চলতি বছর মুক্তি পাওয়া ‘পরাণ’ ও ‘হাওয়া’ ছবি দুটি সুপারহিট হয়েছে। দুটিতেই প্রাণভোমরা হিসেবে দেখা যায় শরিফুল রাজকে। পরপর ছবি দুটির সাফল্যে এক লাফে পারিশ্রমিক বাড়িয়ে দিয়েছেন আলোচিত নায়ক রাজ। জানা যায়, আগামীর জন্য তিনি ছবি প্রতি ৩০ লাখ পারিশ্রমিক হাঁকাচ্ছেন!
বর্তমানে রাজের হাতে আছে গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘কাজল রেখা’ ছবি। মুক্তির অপেক্ষায় আছে ‘দেয়ালের দেশ’ নামে আরেক ছবি। এসব শুটিং আগেই শুরু হয়েছে। তবে নতুন করে ছবি শুরুর আগে ‘আইসক্রিম’ ছবির এই অভিনেতা নিজের পারিশ্রমিক বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে জানা যায়।
অনেকে তার এই পারিশ্রমিক আকাশচুম্বী মনে করলেও রাজ মনে করছেন বিষয়টি স্বাভাবিক। এর ব্যাখ্যাও তিনি দিয়েছেন। বলেছেন, ‘একজন আর্টিস্ট কতদিন পর কত টাকা পারিশ্রমিক নেবেন, এটা কে ঠিক করে দেবেন? আমার কথা যদি বলি, আমি কিন্তু এক মাসের মধ্যে একটা সিনেমা করি না। আমার দীর্ঘ সময় লাগে। তো সেই আট-নয় মাস আমার জীবনযাপনের খরচ তো মেটাতে হবে। যেহেতু আমার এটাই পেশা। সেই হিসাবেই আমি পারিশ্রমিক চাচ্ছি।’
এদিকে চলতি বছর রাজের দুটি সিনেমা আলোচনায় আসলেও চলচ্চিত্রাঙ্গনে তার আসন এখনও মজবুত হয়নি! যেতে হবে বহুদূর। ঠিক এ সময় এমন চোখ কপালে ওঠা পারিশ্রমিক হাঁকানো কতটা যৌক্তিক এবং চলচ্চিত্রের জন্য তা কতটা সুফল বয়ে আনবে। এ প্রসঙ্গে একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে এবার কথা বললেন কিংবদন্তি পরিচালক কাজী হায়াৎ।
কাজী হায়াৎ মনে করেন এটি রাজের ব্যক্তিগত ব্যাপার। তিনি বলেন, ‘একজন আর্টিস্ট কতো পারিশ্রমিক দাবি করবেন তা তার ব্যক্তিগত বিষয়। রাজের ক্ষেত্রেও তাই। তিনি এক টাকাও দাবি করতে পারেন, ৩০-৪০ লাখও দাবি করতে পারেন।’
দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে চলছে ক্রন্তিকাল। সে মুহূর্তে মোটা অংকের পারশ্রমিক দাবি শিল্পের জন্য সুফল বয়ে আনবে কি না—জানতে চাইলে কাজী হায়াত বলেন, ‘এই প্রশ্নের জবাব দিতে হলে আগে বের করতে হবে সিনেমায় লগ্নি করছেন কে, তার উদ্দেশ্য কী! লগ্নিকারীর উদ্দেশ্য যদি থাকে তারকাদের সঙ্গে ওঠাবসা-মেলামেশা করা, তাহলে তিনি আরও বেশি পারিশ্রমিক দিতে পারেন। আর যদি লগ্নিকারীর লক্ষ্য থাকে সিনেমার মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পুরস্কার-সম্মাননা অর্জন, তাহলে টাকার বিষয়টা গৌণ।
তবে প্রযোজকের যদি এই বাজারে সিনেমা বানিয়ে ব্যবসা করতে চান, লগ্নিকৃত অর্থ ঘরে তুলতে চান তবে এত টাকা পারিশ্রমিক দেওয়াটা হবে একেবারেই ভুল সিদ্ধান্ত।’
