আবারো মাহফিলে ফিরে কুরআনের বাণী শোনাতে চান সাঈদী!

নজর২৪ ডেস্ক- কারাবন্দী মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী আবারও ওয়াজ করতে চান। মানুষকে কুরআনের বাণী শোনাতে চান। শেষবারের মতো করতে চান হজ্বও। আর তার মৃত্যু যেন মদীনাতে হয় এবং মৃত্যুর পর জান্নাতুলবাকীতে তার দাফন চান তিনি।

 

মানবতাবিরোদী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী ছেলে মাসুদ সাঈদী সোমবার বকশি বাজারের আলিয়া মাদ্রাসার অস্থায়ী আদালতে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।

 

মাসুদ সাঈদী বলেন, বাবার সাথে করোনাভাইরাসে কারনে দীর্ঘ নয়মাস পর ৫ মিনিটের জন্য সাক্ষাৎ হয়েছে। তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল হলেও মানসিকভাবে খুবই দৃড় রয়েছেন। দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। আর বলেছেন, এটি মিথ্য মামলা, এটি নিয়ে যাতে কেউ বিভ্রান্ত না হন।

 

মাসুদ সাঈদী আরো বলেন, এটি ভিত্তিহীন মামলা। ২০১০ সালে মামলাটি দায়ের হলেও সরকার চার্জ গঠন করতে পারেনি। হঠাৎ করে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে ফেরাতে এবং দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর চরিত্র হননের উদ্দেশ্যে মামলাটি চালু করা হয়েছে।

 

এদিকে সাঈদীর আইনজীবী মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, এ মামলার তদবিরকারক শামীম সাঈদী ও মাসুদ সাঈদীকে আদালতে প্রবেশ করতে দেওয়া হতোনা। আদালতের দৃষ্টিতে আনার পর তাদেরকে কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। সাঈদী ৮২ বছরের বৃদ্ধ হওয়ায় নিজ খরচে আদালতে আনা-নেয়ার জন্য যানবহনের ব্যবস্থা করতে আবেদন করলে আদালত তাও মঞ্জুর করেছেন বলে জানান তিনি।

 

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ মামলাটির মোট আসামি ৬ জন। বাকিরা হলেন- ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ লুৎফুল হক, মসজিদ কাউন্সিল ফর কমিউনিটি অ্যাডভান্সমেন্টের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, বন্ধুজন পরিষদের প্রধান সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ ইউনুস, ইসলামী সমাজ কল্যাণ কেন্দ্রের সাবেক সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ কাউন্সিলের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল হক।

 

আসামিদের মধ্যে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী কারাগারে আছেন। আবুল কালাম আজাদ এবং আব্দুল হক পলাতক রয়েছেন। অপর তিন আসামি জামিনে আছেন।

 

ইফার যাকাত তহবিলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) আইয়ুব আলী চৌধুরী ২০১০ সালের ২৪ মে শেরেবাংলা নগর থানায় এ মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক ওয়াজেদ আলী গাজী ২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতে মামলাটির চার্জশিট দাখিল করেন।

 

২ কোটি ২৭ লাখ ৪০ হাজার ১২০ টাকা আয় গোপন করে তার ওপর প্রযোজ্য ৫৬ লাখ ৪৬ হাজার ৮১২ টাকা কর ফাঁকির অভিযোগে ২০১১ সালের ১৯ আগস্ট মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। পরের বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর এই মামলায় চার্জ গঠন করেন আদালত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *