নজর২৪ ডেস্ক- রাস্তায় কিংবা শপিংমলের সামনে দাঁড়ালেই পড়তে হয় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। রিকশা বা গাড়ি থেকে নামলেই একঝাঁক ভিক্ষুক এসে ঘিরে ধরছেন ওই ব্যক্তিকে। আকুল হয়ে চাইতে থাকেন টাকা। না দেওয়া পর্যন্ত ছাড়তেও চায় না তারা। জনসমাগম আছে এমন প্রায় প্রতিটি স্থানেই দেখা যায় ভিক্ষুকের আধিক্য। অনেকের কাছে রীতিমতো উৎপাত হয়ে দাঁড়িয়েছে এরা।
ভিক্ষা চাইতে গিয়ে অনেকেই পিছু ছাড়তে নারাজ। শিশুরাও এ দলে সামিল। কেনাকাটা করে ব্যাগ হাতে বের হলে সেই ব্যাগ ধরেই চলতে থাকে টানাটানি। বাস, রেল স্টেশনে, লঞ্চ টার্মিনাল ও চলন্ত বাসেও আগের চেয়ে বলতে গেলে দ্বিগুণ বেড়েছে ভিক্ষুক। মৌসুমী ভিক্ষুকদের পাশাপাশি যোগ হয়েছে নব্য ভিক্ষুকরাও।
সমাজকল্যাণ অধিদফতরের তথ্য বলছে, রাজধানীতে নিয়মিত ভিক্ষুক ছিল ৫০ হাজার। করোনার কারণে কমপক্ষে আড়াই লাখ হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ মে) রাজধানীর বেশ কিছু এলাকা সরেজমিনে দেখা গেছে, শপিং মলগুলোর সামনে ভিক্ষা করার জন্য কেউ জায়গা দখল করে বসে আছে, কেউ ঘুরে ঘুরে লোকজনের পথরোধ করে দাঁড়াচ্ছে। কেউ কাউকে সাহায্য করতে দেখলেই ওই দাতাকে ছেঁকে ধরছেন বাকিরা। আবার কেউ সন্দেহ করছেন, করোনার অজুহাতে ভিক্ষাবৃত্তির নতুন সিন্ডিকেট দাঁড়ায়নি তো?
রাস্তার আশপাশে কাউকে দেখা যায় চুপচাপ বসে থাকতে। তাদের সরাসরি চাইতেও দেখা যায় না। কেউ করছে নানান মানবিক আবেদন। দেখেই বোঝা যায় তারা একসময় কাজ করেই খেতেন। এখন করোনার কারণে কাজ হারিয়ে হাত পাতছেন বাধ্য হয়ে।
রাজধানীর উত্তরা রাজলক্ষী কমপ্লেক্সের সামনে দেখা গেছে, শপিংমলে ঢোকার প্রতিটি পয়েন্টে সাহায্য প্রত্যাশীদের অবস্থান। যারাই মার্কেটে ঢুকছে বা বের হচ্ছে তাদের দিকে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন তারা। উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টর থেকে আসা শিহাব হোসেন বলেন, ভিক্ষাবৃত্তি এখন ব্যবসা হয়ে গেছে। তারপরও চেহারা দেখে যতোটা সম্ভব সাহায্য করছি। তবে অনেকেই একেবারে গায়ের ওপর হামলে পড়ছে, এটা খুবই অস্বস্তিকর। এদের এড়িয়ে চলাই মঙ্গল।
১২ নম্বর সেক্টর থেকে আসা মরিয়ম বলছিলেন তার অভিজ্ঞতার কথা। ‘ভিক্ষার জন্য আমার পিছুই ছাড়ছিল না। মনে হচ্ছিল উনি আমার পাওনাদার। বাধ্য হয়ে দশ টাকা দিয়ে রক্ষা পাই। অনেক দিন হলো মলে ঘুরছি, কিন্তু ভিক্ষুকদের দেখভালের জন্য সরকারি কোনও উদ্যোগ চোখে পড়লো না।
