একদিন আকাশের ওপারে একসঙ্গে ফুটবল খেলব: ম্যারাডোনার মৃত্যুতে পেলে

স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক- সর্বকালের সেরা ফুটবলার কে? ডিয়েগো ম্যারাডোনা নাকি কালো মাণিক পেলে। কারও কাছে ম্যারাডোনা আবার কারও কাছে পেলে। সেই বিতর্ক আপাতত থাক।

 

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেছেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার ডিয়েগো ম্যারাডোনা। তার মৃত্যুতে শোকবিহ্বল পেলে। শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন তার সঙ্গে এক সাথে খেলবেন আকাশে।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে তার মৃত্যুর বিষয়টি জানানো হয়েছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। এর আগে বেশ কয়েক দিন অসুস্থ ছিলেন ফুটবলেন এই যাদুকর।

 

তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা ক্রীড়াঙ্গনে। ম্যারাডোনার মৃত্যুতে তাঁর সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলেরও মন কাঁদছে।

 

এক বিবৃতিতে পেলে জানিয়েছেন, ‘এটা আমার জন্য খুবই দুঃখের একটি সংবাদ। আজ আমি একজন বন্ধু হারালাম আর বিশ্ব হারাল এক কিংবদন্তীকে। এখনও কতকিছু বলা বাকি কিন্তু এই সময়ের জন্য সৃষ্টিকর্তা তাঁর পরিবারকে শক্তিদান করুন। আশা করছি একদিন আমরা এক সঙ্গে আকাশের ওপর ফুটবল খেলবো।’

 

ফুটবলের প্রতি ম্যারাডোনার ভালোবাসা প্রকাশ পায় তাঁর একটি বচনে। তিনি একবার বলেছিলেন, ‘আমি যদি সাদা পোশাক পরে কখনও কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানেও যাই আর সেখানে যদি কাঁদা মাখা কোনো বল আমার দিকে আসে তাহলে আমি সেটা বুক দিয়েই থামাবো। দ্বিতীয়বার এটা নিয়ে আমি ভাববো না।’

 

খবরে প্রকাশ, কিছুদিন আগে মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল ম্যারাডোনাকে। অস্ত্রোপচারের পর সপ্তাহ দুয়েক আগে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন তিনি। পুরোপুরি সেই অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠার আগেই হার্ট অ্যাটাক হয়েছে তার। তাতেই ফুটবল বিশ্বকে কাঁদিয়ে শেষ বিদায় জানিয়ে দিলেন ম্যারাডোনা।

 

আর্জেন্টিনার এ কিংবদন্তি দারুণ ফুটবলে যেমন নন্দিত ছিলেন, তেমনটি নিন্দিতও ছিলেন বেপরোয়া জীবনযাপনের কারণে। বিশেষ করে, কোকেন সেবন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল তার ফুটবল ক্যারিয়ারে। যে কারণে ১৯৯৪ বিশ্বকাপে খেলাই হয়নি এই কিংবদন্তির। ১৯৯১ সালে ড্রাগ পজিটিভ হয়ে ১৫ মাস নিষিদ্ধ ছিলেন তিনি।

 

তবে ম্যারাডোনাকে বিশ্ব মনে রাখবে তার অসম্ভব সুন্দর ফুটবল কারুকার্যের জন্য। মাঠের সবুজ গালিচায় তার পায়ের তুলিতে আঁকা অসংখ্য মুহূর্ত ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতির পাতায় সাজানো থাকবে চিরকাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *