প্রতিবছর মার্চ মাসের ৮ তারিখ বিশ্বজুড়ে উদ্যাপিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস। লিঙ্গবৈষম্য দূর করে নারীর প্রতি সম্মান ও সমানাধিকার জানাতেই দিবসটি উদ্যাপিত হয়। চলতি বছরও এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না। এটি এমন একটা দিন, যা সূচনাপর্ব থেকে জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে নারীদের সম্মানের কথা মনে করিয়ে দেয়।
দিবসটি ঘিরে সোশাল হ্যান্ডেলে বয়ে যাচ্ছে নানান আলাপ। এই দিনটিকে একজন নারী তারকা ঠিক কোন দৃষ্টিতে বিবেচনা করেন। তিনি যদি সিঙ্গেল মাদারের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, তাহলে তো সেই অভিজ্ঞতা শোনা জরুরি। সেই তারকার গতিবিধি যদি আন্তর্জাতিক হয়, তবে তো দেশের প্রেক্ষাপটে বিদেশের নারীচিত্রটাও তুলে আনা দরকার।
মূলত এসব ভাবনা থেকেই সংবাদমাধ্যম কথা বলেছে দুই বাংলার অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলার সঙ্গে।
প্রথমেই নারী দিবস নিয়ে তিনি বলেন, ২০২৩ সালে এসে এখনও নারীদের সম অধিকার দাও, বাল্যবিবাহ বন্ধ করো, নির্যাতন বন্ধ করো, চাকরি দাও, রেপ বন্ধ করো, মানসিক নির্যাতন করো না- এই কথাগুলো বলতে হয়। এটা খুব ক্লান্তিকর একটা বিষয়।
হুম অনেকে বলবে নারীরা এখন অনেক এগিয়েছে। বিমান চালাচ্ছে পাহাড়ে উঠছে…। কিন্তু হিসাব করলে তো সেটা নিতান্তই তলানিতে থাকবে, বিপরীত লিঙ্গের তুলনায়। বিষয়টা কিন্তু এমন না, নারীরা মেধায় যোগ্যতায় পুরুষের চেয়েও কম। আসলে কাঠামোটাই এমন করে রাখা হয়েছে। একজন নারীকে আগাতে গেলে যে প্রতিবন্ধকতা পেরুতে হয়- সেটাই আসলে পুরুষের সঙ্গে ভারসাম্যহীন ব্যবধান করে রেখেছে।
সিঙ্গেল মাদার
আমি বিবাহিত হয়েও সত্যিই একজন সিঙ্গেল মাদার! কারণ আমার মেয়ের (আইরা) লালন-পালন, লেখা-পড়া, বড় করার সকল দায়-দায়িত্ব আমারই। তবে হঁ্যা, আমার আসেপাশে একটা সাপোর্ট সিস্টেম আছে। যেমন আমার আব্বু-আম্মু, শাশুড়ি, ভাই-বোন সবাই আমাকে সাপোর্ট দিয়েছে সর্বোচ্চ। সেটা ছাড়া আমার কিছু করাই সম্ভব ছিলো না।
আফ্রিকা অঞ্চলে একটা প্রবাদ আছে, ‘ইট টেকস আ ভিলেজ টু রেইজ আ চাইল্ড’। এর মানে হচ্ছে, সন্তান প্রতিপালনের জন্য প্রয়োজন পরিবার ও সমাজের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। সেখানে একজন সিঙ্গেল মাদারের জন্য আরও অনেক বেশি সহযোগিতার প্রয়োজন পড়ে সমাজের পক্ষ থেকে। কারণ, সেই সন্তানের মা প্রাথমিক এবং একমাত্র অভিভাবক। অথচ আমাদের এই সমাজ, সিঙ্গেল মাদারদের নিয়ে সেভাবে কি ভেবেছে কখনও! ভাবেনি, বরং সন্তান ও মায়েরা নানাভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হতে হতে নিজেদের টিকিয়ে রাখে।
