রাজশাহীর সমাবেশে যেতে তাবিথ আউয়ালকে ‘বাধা’

নজর২৪ ডেস্ক- বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে বিএনপির এই সমাবেশ ঘিরে গতকাল সোমবার সকাল থেকেই রাজশাহী থেকে সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

 

আজ মঙ্গলবার এ সমাবেশে যোগ দিতে ঢাকা থেকে নেতাকর্মীদের নিয়ে সড়ক পথে রওনা দেন বিএনপি নেতা তাবিথ আউয়াল। কিন্তু পুঠিয়া পর্যন্ত গেলে মধ্যপথে তাকে বাধা দেওয়া হয়।

 

তাবিথ আউয়ালের একান্ত সচিব রাজু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুপুর আড়াইটার দিকে তাবিথ আউয়ালের গাড়ি বহর পুঠিয়া উডপজেলায় পৌঁছলে পুলিশ তাকে আটকে দেয়। প্রায় আধা ঘণ্টা বাকবিতণ্ডার পর তাকে যেতে দেওয়া হয়।

 

রাজু আরও জানান, তাবিথকে যেতে দিলেও তার সঙ্গে থাকা ১০ জনকে যেতে দেয়নি পুলিশ। মূলত, ওই ১০ জনকে না যেতে দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয় তাবিথকে। কিন্তু তিনি কাউকে রেখে না যাওয়ার কথা বললে পুলিশ এক পর্যায়ে সবাইকে যেতে দেয়।

 

নওগাঁর ধামুরহাট থানা যুবদলের আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মাইক্রোবাস ভাড়া করেছিলাম। শেষ মুহূর্তে চালকরা জানিয়েছেন, তারা আসতে পারবেন না। চাপ আছে। পরে পাঁচটি মোটরসাইকেলে ১০ জন এবং একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চার জন আমরা রাজশাহীতে এসেছি। মোড়ে মোড়ে আমাদের আটকে তল্লাশি করা হয়েছে। আমরা একসঙ্গে আসতে পরিনি। আলাদা আলাদা এসেছি। নওগাঁয় নওহাটা মোড়ে এবং রাজশাহীতে নওদাপাড়ায় আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সমাবেশের কথা না বলে নানান অজুহাত দিয়ে আসতে হয়েছে। আমাদের অনেক নেতা আসতে পারেননি।’

 

গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপি’র কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন, তারা ২৭ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে রাজশাহীতে এসেছেন। কিছু দূর পর পর তাদের পকেটে হাত দিয়ে তল্লাশি করা হয়েছে। জেরা করা হয়েছে কোথা থেকে এসেছেন, কোথায় যাবেন।

 

নগর বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, বাধা উপেক্ষা করে সব জেলা থেকেই আমাদের নেতাকর্মীরা রাজশাহীতে এসেছেন।

 

গতকাল দুপুরে শহরের মানুপাড়ায় বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে সমাবেশের ঘোষণা দেওয়ার পরে সন্ধ্যা থেকে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

 

হানিফ এন্টারপ্রাইসের ম্যানেজার এস এম মঞ্জুর রহমান বলেন, ‘গতকাল সকাল দিকেও গাড়ি চলেছে। হঠাৎ আমরা লক্ষ করলাম শ্রমিকরা কোনো ঘোষণা না দিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় পরিবহন শ্রমিক নেতারা টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখতে বলে গেছেন। আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।’

 

জেলা বাস মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক শাফকাত মঞ্জুর বলেন, ‘জেলায় রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকায় শ্রমিকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সে কারণে তারা বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *