ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ শঙ্কায় কক্সবাজারে জারি করা হয়েছে মহাবিপৎসংকেত। মোখার প্রভাবে সাগরের উত্তাল ঢেল দেখতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ভিড় করেছেন ৩০ হাজারের বেশি উৎসুক জনতা। সাগর সৈকত থেকে পর্যটক ও স্থানীয়দের সরিয়ে দিতে হিমশিম খাচ্ছেন পুলিশ ও সৈকতে দায়িত্বরত কর্মীরা। পরে তাদের সৈকত থেকে সরাতে মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি সদস্য। তারা টহল দিচ্ছেন। সৈকত খালি করতে তৎপর হয়েছেন।
শনিবার রাতে বিজিবি সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। বার্তায় বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে উত্তাল সাগর দেখতে সৈকতে ভিড় করা উৎসুক পর্যটকদের সরাতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম জানান, শনিবার সকাল থেকে সীমান্তবর্তী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম বার্তা পৌঁছে দিতে মাঠে নেমেছে বিজিবি। ঘরে ঘরে যাচ্ছেন বিজিবি সদস্যরা। সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য বলা হচ্ছে।
এ বিষয়ে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আগাম প্রস্তুতি হিসেবে টেকনাফে আমার ব্যাটালিয়নের দায়িত্বাধীন এলাকায় ৫০০ সৈনিক মাঠে তৎপর। তারা প্রতিটি বাড়িতে যাচ্ছেন। এলাকাবাসীদের ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কার কথা জানাচ্ছেন। তাদের সাইক্লোন শেল্টার বা নিকটবর্তী আশ্রয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, বৈরী আবহাওয়ার সুযোগে সীমান্ত অপরাধ যাতে না বাড়ে, এ জন্য সীমান্তে নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার সকাল থেকেই কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে পর্যটকদের আনন্দ উল্লাস ও হইচই করতে দেখা গেছে। অনেকেই সাগরে গোসল করেছেন। যদিও মোখার প্রভাবে সৈকতে বিপৎসংকেত ‘লাল’ পতাকা টানানো হয়েছে। এমন অবস্থায় পর্যটকদের নিরাপদে থাকতে ও দ্রুত সমুদ্র থেকে উঠে যেতে মাইকিং করছেন বিচ কর্মীরা।
এজন্য সমুদ্রে গোসলে নেমে কোনো পর্যটক যেন বিপদে না পড়ে, সে জন্য জেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও লাইফগার্ড বাহিনীর পক্ষ থেকে চালানো হয় সতর্কতামূলক প্রচারণা।
