মুক্তমত ডেস্ক- ছোটবেলায় নানার মুখে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনে আর ইতিহাস থেকে জেনেছি আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের গান্ধী পরিবার, বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর আন্তরিক সহযোগিতা ও বন্ধুবৎসলতার কথা।
সে কৃতজ্ঞতাবোধ থেকেই গান্ধী পরিবার বা ভারতের কংগ্রেসের প্রতি একটা সমর্থন ও প্রছন্ন ভালোলাগা কাজ করতো। হিন্দুপ্রধান দেশ হয়েও তাদের ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দর্শনও ভালোলাগার অন্যতম কারণ।
পক্ষান্তরে মোদিজীর হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দর্শন, তার সময়কালে বাবরী মসজিদে হামলাসহ ভারতে মুসলিমদের প্রতি বিমাতৃসুলভ আচরণ ও দমনপীড়ন নীতির দরুণ ব্যক্তিগতভাবে তিনি আমার অপছন্দের, যা আমি অকপটেই স্বীকার করি।
তবে প্রতিবশী দেশের প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে রাষ্ট্রীয় মেহমান হিসেবে তাকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা আমাদের নৈতিক দায়বদ্ধতা। তাঁকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি, আগমন উপলক্ষে ভারতের কাছে বাংলাদেশের প্রাপ্য ন্যায়সংগত অধিকার সম্পর্কে আরো অনেক দেশপ্রেমিক নাগরিকের ন্যায় আমিও লিখেছি।
যেহেতু মোদিজী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সক্রিয়, তাই যদি কোনভাবে তাঁর দৃষ্টিগোচর হয়, যে এদেশের মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার সম্পর্কে সচেতন এবং প্রত্যাশা করে, বন্ধু রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি আমাদের পালস বুঝে এমন দৃষ্টিভঙ্গিকে শ্রদ্ধা ও সম্মান করবেন।
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, কিছু অতিরিক্ত ভারতপ্রেমী অর্বাচীন দেশ ও দশের স্বার্থে বলা এমন সরল চাওয়ার মাঝেও ‘কিন্তু’ খোঁজেন! তাহলে তো, মুক্তিযুদ্ধ শেষ হবার পরপরই বঙ্গবন্ধু ইন্দিরা গান্ধীকে তাঁর সৈন্য ফিরিয়ে নেয়ার স্পষ্ট কথা বলে বড্ড অপরাধ করে ফেলেছিলেন! এই গাটসলেস পরজীবি প্রজাতি তো তখন দেশ ও মানুষের স্বার্থে কথা বলায় বঙ্গবন্ধুকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে ছাড়তো!
যাইহোক, মোদিজীকে যতটা অপছন্দ তার চেয়ে বহুগুণ বেশি অপছন্দ করি, স্বাধীনতা বিরোধী সেই পুরনো শকুন, পাকি প্রেতাত্মা, ধর্মান্ধ, ধর্ম ব্যবসায়ীদের, যারা যেকোনো ইস্যু পেলেই দেশকে অস্থিতিশীল করে পুরনো ক্ষতে প্রলেপ দিতে চায়। এখনই সময়, সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে এদের প্রতিহত করার। এরা দেশ, জাতি এবং পরম শান্তির জীবন বিধান ইসলামের জন্য মহা বিপদজনক!!
আর আমার ব্যক্তিগত উপলব্ধি হচ্ছে, এদেশে পাকিস্তানপ্রেমী ও ভারতপ্রেমীদের চিপায় পড়ে প্রকৃত বাংলাদেশ প্রেমীরা আজ বড্ড অসহায়!
লেখকঃ গোলাম রাব্বানী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক জিএস।
(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

