আপনার মন্ত্রণালয়ের সব খবর জানি, সব বলে দেব: ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে মির্জা

নজর২৪ ডেস্ক- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে হুম-কি দিয়ে তার ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, আপনার মন্ত্রণালয়ের সব খবর জানি। কে কী করে। কে কে কালেকশন করে কোথায় নিয়ে যায়, কার বাসায় নিয়ে যায়।

 

তিনি বলেন, ‘আমি সব কথা বলব। মৃত্যুর আগে সব বলে যাব। আমি জানি আমাকে হত্যা করা হবে। আর আপনি (ওবায়দুল কাদের) ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম হাজারী ও নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরাম চৌধুরীকে সেই আদেশ দিয়েছেন।’

 

কাদের মির্জার একজন ঘনিষ্ঠ সহকারী নিজের নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘আজ মঙ্গলবার বসুরহাট পৌরসভার রূপালী চত্বরে সভা করার কথা ছিল। কিন্তু, পুলিশ সেটা করতে দেয়নি। পরে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বসে নিজের ফেসবুক আইডিতে লাইভে আসেন কাদের মির্জা।’

 

৮ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের ভিডিওতে কাদের মির্জা বলেন, ‘আপনি (ওবায়দুল কাদের) আমার মনের খবর রাখেন না। ৪৭ বছর রাজনীতি করেছি। ওবায়দুল কাদেরের জন্য কী না করেছি?’

 

তিনি বলেন, ‘আজ তার (ওবায়দুল কাদের) কাছে স্ত্রী, নিজাম হাজারী ও তথাকথিত রাজনীতিবিদ খুনি, চাঁদাবাজ, চাকরি ও টেন্ডার বাণিজ্যকারী একরামুল করিম চৌধুরী আমার চেয়ে বেশী আপন।’

 

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের প্রসঙ্গ টেনে কাদের মির্জা বলেন, ‘কোম্পানীগঞ্জের চরের ভূমিদস্যু মাদক সম্রাটকে আপনি (ওবায়দুল কাদের) শেল্টার দিয়েছেন। এর খেসারত আপনাকে দিতে হবে।’

 

তিনি বলেন, ‘আল্লাহর আদালতে আপনার (ওবায়দুল কাদের) বিচার হবে। এতো অপমান? আমি একজন মেয়র। আপনি বড় নেতা। আপনার পর্যায়ে আপনি আমার পর্যায়ে আমি। আজকে আমাকে লাঞ্ছিত করছেন। পুলিশ দিয়ে পেটাচ্ছেন।’

 

কাদের মির্জার ভাষায়, ‘বাদশা, শাহিন্ন্যা, আরিফ্যা, সবুজ্জ্যাকে দিয়ে আমাকে অপমান করছেন। আপনার (ওবায়দুল কাদের) মন্ত্রণালয়ের সব খবর জানি। নিজাম হাজারী আমার সঙ্গে আপোষ করতে চায়। একজন খুনির সঙ্গে কীসের আপোষ। নিজাম হাজারী দাগনভূঁইয়ার জনপ্রিয় সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি একরামকে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে গুলি করে গাড়িতে ঢুকিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। যারা খুনের সঙ্গে জড়িত তারা কেউ মামলায় পড়েনি। মামলার পড়েছে জজ মিয়ারা।’

 

তিনি বলেন, ‘নোয়াখালীতে আজকে সাংবাদিক মুজাক্কিরসহ ২৫ জনকে হত্যা করেছে একরাম চৌধুরী। এতো খুন করেও তারা আজ রাজত্ব করছে। দেশ কি এভাবে চলবে? বঙ্গবন্ধু কি এজন্য দেশের জন্য স্বাধীনতা এনেছিলেন? এ অবস্থা চলতে দেওয়া যায় না। এদেরকে আশ্রয়-প্রশ্রয় কে দিচ্ছে? কারা এসব চালাচ্ছে? ওবায়দুল কাদের এসব চালাচ্ছে।’

 

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে কাদের মির্জা বলেন, ‘নেত্রী এসব বন্ধ করার জন্য আপনার প্রতি অনুরোধ করব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *