পৌর নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে জামানত হারালেন বিএনপির ৩০ মেয়র প্রার্থী

নজর২৪, ঢাকা- শনিবার (১৬ জানুয়ারি) দ্বিতীয় ধাপে দেশের ৬০টি পৌরসভার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। পরে গণনা শেষে বেসরকারিভাবে ফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে বেশিরভাগ পৌরসভায় জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা। এ ছাড়া নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন বিএনপি সমর্থিত বিজয়ী কাউন্সিলর প্রার্থী।

 

জানা যায়, এ ধাপে মেয়র পদে মোট ভোটের ৬০ দশমিক ০৩ শতাংশ পেয়েছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। এছাড়া ৪৫টিতে দলটির প্রার্থীরা মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪১ জন ভোটের মাধ্যমে ও বাকি চারজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পান। অপরদিকে বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা পেয়েছেন ১৭ দশমিক ৯১ শতাংশ ভোট। ৩০ পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থীরা জামানত তুলতে পারেননি।

 

দলটির মাত্র চারজন মেয়র পদে নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি ২২ দশমিক ০৬ শতাংশ ভোট পেয়েছেন জাতীয় পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দ্বিতীয় ধাপের ৫৫টি পৌরসভায় ভোট পড়েছে ৬১ দশমিক ৯২ শতাংশ।

 

দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। শনিবার দ্বিতীয় ধাপে ৬০টিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। একটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত থাকায় কিশোরগঞ্জ পৌরসভার ফল স্থগিত রয়েছে।

 

বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, এর আগে প্রথম ধাপের ২৪ পৌরসভায় সরকারি দলের প্রার্থীরা ৬৪ দশমিক ০৬ শতাংশ ভোট ও ১৯টিতে মেয়র পদে জয় পেয়েছিলেন। অপরদিকে বিএনপির প্রার্থীরা পেয়েছিলেন ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ ভোট এবং মেয়র পদে দুটিতে জয় পেয়েছিলেন। এ হিসাবে দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বেশিসংখ্যক পৌরসভায় মেয়র পদে জয় পেয়েছেন।

 

তবে দ্বিতীয় ধাপের ভোটের হার বিবেচনায় ৪ দশমিক ০৩ শতাংশ পিছিয়ে পড়েছে দলটি। অপরদিকে বিএনপির প্রার্থীরা তুলনামূলকভাবে ৪ দশমিক ৫২ শতাংশ ভোট বেশি পেয়েছেন। সরকারি দলে থাকারও পর দলটির একজন মেয়র প্রার্থী তার জামানত তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন। পক্ষান্তরে বিএনপির ২৯ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

 

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপে ভোট হওয়া ৫৫টি পৌরসভায় ১২ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৬ জন ভোট দিয়েছেন। এসব পৌরসভায় মোট ভোটার ছিলেন ২০ লাখ ৯১ হাজার ৬৮১ জন। ভোট পড়ার হার ৬১ দশমিক ৯২ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি হারে ৮৫ দশমিক ০৪ শতাংশ ভোট পড়েছে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ পৌরসভায়।

 

কাগজের ব্যালটে ভোট হওয়া এ পৌরসভায় ১১ হাজার ৮৬৭ জন ভোটের মধ্যে ১০ হাজার ৯২টি ভোট পড়েছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আব্দুল্লাহ-আল পাঠান ৮ হাজার ৯২০ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন, তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. জাহিদুল ইসলাম পেয়েছেন ৫৭৫ ভোট। অপরদিকে সবচেয়ে কম ৩৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ ভোট পড়েছে ঢাকার সভার পৌরসভায়।

 

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট হওয়া এ পৌরসভায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৮ জন ভোটারের মধ্যে ভোট পড়েছে ৬৩ হাজার ১৭৯টি। এ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের হাজী মো. আব্দুল গণি ৫৬ হাজার ৮০৪ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। অপরদিকে বিএনপির আলহাজ মো. রেফাত উল্লাহ পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৩০ ভোট। এ ধাপে সব রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত মেয়র প্রার্থী মোট প্রাপ্ত ভোটের পরিমাণ ৮ লাখ ৩০ হাজার ১৬২টি।

 

ফলাফল বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, দ্বিতীয় ধাপে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীরা নৌকা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬১২টি; যা প্রদত্ত ভোটের ৬০ দশমিক ০৩ শতাংশ। অপরদিকে বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা পেয়েছেন ২ লাখ ৩১ হাজার ৯৮২টি, যা প্রদত্ত ভোটের ১৭ দশমিক ৯১ শতাংশ।

 

বড় দুই দলের বাইরে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আব্দুর রশিদ রেজা সরকার ২ হাজার ৭০৪ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগের মো. আব্দুল্লা আল মামুনকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের মো. আনোয়ারুল কবির ৮ হাজার ৩০ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগের মো. শামিমুল ইসলাম সানাকে হারিয়ে মেয়র হয়েছেন।

 

সরকারি দলের প্রার্থী হয়েও হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী শ্রীধাম দাশ গুপ্ত জামানত হারিয়েছেন। এ পৌরসভায় ১৫ হাজার ৯৮৭টি ভোটের মধ্যে পড়েছে ১৩ হাজার ১০৫ ভোট। এতে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান ৫ হাজার ৩১ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

 

অপরদিকে ৩০টিতে বিএনপির প্রার্থীরা জামানত তুলতে পারেননি। তারা হলেন- দিনাজপুরের বিরামপুরে মো. হুমায়ন কবির ও বীরগঞ্জের মো. মোশাররফ হোসেন। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভায় মো. শহিদুল ইসলাম, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে আবু খায়ের মো. মশিউর রহমান ও গাইবান্ধা সদরে মো. শহিদুজ্জামান শহিদ। এছাড়া রয়েছেন বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে মো. ছাবিনা ইয়াছমিন, রাজশাহীর ভবানীগঞ্জে মো. আব্দুর রাজ্জাক প্রাং ও আড়ানীতে বিএনপির মো. তোজাম্মেল হক, নাটোরের নলডাঙ্গায় মো. তোজাম্মেল হক, গোপালপুরে শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন (কচি) ও গুরুদাসপুরে মো. আজমুল হক বুলবুল। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় মো. আজাদ হোসেন, বেলকুচিতে মো. আলতাফ হোসেন ও রায়গঞ্জে মো. জাহিদুল ইসলাম এবং পাবনার ঈশ্বরদীতে মো. রফিকুল ইসলাম। মেহেরপুরের গাংনীতে মো. আসাদুজ্জামান বাবলু, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় মো. শামীম রেজা ও মিরপুরে মোহা. এনামুল হক, ঝিনাইদহের শৈলকুপায় মো. খলিলুর রহমান, বাগেরহাটের মোংলাপোর্ট এবং মাগুরা সদরে মো. ইকবাল আখতার খান। নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে মো. মাহবুবুন নবী শেখ, নরসিংদীর মনোহরদীতে মো. মাহমুদুল হক, শরীয়তপুর সদরে অ্যাডভোকেট মো. লুৎফর রহমান ঢালী, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে মো. হারুনুজ্জামান, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মোহাম্মদ আবুল হোসেন ও কুলাউড়ায় কামাল উদ্দীন আহমদ। ফেনীর দাগনভূঞায় কাজী সাইফুর রহমান, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে মো. আবুল বাশার এবং বান্দরবানের লামায় মো. শাহীন জামানত হারিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *