মুনিয়া ‘আত্মহত্যায়’ হুইপপুত্র শারুন চৌধুরীর যোগসাজশ রয়েছে: মডেল পিয়াসা

নজর২৪ ডেস্ক- রাজধানীর গুলশানের অভিজাত ফ্ল্যাটে মোসারাত জাহান মুনিয়ার আত্মহত্যায় চট্টগ্রামের হুইপপুত্র শারুণের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে মডেল ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা।

 

ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা বলেন, ‘এই ঘটনার নেপথ্যে আরও অনেক কাহিনি আছে। এই মেয়ে (মুনিয়া) তো একটা সাইকো ছিল। আনভীর ভাই বিবাহিত জানা সত্ত্বেও কেন তার দেওয়া ফ্ল্যাটে থাকা শুরু করেছিল? তাকে তো আগে আমরা কুমিল্লায় পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। সে লোভী। সে একটা… (প্রকাশযোগ্য নয়)।’

 

এ ঘটনায় চট্টগ্রামের হুইপপুত্র শারুণের যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ সংক্রান্ত কথোপকথনের কয়েকটি স্ক্রিনশটও পাঠান এই প্রতিবেদকের কাছে। সেখানে মুনিয়া শারুণকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমার কিছু হয়ে গেলে আপনি আমার পরিবারকে একটু দেইখেন।’ শারুণকে কিছু কল রেকর্ড ও স্ক্রিনশট দিয়ে মৃত্যুর পর এসব সবাইকে দেওয়ার জন্য বলেন মুনিয়া।

 

আসলেই কি মুনিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল হুইপ সামসুল হক চৌধুরী-পু্ত্রের? জানতে মুঠোফোনে বুধবার রাতে কথা হয় শারুন চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘যে স্ক্রিনশটগুলো ছড়িয়েছে এগুলো বানিয়ে আমার নামে যুক্তিহীনভাবে চালানো হচ্ছে। আমি এটার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি। এগুলো একদমই বানোয়াট।’

 

স্ক্রিনশটগুলো দেখে স্পষ্ট হওয়া যায়নি এগুলো কোন তারিখের। তবে সময় বিকাল চারটা ৪৯ মিনিট থেকে সোয়া পাঁচটার কিছু পরের। ওই হোয়াটসঅ্যাপ আলাপে দেখা যায়, শারুন চৌধুরীর নম্বর থেকে ‘হাই’ বলে নক করা হয় মুনিয়াকে। পরে মুনিয়া জানতে চান, তিনি কেমন আছেন? জবাবে শারুন বলেন, ‘এই তো কোনোরকম। কী অবস্থা তোমার?’ জবাবে মুনিয়া লেখেন, ‘ভালো না।…’ এর পরই আলাপ গড়াতে থাকে সামনে। যেখানে মুনিয়ার সঙ্গে শারুনের আর্থিক লেনদেনের একটি আলাপও স্পষ্ট হয়।

 

যদিও শারুন বরাবরই দাবি করে আসছেন, মুনিয়ার সঙ্গে তার কখনো আলাপ হয়নি। আর স্ক্রিনশটে যেভাবে কথোপকথন চালানো হয়েছে সেটিরও তার নিজস্ব কথা বলার ধরনের সঙ্গে কোনো মিল নেই। শারুন বলেন, ‘আমার লেখার একটা স্টাইল আছে। স্ক্রিনশট মেকার দিয়ে এটা বানানো। আপনিও চাইলে একশটা বানাতে পারবেন।’

 

তিনি ওই কথোপকথনের ফরেনসিক করার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ‘মুনিয়ার সাথে যে চ্যাটের কথা বলছে এটা পৃথিবীর যেকোনো ফরেনসিক রিপোর্টেকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলতে পারি এটা ভুয়া। আমার সাহস না থাকলে কি ফরেনসিকের কথা বলতাম? মুনিয়ার মোবাইল তো পুলিশের কাছে আছেই। ফরেনসিক রিপোর্টটা ডিলিট করলেও ফরেনসিকে থাকে।’

 

এই কথোপকথনের সূত্র ধরে শারুন চৌধুরীর কাছে ফোন করে মুনিয়ার ব্যাপারে তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে একটি গণমাধ্যমের সংবাদে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শারুন বলেন, ‘একদম পুরো মিথ্যা কথা। পুলিশের সাথে আমার এখন পর্যন্ত কোনো হ্যালো পর্যন্ত হয়নি। তাহলে কোত্থেকে আসল?’

 

সোমবার রাতে গুলশান-২-এর ১২০ নম্বর রোডের ১৯ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান (মুনিয়া) নামের এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা করেছে মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান। এতে আসামি করা হয় বসুন্ধরা এমডি সায়েম সোবহান আনভীরকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *