মাহফুজ আজমেদ। ৯০ দশকে টিভি নাটকে তার উত্থান। এক সময় শীর্ষ নায়কদের একজন বনে যান তিনি। তারপর পথচলা শুরু করেন চলচ্চিত্রে। ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘২ দুয়ারি’, ‘জিরো ডিগ্রি’ , ‘জয়যাত্রা’, ‘লাল সবুজ’সহ বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করে প্রশংসিত হন তিনি।
৮ বছর পর প্রহেলিকা দিয়ে অভিনয়ে ফিরেছেন। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন অসংখ্য দর্শকপ্রিয় নাটকের নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী। সেখানে মাহফুজ আহমেদের বিপরীতে অভিনয় করেছেন সময়ের ব্যস্ত নায়িকা শবনম বুবলী। ঈদে মুক্তি পাওয়া এই চলচ্চিত্রটি বেশ সাড়া ফেলেছে দর্শকদের মাঝে। এটি নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত মাহফুজ আহমেদ।
সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, দর্শকদের কথা বলে শেষ করা যাবে না। আমার মায়ের বয়সী দর্শকরা প্রহেলিকা দেখে আমার সঙ্গে কথা বলেছেন, আমার জন্য মন ভরে দোয়া করেছেন, আমি মনে করি জীবনে যদি কোনো পুণ্য করি তার প্রাপ্য ওটা। পরিবার নিয়ে মানুষজন প্রহেলিকা দেখতে আসছেন। তারা ভূয়সী প্রশংসা করছেন। এই মুগ্ধতার ভাষা আমার জানা নাই। ৮ বছর পর অভিনয়ে ফিরেছি। কী হবে কী হবে না এইরকম না ভেবে মন দিয়ে শুধু অভিনয়ই করেছি। কিন্তু প্রহেলিকা আমাকে দিয়েছে মানুষের ভালোবাসা। আমার জীবন এখন প্রহেলিকাময়।
শাকিব খান, আফরান নিশোকে নিয়ে তিনি বলেন, দেখুন, শাকিব খানের সঙ্গে আমার খুব ভালো একটা সম্পর্ক। একজন মানুষ একাই বছরের পর বছর ধরে ঢাকাই সিনেমাকে টেনে নিয়ে আসছেন। তার অবদান অনেক। এখনো অভিনয় করছেন। তার একটা বিশাল ভক্ত আছে। আমি মনে করি, শাকিব খান কমার্শিয়াল সিনেমার অপরিহার্য নায়ক। এই কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। তার প্রিয়তমার জন্য শুভকামনা। অন্যদিকে আফরান নিশো কাছের ছোট ভাই। ভীষণ ভালো অভিনয় করে। তার প্রথম সিনেমা সুড়ঙ্গ মুক্তি পেয়েছে। দর্শকরা দেখছেন। নিশোর জন্য ভালোবাসা। সুড়ঙ্গ নিশোর জন্য বড় একটি উপহার। আমার কথা হচ্ছে শত ফুল ফুটতে দাও। ফুল যদি একটিই হতো তাহলে গোলাপ ছাড়া অন্য ফুলের দরকার ছিল না। আমাদের গোলাপ যেমন দরকার, বুনোফুলও দরকার।
ছোটপর্দায় অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পাওয়া মাহফুজ আহমেদ প্রথম বড়পর্দায় কাজ করেন ১৯৯৭ সালে হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ ছবিতে। সেখানে তার সহশিল্পী ছিলেন জাহিদ হাসান, মেহের আফরোজ শাওন ও মুক্তি। ‘প্রহেলিকা’ মাহফুজ অভিনীত ১৭ নম্বর সিনেমা।
অসংখ্য নাটকেও অভিনয় করেছেন মাহফুজ আহমেদ। প্রযোজনাও করেছেন বেশ কয়েকটি। যদিও এই অভিনেতার কর্মজীবন শুরু হয়েছিল সাংবাদিকতা দিয়ে। আশির দশকে তিনি ‘পূর্ণিমা’ নামে একটি পত্রিকার বিনোদন সাংবাদিক হিসেবে কাজ করতেন। ১৯৮৯ সালে সেখান থেকেই আসেন অভিনয়ে।
