ঢাকাই ছবির সফল চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। সিনেমায় ব্যস্ততা কমিয়ে আপাতত গাজীপুরে গড়ে তোলা নিজের রেস্তোরাঁয় সময় দিচ্ছেন তিনি। মাঝে মাঝে চলচ্চিত্রের আয়োজনেও তার উপস্থিতি নজর কাড়ে। বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সরব এই নায়িকা।
তবে অনেক দিন পরে শুক্রবার (৭ অক্টোবর) মুক্তি পেয়েছে মাহিয়া মাহি অভিনীত নতুন সিনেমা ‘যাও পাখি বলো তারে’। অনেক দিন পর যখন সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত এই নায়িকা, তখন ফেসবুকে আচমকা দেখা গেল এক রহস্যজনক পোস্ট। রোববার (৯ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে ‘আমরা আর একসাথে নাই!’ লিখে মাহির ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়া হয়।
তার এমন পোস্টের পর মিডিয়াপাড়ায় শুরু হয় জল্পনা-কল্পনা। অনেকেই জানতে চান আবারও বিয়েবিচ্ছেদ হলো মাহিয়া মাহির? কেউ আবার জানতে চেয়েছেন নায়িকার আইডি হ্যাক হলো কি-না?
এর পরপরই গণমাধ্যমকর্মীরা মাহির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু ফোন ধরছিলেন না মাহি। এতে বিচ্ছেদের বিষয়টি নিয়ে আরও সন্দেহ বাড়ে সবার মধ্যে। তাহলে কি মাহি আর রকিব সরকারের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গেল?
যখন সবাই তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজছেন, ঠিক আধা ঘণ্টার মাথায় স্ট্যাটাসটি উধাও। আবারও ফেসবুকে মাহির আইডি থেকে আরেকটি পোস্ট দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয় আসলে ঘটেছিল কী।
সেই স্ট্যাটাসে লেখা হয়, ‘কিছুক্ষণ আগে আমি ছাড়াও আমার প্রোফাইল কে যেন লগ ইন করেছিল। জানি না কাকে কাকে টেক্সটও পাঠিয়েছে। কি ভয়ানক!’
এ ব্যাপারে সোমবার দুপুরে মাহি একটি সংবাদমাধ্যমকে তার অবস্থান পরিস্কার করেছেন। তিনি বলেন, ‘ফেসবুক এমন একটি জিনিস, যেকোনো সময় হ্যাক হতে পারে বা পাসওয়ার্ড জেনে যে কেউই লগইন করতে পারে। আমার ক্ষেত্রে তা-ই হয়েছে। তবে আমি কিছু সময়ের মধ্যে তা টের পেয়ে স্ট্যাটাসটি ডিলিট করেছি। আরেকটু দেরি হলে কেলেঙ্কারি হয়ে যেত। সবার ভুল ভাঙতে নতুন একটি স্ট্যাটাসও দিয়েছি। সঙ্গে সঙ্গে আমার আইডির পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করেছি। বলতে পারেন, এটি একটি দুর্ঘটনামাত্র।’
কখন বিষয়টি জানতে পারেন, জানতে চাইলে মাহি বলেন, ‘যে সময় ঘটনাটি ঘটে, সে সময় আমি ও রকিবের বোন দুজন থেরাপি নিতে হাসপাতালে ছিলাম। ওদিকে রকিব তার রাজনৈতিক কাজে বাইরে ছিল। কাজ শেষ করে ফোন হাতে নিয়ে দেখি, অসংখ্য মানুষের মিসডকল। তার মধ্যে রকিবেরও অনেক মিসডকল। আমি ভাবলাম কী না কী হয়ে গেছে। রকিবকে ফিরতি ফোন দিতেই ঘটনাটি জানতে পারি। সঙ্গে সঙ্গে ফেসবুকে ঢুকে স্ট্যাটাসটি ডিলিট করি। এরপর একজনকে দিয়ে আইডির পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করি।’
এমন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কিছুটা বিব্রত মাহি বলেন, ‘স্ট্যাটাস দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কিছু কিছু অনলাইন পোর্টালে নিউজ হয়ে গেছে। সাংবাদিক ভাইয়েরা বিষয়টি চেক না করে, আমার সঙ্গে কথা না বলে স্ট্যাটাস ধরেই নিউজ করে দিয়েছেন। আমি তো কাজে ছিলাম। তাঁদের অনেকের ফোন ধরতে পারিনি। আরেকটু অপেক্ষা করলে কী হতো? এমন একটি সেনসিটিভ ঘটনা, এটি পরিবার-পরিজনের ওপর প্রভাব ফেলে। কিছুটা ফেলেছেও। তবে আধা ঘণ্টার মধ্যেই টের পেরেছিলাম বলে বেঁচে গেছি।’
