মানবিক কারণে ছাত্রলীগ নেতাদের নিয়োগ দিয়েছি: রাবির বিদায়ী উপাচার্য

নজর২৪ ডেস্ক- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান তাঁর মেয়াদের শেষ কর্মদিবসে যে জনবল নিয়োগ দিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সেটিকে অবৈধ ও বিধিবহির্ভূত বলেছে।

 

কিন্তু তদন্ত কমিটির কাছে বক্তব্যের পর বিদায়ী উপাচার্য দাবি করেছেন, তিনি যে নিয়োগ দিয়েছেন সেটি যৌক্তিক এবং তাদের চাকরি না টেকার কোনো কারণ নেই। আর ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে বলেছেন ‘আমি এই নিয়োগ মানবিক কারণে দিয়েছি।’

 

আজ শনিবার (০৮ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের করা তদন্ত কমিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সরেজমিনে গেছে। কমিটির কাছে দেওয়া বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন আবদুস সোবহান।

 

এসময় অধ্যাপক সোবহান বলেন, আমি মনে করি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শুধু এই নিয়োগ না, আরও নিয়োগ দিতে হবে। না দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজকর্ম ব্যাহত হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় মুখ থুবড়ে পড়বে।

 

মানবিক কারণে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে সদ্য সাবেক উপাচার্য বলেন, ‘যারা ডিজার্ভ করে তারাই নিয়োগ পেয়েছে। তাদের প্রত্যেকেই অনার্স-মাস্টার্স পাস এবং আওয়ামী পরিবারের সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে তাদের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়ে যাচ্ছিল৷ তাই আমি মানবিক কারণে ছাত্রলীগকে চাকরি দিয়েছি।’

 

তিনি আরও বলেন, তাদের (ছাত্রলীগের) ক্রমাগত দাবি এবং চাপের পরিপ্রেক্ষিতে আমি বোধ করেছি যে, তাদের চাকরি পাওয়া উচিত। তাই তাদের চাকরি দিয়েছি। এখানে অন্য কেউ জড়িত নয়।

 

সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকার পরেও কেন নিয়োগ দেওয়া হলো? জবাবে তিনি বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশের অনুযায়ী উপাচার্যের ক্ষমতাবলে এ নিয়োগ দিয়েছি।

 

এখন যদি সরকার থেকে এ ধরনের আদেশ আসে তাহলে তো বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশই বাতিল করা উচিত, বলেন তিনি।

 

এই নিয়োগ টিকবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিয়োগ না টেকার আর কিছু নেই। এর আগেও এডহক নিয়োগ হয়েছে এবং সেগুলো টিকে আছে।

 

‘আমি মনে করি এটা যৌক্তিক তাই আমি নিজ দায়িত্বে একটা দিয়েছি’, মন্তব্য করেন অধ্যাপক সোবহান।

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীরও সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেছেন।

 

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউজিসি যে তদন্ত কমিটি করেছে আমরা সেটা তদন্তে এখানে এসেছি। স্বল্প সময়ের মধ্যে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে চাই। এর জন্য আমরা সবার সঙ্গে কথা বলেছি, সমস্ত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছি। আমরা বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেব।

 

এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও গত বৃহস্পতিবার (৬ মে) ক্যাম্পাসে মেয়াদের শেষ দিন শিক্ষকসহ ১৪১ জনকে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেন রাবির বিদায়ী এই উপাচার্য। সেই নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *