স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক- ডিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনার মৃত্যু যেন হঠাৎ করেই বিষাদের এক কালো ছায়া টেনে দিয়েছে সারা বিশ্বের ক্রীড়াঙ্গনের ওপর। সারা বিশ্বের খেলাপ্রেমী মানুষের হঠাৎই সংবাদ হজম করতে কষ্ট হচ্ছে।
ফুটবল থেকে অবসরের পর ম্যারাডোনার সঙ্গে অসুস্থতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। তবে ৬০তম জন্মদিন পালন করার পর এভাবে হঠাৎ তিনি চলে যাবেন, কেউ ভাবতে পারেননি। তেমনই বাংলাদেশের সাবেক ওয়ানডে অধিনায় মাশরাফি বিন মর্তুজাও।
১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনাকে প্রায় একাই বিশ্বকাপ জেতানো এই কিংবদন্তির মৃত্যেতে নিজের ফেসবুক পেজে শোক প্রকাশ করে পোস্ট দিয়েছেন মাশরাফি।
লিখেছেন, ‘শোকের পরে শোক চলছে। তোমার থেকে বড় সুপারস্টার আমার চোখে আর কেউ ছিল না, আর আসবেও না। তোমার বা পায়ের আঁকা নিখুঁত গোলের ছবিগুলো মনের ক্যানভাসে থেকে যাবে আজীবন। ভালো থেকো ওপারে যাদুকর, দ্য ড্রিবলিং মাস্টার। ডিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা।’
আর্জেন্টাইনদের কাছে ফুটবল মানেই এক আবেগের নাম। সেই আবেগের পূর্ণতা এসেছিল যে ব্যক্তিটির হাত ধরে, তিনি দিয়াগো ম্যারাডোনা। ১৯৮৬ সালে ২৬ বছর বয়সী ম্যারাডোনার হাতে ছিল অধিনায়কের আর্ম ব্যান্ড। সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া যাকে বলে, তার সাক্ষাৎ উদাহরণ হয়েছিলেন সে বছরের বিশ্বকাপের আসরে।
পায়ের জাদুতে গোটা বিশ্বকে মুগ্ধ করে জিতে নিয়েছিলেন গোল্ডেন বল। তবে ব্যক্তিগত এই অর্জন নয়, সেবার দল হিসেবে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপে জিতিয়েই ম্যারাডোনা হয়ে যান আর্জেন্টাইনদের নয়নের মনি।
ফকল্যান্ড যুদ্ধ ঘিরে ঘটনাবহুল সেই বিশ্বকাপেই আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড মহারণে গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনাকে গোল উপহার দিয়ে উল্লাসে ভাসিয়েছিলেন ম্যারাডোনা। রিপ্লেতে সেই গোলে হাতের স্পর্শ পাওয়ার পর সেটি ‘দ্য হ্যান্ড অব গড’ হিসেবে খ্যাতি লাভ করে সারা দুনিয়ায়।
ম্যারাডোনার ভক্ত হয়েই আর্জেন্টিনার সাপোর্টার হয়ে উঠেছিলেন মাশরাফি। এর আগে এক সাক্ষাৎকারে মাশরাফি বলেছিলেন, ‘আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করার একটাই কারণ—ম্যারাডোনা। তবে আর্জেন্টিনাকে সাপোর্ট করি বলে অন্য দলকে অসম্মান করার মতো মানসিকতা নেই আমার। বাংলাদেশ ফুটবল বিশ্বকাপে না খেলা পর্যন্ত আমি আর্জেন্টিনাকে সাপোর্ট করবো। সামনের বিশ্বকাপে হয়তো মেসি থাকবে না। তবে যে-ই থাকুক, আমার সাপোর্ট আর্জেন্টিনার দিকেই থাকবে। কারণ একটাই—ম্যারাডোনা!’
উল্লেখ্য, বুধবার (২৫ নভেম্বর) হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন ম্যারাডোনা। সপ্তাহ দুয়েক আগেও হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ছিল। সে যাত্রায় চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন। কে জানত, সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই সবকিছুর ঊর্ধ্বে চলে যাবেন তিনি।
