১০-১৫ বছর আমাকে গান গাইতে দেওয়া হয়নি: সামিনা চৌধুরী

শিল্পীজীবন সমৃদ্ধ হয় ভালো গানে। যার গানের বাণী, সুর, চমৎকার গায়কী- সব কিছুতেই পরিপূর্ণ। তিনি আর কেউ নন, সবার প্রিয় শিল্পী সামিনা চৌধুরী।

‘কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে রাতের নির্জনে, জোনাকির আলো নেভে আর জ্বলে শাল মহুয়ার বনে’ অথবা তার কণ্ঠে ‘ওই ঝিনুক ফোটা সাগর বেলায়’, ‘ফুল ফোটে ফুল ঝরে’, ‘আমার মাঝে নেই এখন আমি’, ‘এই জাদুটা সত্যি হয়ে যেত’ প্রভৃতি গান কণ্ঠে তুলে মানুষের হৃদয়ে চিরদিনের জন্য জায়গা করে নিয়েছেন। গানের ভুবনে সামিনা চৌধুরী অনন্য, অসাধারণ।

দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে গান করছেন নন্দিত এই কণ্ঠশিল্পী। সম্প্রতি রিয়েলিটি শো ‘সেরাকণ্ঠ’ বিচারক হয়েছেন। সমসাময়িক ব্যস্ততাসহ বিভিন্ন বিষয়ে জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে নতুন গান নিয়ে সামিনা চৌধুরী বলেন, অনেক গানই তো ঝুলে আছে। অনেক গান করেছি। প্রস্তুত আছে কিছু। তবে নতুন বছরের জানুয়ারি থেকে চেষ্টা থাকবে প্রতি মাসে অন্তত একটি করে গান করার। সামনের মাসে সফিক তুহিনের সুরে মাজহারুল ভাইয়ের কথায় একটি গান আসবে।

সামনে বাইরের কোনো স্টেজ শো করছেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, না। শীতকালে বাইরে তো শো কম হয়। আমিও তেমন করে করি না।

দীর্ঘদিন আপনাকে সংগীত জগতের বাইরে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি একটু খোলাসা করবেন কি? এমন প্রশ্নে সামিনা চৌধুরী বলেন, জঘন্য পলিটিক্সের শিকার হয়েছিলাম। ১০-১৫ বছর গান গাইতে দেয়নি কোনো এক শিল্পী। আমাকে কোণঠাসা করে রেখেছিল সব জায়গা থেকে। তার নাম বলতে চাই না, সবাই তাহলে জেনে যাবে। আর নাম বললে সে লজ্জা পাবে।

অন্য আরেকটি কারণ ছিল ভারতের গানের সুর নকল করে গাওয়ার বিরুদ্ধে। আমি তখন পত্রিকায় বলেছিলাম এটা উচিত নয়। তখন অনেকেরই গায়ে এটা লেগেছিল। এরপর বিভিন্ন পলিটিক্স শুরু হয়ে যায়। দীর্ঘ বছর গান গাইতে দেয়নি তারা। লবিং না করার কারণেই পিছিয়ে ছিলাম- এখন তা বুঝতে পারি। সেটি তখন করতে পারলে এক ধরনের ক্যারিয়ার তৈরি হতো ঠিকই, তবে মানসিক শান্তি আসত না।

তবে আমি মানসিকভাবে শান্তি পাই এখনো যে, লবিং ছাড়াও এতদূর আসতে পেরেছি। জীবনের শেষে এসে মনে শান্তি নিয়ে বলতে পারি, পলিটিক্স কখনো করিনি। শুধু গান দিয়ে কিছু মানুষের মনে এখনো রয়েছি ভালোবাসায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *