প্রতিশোধ নেওয়ার ইচ্ছা নেই, আমি সে ধরনের মানুষও না: রুনা লায়লা

কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা। স্রষ্টা যাকে দিয়েছেন কণ্ঠ দিয়ে একটি নয়, দুটি নয় তিন তিনটি ভূখন্ড শাসন করার ক্ষমতা। আজ ১৭ নভেম্বর তার জন্মদিন। সত্তরে পা রাখলেন তিনি। তবে রুনা লায়লা মনে করছেন তার বয়স বাড়েনি। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন তার বয়স ১৭। এবার জানালেন ওখানেই আটকে আছেন তিনি।

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি। গত বছর বলেছিলেন, আপনার বয়স ১৭ বছর। এবার বাড়ল, নাকি ওখানেই থেমে আছে?এ প্রশ্নের উত্তরে রুনা লায়লা বলেন, কোনো বয়স বাড়েনি। বয়স আমার ওখানেই (১৭) আটকে আছে (হাসি)।

আরও পড়ুন-

আমি অসংখ্য সুপারহিট সিনেমা উপহার দিয়েছি, ইতিহাস মোছা যায় না: অঞ্জনা

বিয়ে করেছেন মেহজাবীন, থাকছেন গুলশানে

ঢাকা ফিরেই সুখবর দিলেন শাকিব খান

বয়স ধরে রাখার ধরে রাখার রহস্য প্রসঙ্গে কিংবদন্তি এ গায়িকা বলেন, মনটায় তারুণ্য ধরে রাখলে বয়সও আটকে থাকে। খুবই সিম্পল হিসাব (হাসি)।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাধা তো অনেক এসেছে জীবনে কিন্তু একটা বিষয় হচ্ছে, কারও কাছে কোনো দিন যেচে কাজ চাইতে হয়নি। আমাকে দিয়ে গান গাওয়াও, এটা বলতে হয়নি। আল্লাহর রহমতে সবাই আমার নিজের কাছেই এসেছে গানের প্রস্তাব নিয়ে। বাধা এলে ওপরওয়ালা বিচার করেন, তিনি একজন তো আছেন, সব দেখেন।

বাধা কীভাবে মোকাবিলা করেছেন? হতাশ হয়েছিলেন কি না?, রুনা লায়লা বলেব, কখনোই ভেঙে পড়িনি। ওপরওয়ালার ওপরে অনেক বেশি বিশ্বাস ছিল। সব সময় ভেবেছি, আমার মধ্যে যদি ট্যালেন্ট থাকে, সব বাধা অতিক্রম করব। আমার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল, মানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা। এটা কোনোভাবে আমাকে মন খারাপ বা হতাশায় পড়তে দেয়নি। সবচেয়ে বড় বিষয়, আমার পরিবারের সদস্যরা সব সময় পাশে ছিল।

গানের কারণে আপনার শ্রোতারা আপনাকে ভালোবেসেছেন। কিন্তু এই অঙ্গনের ভেতরকার নোংরা রাজনীতির খবর তো তাঁরা জানতেন না। এসব বাধা কীভাবে কাটিয়ে উঠেছেন?

গুণী এই শিল্পী বলেন, আমি যে নানাভাবে বাধার মুখোমুখি হয়েছি, এসব নিয়ে তো তখন অনেক লেখালেখি হয়েছে। তাই আমার গান সম্পর্কে যেমন শ্রোতারা জানত, তেমনি আমার সঙ্গে যা ঘটছে, এসবও তারা জানত। আমার পরিবারও জানত। এত বেশি লেখালেখি হয়েছিল যে আমার কাউকে বলতেও হতো না। আমার সঙ্গে কেন এমনটা হচ্ছে, সেটাও ভক্তদের বুঝতে সমস্যা হয়নি। আর এসব নেতিবাচক বিষয়ে আমি উত্তেজিত হয়েছি বা ভয় পেয়ে গেছি, তেমনটা কখনো ঘটেনি। যারা আমাকে নিয়ে নেগেটিভিটি ছড়াচ্ছে, তাদের ভুল একদিন ভাঙবে, এই বিশ্বাস ছিল। সব সময় ভেবেছি, আল্লাহ তাআলা সব দেখছেন, ভালো করলেও সেটার বিচার পৃথিবীতে পাওয়া যায়, খারাপ করলেও হয়। তাই মন থেকে কখনো কাউকে বদদোয়া দিইনি, দেবও না।

সব সময় যারা আমার বিপক্ষে গেছে, তাদের সম্পর্কে ভালোই বলেছি। আমি আমার মতো আছি। গান নিয়ে আছি, পরিবার নিয়ে হ্যাপি আছি। তাই কে কী বলল, তা নিয়ে আমার কিছু যায়–আসে না। পরোয়াও করি না। আমি সব সময় সোজা পথে চলেছি। কারও ক্ষতি করিনি, করার ইচ্ছাও ছিল না, নেইও। কোনো দিন হবে না। যতটা পারব মানুষের উপকার করব, সে যতটা আমার সঙ্গে খারাপ করুক। প্রতিশোধ নেওয়ার ইচ্ছা কোনো দিন জাগেনি, জাগবেও না। আমি সে ধরনের মানুষও নই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *