নজর২৪, ঢাকা- রাজধানীর কলাবাগানে ইংলিশ মিডিয়াম মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ‘ও’ লেভেল শিক্ষার্থী আনুশকা নূর আমিন এবং ইফতেখার ফারদিন দিহানের ‘পারস্পরিক সম্মতিতেই’ শারীরিক সম্পর্ক হয়। পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয় আনুশকার। তাকে আনোয়ার খান মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যায় দিহান। সেখানে ভর্তির আগে আনুশকাকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
শুক্রবার (০৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. সাজ্জাদুর রহমান এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘নিজ বাসায় ডেকে পারস্পরিক সম্মতিতে ‘ও’ লেভেল শিক্ষার্থী আনুশকা নূরের সঙ্গে ইফতেখার ফারদিন দিহানের শারীরিক সম্পর্ক হয়। তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অজ্ঞান হবার পর ঘাবড়ে গিয়ে নিজের গাড়িতে করে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আনুশকাকে মৃত ঘোষণা করেন। আনুশকাকে ‘ধর্ষণপূর্বক হত্যা’র ঘটনায় আলামত সংগ্রহ করছে সিআইডি।’
রমনার ডিসি বলেন, ‘তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে গিয়ে লাশ উদ্ধারসহ দিহান নামের ওই ছেলেটিকে আটক করি। তাকে হেফাজতে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে একপর্যায়ে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। তাদের পারস্পরিক সম্মতিতেই শারীরিক সম্পর্ক হয়। এরপর ওভার ব্লিডিং হলে আনুশকা সেন্সলেস হয়। তখন তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে তার মৃত্যু হয়।’
ডিসি সাজ্জাদ বলেন, ‘তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ভিত্তিতে তাদের দৈহিক মেলামেশার বিষয়টি প্রমাণ সাপেক্ষ। এর বাইরে অন্য কোনও কেমিক্যাল কিংবা ট্যাবলেট জাতীয় কিছু ব্যবহার করা হয়েছিলো কি-না, সেটি পরীক্ষার জন্য আলামত সংগ্রহের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’
এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে কলাবাগান থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এরপরও দিহানকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্নভাবে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদেরকে বিনীত অনুরোধ করতে চাই, তার পরিবার বুঝে-শুনে মামলা করেছে। এরপরেও এর সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।’
তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কিংবা অন্য কোনও ইন্ধন থাকলে সেটাও আমরা অত্যন্ত সতর্কভাবে ও কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করবো। এ ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত না করার বিনীত অনুরোধ।
এদিকে আনুশকার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেসনিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, জোর জবরদস্তির কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
আজ শুক্রবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি এ খবর জানান। সোহেল মাহমুদ আরও বলেন, ‘ওই তরুণীকে চেতনানাশক কোনো কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কিনা তা জানতে নমুনা সংগ্রহ এবং ঘটনাস্থলে একাধিক ব্যক্তি ছিল কিনা তা জানতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তার ভিসেরা সংগ্রহ করা হয়েছে।’
