নজর২৪ ডেস্ক- পাঁচ বছর আগে চট্টগ্রামে মাহমুদা খানম (মিতু) হত্যার অভিযোগে চট্টগ্রামের সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হচ্ছে। বাবুল আক্তারকেই মামলার প্রধান আসামি করা হবে।
চট্টগ্রাম পুলিশের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বাবুল আক্তার মিতু হত্যা মামলার বাদী। তাকে আজ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) ডাকা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে পিবিআই স্ত্রী হত্যায় বাবুলের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে। তাই তাকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, বাবুলকে আপাতত আটক দেখানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ মে) রাতে বা বুধবার (১২ মে) সকালে তার বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হবে। মামলার প্রধান আসামি করা হবে বাবুল আক্তারকে। এরপর তাকে সেই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে। এছাড়াও আগের মামলার আসামিদেরকে নতুন মামলায় হত্যাকাণ্ডের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হবে।
সূত্র জানায়, বাবুল কেন তার স্ত্রীকে হত্যা করেছে এ বিষয়ে জানতে আগামীকাল (বুধবার) তাকে আদালতে তোলা হবে। আদালতে সোপর্দ করে তাকে রিমান্ড বা জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হতে পারে।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বাবুল আক্তার উপস্থিত হন পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ে। সন্ধ্যায় পিবিআইয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা বাবুল আক্তারকে গ্রেফতার দেখানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, মঙ্গলবার বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চট্টগ্রামে পিবিআই কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় মাহমুদা খানম মিতুকে। এ ঘটনায় ঢাকায় অবস্থান করা মিতুর স্বামী বাবুল আক্তার বাদী হয়ে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে নিজের জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তবে কয়েক দিনের মাথায় মামলার তদন্তে নতুন মোড় নেয়। একপর্যায়ে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তার শ্বশুর মোশারফ হোসেন।
পিবিআই সূত্র জানায়, আলোচিত এই মামলাটি প্রথমে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানা পুলিশ ও চট্টগ্রামের গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করে। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার পিবিআই-কে দেওয়া হয়। পিবিআই তদন্তে নেমে প্রথমবারের মতো মামলার বাদী ও সন্দেহভাজন হিসেবে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের সঙ্গে কথা বলেছে। কয়েকদিন আগে নিহত মিতুর বাবার সঙ্গেও পিবিআইর তদন্ত সংশ্লিষ্টরা কথা বলেন বলে জানিয়েছে ওই সূত্র।
আলোচিত এই হত্যা মামলা নিয়ে নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে বাবুল আক্তারকে পুলিশ সুপারের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে বাবুল আক্তার স্বেচ্ছায় ইস্তফা দিয়েছেন বলা হলেও তিনি পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদনও করেছিলেন। পুলিশের চাকরি থেকে অব্যাহতি নেওয়ার পর তিনি প্রথমে কিছু দিন রাজধানীর আদ্বদীন হাসপাতালে চাকরি করলেও বর্তমানে ব্যবসা করছেন বলে জানা গেছে।
