াজ মাহফিলে সরকারকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দিয়েছিলেন রফিকুল ইসলাম মাদানী। ওই ঘটনায় ৭ এপ্রিল দিবাগত রাত সোয়া দুইটার দিকে গাছা থানায় র‍্যাব-১-এর ডিএডি আবদুল খালেক বাদী হয়ে মামলা করেন।

 

ওই মামলায় রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫, ২৮ ও ৩১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। যেখানে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও অনুভূতিতে আঘাত করে আক্রমণাত্মক ও মিথ্যা ভীতি প্রদর্শন, তথ্য–উপাত্ত ইলেকট্রনিকস বিন্যাসে প্রকাশ ও সম্প্রচার করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটানোর অপরাধের কথা বলা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে গাজীপুরের গাছা ও বাসন থানা ছাড়াও ঢাকার তেজগাঁও থানায় মামলা রয়েছে।

 

জানতে চাইলে শুক্রবার (২৯ মে) বিকালে র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক আব্দুল মোত্তাকীম বলেন, ‘মাদানী সাহেব ওয়াজ করে টাকা ইনকাম করে। মুখরোচক কথা বললে নিজের প্রচারণা বাড়বে, এজন্য তিনি এসব কথা বলতেন। তিনি ভুল স্বীকার করেছেন। এসব কথা বললে জনপ্রিয়তা আরও বাড়বে, এজন্য এসব কথা বলতেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *