নজর২৪, ঢাকাঃ সরকারকে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে ঢাকায় মহাসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।
ঝালকাঠিতে ছাত্র, যুব অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের উপর হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মশাল মিছিল শেষে কাকরাইল মোড়ে ভিপি নুর এ আল্টিমেটাম দেন।
গত শুক্রবারও চট্টগ্রামে ছাত্র, যুব অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের উপর ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের হামলার কথা উল্লেখ করে ভিপি নূর বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র, যুব, শ্রমিক অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের উপর অন্যায়ভাবে হামলা ও হয়রানি করা হচ্ছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে ঝালকাঠিতে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আগামী শুক্রবার ঢাকায় মহাসমাবেশ করবো। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করবো। আমরা দেখতে চাই এই সরকার কী করে।
তিনি আরও বলেন, আমি ছাত্রলীগ, যুবলীগের ভাই-বোনদের বলতে চাই, আপনারাও কোনো মা-বাবার সন্তান। আমাদের সাথে আপনাদের কোনো জায়গা-জমি বা ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই। আপনারা কেন আমাদের ভাই-বোনদেরকে রক্তাক্ত করছেন। কেন যেখানে সেখানে মারধর করছেন। আপনারা কী আজীবন ক্ষমতায় থাকবেন?
ভিপি নুর বলেন, আপনারা দেখছেন না একসময়ের ক্ষমতাশীনদের আজকের কী ভয়াবহ নিষ্ঠুর পরিনতি। আজকে কেউ দেশে থাকতে পারছে না। কেউ কারাগারে ধুকে ধুকে মরছে। কাজেই আপনাদেরকেও কিন্তু সেই পথে যেতে হতে পারে। আপনাদেরকে বলছি, এই সরকার যে দমন-নির্যাতন-নিপীড়ন-জুলুম চালিয়েছে, তাদরে পতন ঘনিয়ে এসেছে। সুতরাং ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগের ভাই-বোনদের বলবো আপনারাও জনগণের কাতারে এসে দাঁড়ান। আপনাদের সাথে আমাদের কোনো বিরোধ নাই। প্রত্যেকেরই শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ মিটিং করার অধিকার আছে। আমরা চাই না এই দেশে কোনো সহিংসতা তৈরি হোক।
যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব সোহরাওয়ার্দী শুভ অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার বিকেল ৩টায় ঝালকাঠি ইকোপার্কে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঝালকাঠি সদর থানা ছাত্রলীগের সদরের সাধারণ সম্পাদক নাদিম মাহামুদের নেতৃত্বে হামলায় আহত হন ঝালকাঠি জেলা ছাত্র অধিকারের সভাপতি ফয়সাল আহমেদ ও যুব অধিকারের কেন্দ্রীয় সদস্য আবু সাঈদ মুসা।
তার অভিযোগ, শুক্রবার বিকেলে ঝালকাঠি ইকোপার্কে জেলা ছাত্র অধিকারের উদ্যোগে একটি আলোচনার আয়োজন করা হয়। এ সভায় ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণের কথা ছিল নুরুল হক নুরসহ চার কেন্দ্রীয় নেতার। সভা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এ সময় ছাত্র অধিকারের চারজন গুরুতর আহত হন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সোহরাওয়ার্দী শুভর দাবি, স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করেন। আহতদের চারজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ঝালকাঠি থেকে নৌকায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নেয়া হয়।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ঝালকাঠি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, আমরা লোকমুখে এ ধরনের একটা প্রোগ্রামের কথা শুনে ইকোপার্কে ফোর্স পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। তা ছাড়া ওখানে কোনো ঝামেলা হয়েছে এমন অভিযোগও কেউ করেনি।
