মীর সাব্বিরের আচরণ মেনে নেওয়ার মতো না: ইশরাত পায়েল

মিসেস ইউনিভার্সের আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব কে করবেন, তা জানতেই বসেছিল বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আসর। যদিও মঞ্চে ঘটে গেল এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা, সেই নিয়ে তুমুল হইচই সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন ইশরাত পায়েল। তাঁর অভিযোগ বিচারক তথা অভিনেতা মীর সাব্বির ভরা মঞ্চে তাঁকে বুলিং করেছেন।

এক ফেসবুক ভিডিওতে সাব্বিরের বিরুদ্ধে ইশরাত পায়েল নারীর পোশাক নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যের অভিযোগ আনেন।

তিনি বলেন, “গত ১১ নভেম্বর ‘মিসেস ইউনিভার্স বাংলাদেশ’র ফাইনাল রাউন্ড ছিল। সেখানে উপস্থাপকের দায়িত্ব আমি পালন করছিলাম। বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ। তাদের মধ্যে মীর সাব্বির ভাইও ছিলেন। এক পর্যায়ে বিচারক হিসেবে কিছু অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করতে তাকে আমি মঞ্চে ডেকে নিই। তিনি মঞ্চে এসে বলেন, এই প্রথম কোনো সুন্দরী প্রতিযোগিতায় আমন্ত্রণ পেয়েছি।

এরপর তিনি জানান, তার স্ত্রী চুমকি আপা ১৯৯৯ সালে একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছিলেন । এ সময় তিনি আমার কাছে জানতে চাইলেন, জীবনান্দ দাশের বাড়ি কোথায়! আমি বরিশাল বললে তিনি বললেন, আমার বাড়িও বরিশাল।”

এরপর পায়েল বলেন, ‘মীর সাব্বির দেশের একজন জনপ্রিয়তা অভিনেতা। বরিশালের আঞ্চলিক ভাষায় তার অনেক নাটক আছে, সংলাপ আছে। আমি তাকে বললাম, দর্শকের উদ্দেশ্যে তিনি যদি দু-তিনটি লাইন বলতেন। এ সময় তিনি বলেন, আমার তো নাটকের সংলাপ মনে থাকে না, উপস্থিত কিছু একটা বলছি। এরপর আমার দিকে আঙুল তুলে বললেন, এই মাতারি তুমি এরকম উদলা গায়ে দাঁড়ায় আছো কিয়ের লাইগা। শুদ্ধ ভাষায় বাক্যটি হলো, এই মেয়ে তুমি এমন উলঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়ে আছ কেন?’

মীর সাব্বিরের সেই সংলাপে হেসে ওঠে ভরা আসর। হাসি থামাতে পারেননি পায়েলও। তবে হাসিটা যে তার মেকি ছিল তা প্রকাশ করেন এই ভিডিও বার্তায়।

তিনি বলেন, “আমার মনে হয় এরকম একটা আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় সবাই পশ্চিমা পোশাক পরছিলেন, আমিও পরছিলাম। এ রকম জায়গায় এই আচরণ আসলে মেনে নেওয়ার মতো না। আমি বুঝতে পারছি না তিনি বুঝে বলেছেন নাকি উত্তেজিত হয়ে বলেছেন। আর যদি বলেও থাকেন তারপর তার উচিত ছিল বিষয়টি পরিষ্কার করা এবং দুঃখ প্রকাশ করা। অন্তত আমার কাছে ‘সরি’ বলা।

‘সরি’ তিনি এখনও বলেননি। আমি আশা করি সাব্বির ভাই যদি ভিডিওটা দেখে থাকেন তবে আপনি বিষয়টি পরিষ্কার করবেন আশা করছি। যার যার ব্যক্তি স্বাধীনতা থাকা উচিত। আপনার যদি এতে সমস্যা হয় তবে আপনি তা আপনার ঘরের মা বোনদের বলতে পারেন। আপনার অধিকার নেই আমাকে এরকম হাজারও দর্শকের মাঝে বুলিং করার।”

ইশরাত পায়েল মনে করেন, বিচারকের আসনে বসে সাব্বির এভাবে নারীদের পোশাক নিয়ে এমন নেতিবাচক মন্তব্য বা বুলিং করতে পারেন না। তার মতে এটি খুবই কুরুচিকর। সবশেষে আশা রাখেন মীর সাব্বির তার কাছে বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *