আমি ওর সঠিক বিচার চাই: মুন্নার বাবা

নজর২৪ ডেস্ক- রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা মৃত নারীদের ধর্ষণকারী মুন্না ভগতের বিচার চাইলেন তার বাবা দুলাল ভক্ত। তিনি বলেছেন, ‘আমার ছেলে মুন্না ভগত যেখানে কাজ করত সেখানে নাকি নোংরা, নিকৃষ্ট একটা কাজ করেছে। তবে মুন্না যে কাজ করেছে তা অন্যায়, আমি ওর সঠিক বিচার চাই।’

 

দুলাল ভক্ত’র বাড়ি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌর এলাকায়। এর আগে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) হাতে গ্রেপ্তার হয় ডোমের সহযোগী মুন্না।

 

দুলাল ভক্ত বলেন, গোয়ালন্দ আইডিয়াল হাইস্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করেছিলেন মুন্না। তিন বছর আগে মুন্না পড়াশোনা বাদ দেন। স্থানীয় মাদকাসক্ত ও বখাটে ছেলেদের সঙ্গে মিশে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে ডোম হিসেবে কাজ করা মুন্নার বড় মামা যতন কুমারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আড়াই বছর আগে মুন্না ঢাকায় চলে যান। মামার কাছে থেকে ডোমের কাজ শিখতেন।

 

তিনি বলেন, ছেলের গ্রেপ্তারের খবর তিনি যতন কুমারের কাছে পান। এলাকার অনেক লোকজন এটা নিয়ে নানারকম কথাবার্তা বলছে। তবে মুন্না যে কাজ করেছে তা অন্যায় আমি ওর সঠিক বিচার চাই। এ কথা বলে কেঁদে ফেলেন মুন্নার বাবা।

 

স্থানীয় ওই এলাকার বাসিন্দা স্বপন ভক্ত বলেন, মুন্নার কথাবার্তা আচার আচরণ আগে থেকেই খুব খারাপ ছিলো, তবে সে মাঝে মধ্যে নেশা করতো বলে শুনতাম। পরে আমাদের এখান থেকে মুন্না ঢাকায় কাজের জন্য চলে যায়, যদি মুন্না এতো জঘন্য কাজ করে থাকে আমরা তার বিচার চাই।

 

গোয়ালন্দ পৌরসভার সুইপার কলোনির বাসিন্দা রাজেশ ভক্ত বলেন, নিজে মানুষ হয়েও যে মৃত মানুষের সাথে এ রকম কাজ করে সেকি মানুষ নাকি অন্যকিছু। আমি ওর সঠিক বিচার চাই। এমন বিচার হওয়া উচিত যে, পৃথিবীতে যে কোনে মানুষ আর এই জঘন্য কাজ না করতে পারে।

 

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল তায়াবী বলেন, মুন্না ভক্তের নামে থানায় কোনো অভিযোগ নেই। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে মুন্নার বিষয়টি তিনি জানতে পারেন।

 

এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় মুন্না ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জবানবন্দিতে অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করলেও সে কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত নয় বলে জানায়।

 

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৯ মার্চ থেকে চলতি বছরের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত অন্তত পাঁচজন মৃত কিশোরীর মরদেহ ধর্ষণ করা হয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *