টাকা পরিশোধের শর্তে হলেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি ডটকম লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা মো. রাসেলের জামিন প্রার্থনা করেছেন তার আইনজীবী।
রোববার (১৪ মে) বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চে জামিন আবেদনের শুনানিতে এ প্রার্থনা জানান তার আইনজীবী।
জামিনের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে আদালতে রাসেলের পক্ষে আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, এই মামলায় তাকে জেলে রেখে সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে হয়তো তার পাচঁ বছর জেল হবে বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা হবে, বা উভয়দন্ড হবে। তাতে পাওনাদারদের তেমন কোনো লাভ হচ্ছে না। বরং তাকে শর্ত সাপেক্ষে জামিন দিলে পাওনাদারের তাদের টাকা ফিরে পাবেন। এজন্য প্রয়োজনে তাকে টাকা ফেরত দেওয়ার শর্তজুড়ে দেওয়া হোক। এমন উদাহরণ দেশ বিদেশে অনেক রয়েছে বলেও তিনি জানান।
রাজধানীর বাড্ডা থানায় করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় মো. রাসেলের জামিন আবেদনের শুনানি শেষে সোমবার আদেশের জন্য রাখেন হাইকোর্ট। আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আহসানুল করীম।
পরে আহসানুল করীম বলেন, এ মামলায় রাসেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, সে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে প্রতারণা করেছে। টাকা নিয়ে পণ্য দেয়নি। এটাই ছিল তার বিরুদ্ধে অভিযোগ। এখন আমাদের বক্তব্য হলো যে ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন, তিনি তার টাকা বুঝে পেয়েছেন। এখন তার কোনো দাবি নাই।
দ্বিতীয়ত আমাদের বক্তব্য হচ্ছে- এই মামলায় তাকে জেলে রেখে সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে হয়তো তার পাচঁ বছর জেল হবে বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা হবে, বা উভয়দন্ড হবে। এখন তাকে জেলে রেখে তো কেউ আর টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। তার থেকে ভালো হবে আদালত শর্ত সাপেক্ষে যাতে সে সবার টাকা ফেরত দেয় সেই শর্তে তাকে জামিন দেয়া হোক। টাকা পরিশোধে শর্তে তাকে জামিন দিলে পাওনাদারেরাই লাভবান হবেন।
প্রতারণার দায়ে ২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর মো. রাসেল তার স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার হন। ওইদিন বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। পরে অবশ্য তার স্ত্রী জামিনে মুক্তি পান।
