নজর২৪ ডেস্ক- নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের রয়্যাল রিসোর্টের কক্ষ ভাড়ার সময় হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক নিজের নাম সঠিক লিখলেও তার সঙ্গীনির নাম লুকিয়েছেন।
সেই নারী নিজের নাম জান্নাত আরা ঝর্ণা লিখলেও মামুনুল রিসোর্টের নথিতে তার উল্লেখ করেছেন আমেনা তাইয়্যেবা। তবে তাইয়্যেবা তার চার সন্তানের জননী স্ত্রীর নাম। খবর- নিউজ বাংলার
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা শুনতে পেরেছি তার (মামুনুল) আসল স্ত্রীর নাম আমেনা তাইয়্যেবা। বিষয়টির তদন্ত করছি।’
জানা যায়, শনিবার বেলা দুইটার দিকে সাদা রঙের একটি গাড়ি নিজেই চালিয়ে রিসোর্টটিতে যান মামুনুল। ভাড়া করেন এক্সিকিউটিভ ডিলাক্স (সেমি সুইট) কক্ষ। এই কক্ষগুলোর ভাড়া এমনিতে ১০ হাজার টাকা। সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আর ১০ শতাংশ সার্ভিস চার্জ যুক্ত হয়। তবে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ ডিসকাউন্ট করে মামুনুল হককে সাত হাজার টাকায় ভাড়া দেয়।
রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ বকুল বলেন, অভ্যর্থনার কর্মীরা মামুনুলের কাছে তার সঙ্গীনির পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেছেন তার স্ত্রী, নাম আমেনা তাইয়্যেবা। নিজের পেশার পরিচয় দিয়েছেন চাকরি। মামুনুল কক্ষ ভাড়া করার সময় নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিও জমা দেন।
হেফাজত নেতা ১২ ঘণ্টার জন্য ভাড়া করে যান ৫০১ নম্বর কক্ষটি। সেখানে এক ঘণ্টা অবস্থানের পর মামুনুল খাবারের অর্ডার করেন। এরপর সাড়ে পাঁচটার দিকে শুরু হয় হাঙ্গামা।
স্থানীয় যুবকরা মামুনুলকে ঘিরে ঘরে যখন একের পর এক প্রশ্ন করতে থাকেন তখন তিনি ওই নারীর পরিচয় দেন আমেনা তাইয়্যেবা। বলেন তার শ্বশুরবাড়ি খুলনায়, শ্বশুরের নাম জাহিদুল ইসলাম।
তবে তার এই বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে সেই মেয়ের বক্তব্যে। তিনি নিজের নাম বলেন জান্নাত আরা ঝর্ণা। বাবার নাম লেখেন ওলিয়র রহমান। বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায়।
এদিকে খবর পেয়ে মামুনুলকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসে হেফাজতে ইসলামের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। তারা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সবাইকে জড়ো করে হামলে পড়ে রিসোর্টে। ব্যাপক ভাঙচুর করে ছিনিয়ে নেয় মামুনুল হককে।
সকালে রিসোর্টটিতে গিয়ে ভাঙচুরের চিত্র দেখা যায়। প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে ঢুকে নিচতলা থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত প্রায় সব জানলার কাচ, আর্চওয়ে, অভ্যর্থনা কক্ষ, অতিথি কক্ষ, জিম ভাঙচুর করা হয়।
রিসোর্টের উপমহাব্যবস্থাপক খায়রুল কবির বলেন, ‘হিসাব করছি কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এরপর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মামলা করব।’
সেখানে গিয়ে পাওয়া যায় নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহিদ পারভেজকেও। তিনি বলেন, ‘যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার হিসাব করছেন রিসোর্টের কর্মকর্তারা। যারা ভাঙচুর করেছে, সিসিটিভি ক্যামেরা থেকে ভিডিও দেখে পুলিশ তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
