গভীর সমুদ্রে ৫ ঘণ্টা আটকে ছিলেন চয়নিকা চৌধুরীর ‘প্রহেলিকা’ সিনেমার শুটিং ইউনিটের সবাই। সেখানে ছিলেন চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী, অভিনেতা মাহফুজসহ আরও অনেকে।
সেন্ট মার্টিন ও ছেঁড়া দ্বীপের বিভিন্ন লোকেশনে সিনেমাটির গানের দৃশ্য ধারণ শেষে গত মঙ্গলবার বিকেলে সমুদ্রপথে কক্সবাজার ফিরছিল শুটিং ইউনিট। পরিচালক চয়নিকা চৌধুরীর নেতৃত্বে বেলা আড়াইটায় সেন্ট মার্টিন ছেড়ে আসেন তারা। সাধারণভাবে ১০টায় কক্সবাজার ফেরার কথা। কিন্তু তারা ফিরেছেন বুধবার সকাল ৬টায়। পরিচালক জানিয়েছেন, পাঁচ ঘণ্টা গভীর সমুদ্রে আটকে ছিলেন তারা।
বিষয়টি নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে জানিয়েছেন চয়নিকা চৌধুরী। লিখেছেন, ‘মধ্যসাগরে আমরা আটকে আছি টানা পাঁচ ঘণ্টা। রাত ৯টা থেকে ২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত আমরা “প্রহেলিকা” টিম কর্ণফুলী ক্রুজ লাইনের এমভি বে ওয়ানে আছি মাঝসমুদ্রে। দূর থেকে দেখেছি, ভাটার কারণে আমাদের শিফট করে নিয়ে যাওয়া জাহাজটার কী অবস্থা। কী যে যাচ্ছে সময়টা। সবাই উপরওয়ালাকে ডাকছে। ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ শামসুজ্জামান ও শাহাদাত সোহেল ভাইয়ের পারদর্শিতার কথা বলতেই হয়। কিন্তু আমাদের কাছে পুরোটাই অসম্ভব মিরাকল ছিল।’
মধ্যসাগরে আটকে থাকার মুহূর্তটা ভয়ংকর ছিল উল্লেখ করে সংবাদমাধ্যমকে মাহফুজ বলেন, ‘মধ্যসমুদ্রে আমরা আটকা পড়ব, ভাবতেও পারিনি। যে পরিস্থিতির মধ্যে আমরা পড়েছি, এমনটা নাকি কখনো হয় না। বারবার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছিল, অস্বাভাবিক পরিস্থিতি আমরা ফেস করছি। এমভি বে ওয়ান থেকে যে জাহাজ আমাদের কক্সবাজার নিয়ে যাবে, অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণে সেটিও কাছে আসতে পারছিল না। সব মিলিয়ে ভয়ংকর একটা সময় গেছে।’
জানা গেছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে তিন দিন ধরে কর্ণফুলী এক্সপ্রেস জাহাজটি কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিন-কক্সবাজার পথে যাত্রীসেবা বন্ধ রেখেছে। এই সময়টা এমভি বে ওয়ান জাহাজ সেন্ট মার্টিন থেকে কক্সবাজার পথের যাত্রীদের আনার কাজটিতে সহযোগিতা করেছে। কিন্তু এমভি বে ওয়ান কক্সবাজার পর্যন্ত আসে না। তাই যাত্রীদের গভীর সমুদ্রে এমভি বে ওয়ান থেকে বারো আউলিয়া জাহাজ ধরে আসতে হয় কক্সবাজার।
মাহফুজ-বুবলীরাও এই পদ্ধতিতে আসছিলেন। কিন্তু বার আউলিয়া জাহাজের যাত্রীর ধারণক্ষমতা ৬০০। অন্যদিকে এমভি বে ওয়ানে এদিন যাত্রীসংখ্যা হাজারের বেশি ছিল। তাই দুই ধাপে যাত্রী পাড় করেছে জাহাজটি। এ কারণেই পাঁচ ঘণ্টা মধ্যসাগরে আটকে থাকতে হয়েছিল মাহফুজ-বুবলীদের।
