‘শিশুবক্তা’ রফিকুলের মাদ্রাসায় তালা

নজর২৪ ডেস্ক- ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ‘শিশুবক্তা’ রফিকুল ইসলাম মাদানীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন গাজীপুরের একটি আদালত। এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) গাছা থানায় মামলা করা হয়।

 

এরপর আজ বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে তোলা হলে গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এর বিচারক মো. শরিফুল ইসলাম কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

এর আগে গত বুধবার নেত্রকোনায় মাদানীকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরে তাকে গাজীপুরের গাছা থানায় হস্তান্তর করে র‌্যাব।

 

গত ১০ ফেব্রুয়ারি এক ওয়াজ মাহফিলে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়। এরপর আজ তাকে কারাগারে পাঠানো হলো।

 

গাজীপুর জেলা কারাগারের সুপার মো. বজলুর রশিদ আকন্দ জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে মাদানীকে কারাগারে বুঝে পেয়েছেন তারা।

 

এদিকে বৃহস্পতিবার গাজীপুরে ‘শিশুবক্তা’ রফিকুল ইসলামের মাদ্রাসার মূল দরজার ভেতর দিকে একাধিক তালা ঝুলতে দেখা গেছে। তবে কে, কবে তালা দিয়েছে সে বিষয়ে জানে না কেউ। মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্ররাই বা কোথায় সেটিও অজানা।

 

মারকাজুন নূর আল ইসলামিয়া নামে ওই আবাসিক মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ও পরিচালক শিশুবক্তা হিসেবে পরিচিত রফিকুল ইসলাম। মহানগরের বাড়িয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে এই মাদ্রাসায় বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটার দিকে গিয়ে দেখা যায় সেটি তালাবদ্ধ।

 

বাড়িয়ালী গ্রামের আব্দুল মোতালেব হোসেন জানান, গত তিনদিন ধরে মাদ্রাসায় কোনো ছাত্র বা হুজুরকে ঢুকতে, বের হতে দেখা যায়নি। খোঁজ নেয়ার জন্য গিয়ে দেখেন ভেতর থেকে তালা দেয়া। তিনি নিশ্চিত করেন, ওই বাড়ি থেকে বের হওয়ার এটিই একমাত্র দরজা।

 

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সেলিম বলেন, ‘গত ২৫ মার্চ বাড়িয়ালী-নলজানী ঈদগাহ মাঠে ওই মাদ্রাসার হাফেজ ছাত্রদের পাগড়ি প্রদান উপলক্ষে শানে রিসালাত মহাসম্মেলন নামে একটি মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রফিকুল ইসলামও বক্তব্য রাখেন। ওই অনুষ্ঠানের পর দিন থেকে মাদ্রাসাটি বন্ধ রয়েছে।’

 

মাদ্রাসাটির ছাত্র ও শিক্ষক বেশির ভাগই রফিকুলের নিজ জেলার বলেও জানান মো. সেলিম।

 

গত এক বছর ধরে আমিনুল হোসেন নামের কালীগঞ্জের এক প্রবাসীর বাড়ি ভাড়া নিয়ে রফিকুল ইসলাম মাদ্রাসাটি পরিচালনা করছেন। সেখানে আবাসিক, অনাবাসিক ও ডে-কেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে নুরানী মক্তব, নাযেরা, হিফজ বিভাগ ছাড়াও প্লে থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়ার ব্যবস্থা।

 

রফিকুল ইসলাম মাদানীরা পাঁচ ভাই। মাদানী সবার ছোট। তার বাবা মৃত শাহাবুদ্দিন। মাদানী নেত্রকোণার মালনী এলাকায় জামিয়া ইসলামিয়া হুসাইনিয়া মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে ঢাকায় চলে আসেন। সেখানে লেখাপড়া করার সময় ‘শিশু বক্তা’ হিসেবে আলোচিত হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *