আদালতে মামুনুল হক, দিতে পারেননি কাবিননামা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রিসোর্ট কাণ্ডে হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে ধর্ষণ মামলায় সপ্তম দফায় সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য নারায়ণগঞ্জ আদালতে আনা হয়েছে। এদিন তার বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানার দুই পুলিশ সদস্য আদালতে সাক্ষ্য দেন।

সোমবার (০৩ অক্টোবর) কড়া নিরাপত্তায় তাকে কাশিমপুর কারাগার থেকে নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নাজমুল হক শ্যামলের আদালতে হাজির করা হয়।

এদিন তার বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) বোরহান দর্জি ও কোবায়েত হোসেনসহ চার পুলিশ সদস্যের সাক্ষ্য নেওয়ার কথা থাকলেও দুই পুলিশ কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) রকিব উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, সোনারগাঁ থানার রয়েল রিসোর্টে ভুক্তভোগীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন মামুনুল হক। ঘটনার দিন সোনারগাঁ থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তা ভুক্তভোগীকে ঘটনাস্থলে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি বলেন, আসামি মামুনুল হক তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেছে। কিন্তু পরবর্তীতে তাকে বিয়ের কথা বললে, তিনি বিয়ে করতে অস্বীকার করেন।

তিনি আরও বলেন, মামুনুল হক মামলার বাদী জান্নাতুল ঝর্ণাকে নিজের স্ত্রী দাবি করলেও বাদী তা অস্বীকার করেন। আসামির আইনজীবী ও আসামি আজ পর্যন্ত বিয়ের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্টে এক নারীর সঙ্গে অবস্থান করা অবস্থায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মামুনুল হককে ঘেরাও করেন। পরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এসে রিসোর্টে ভাঙচুর চালিয়ে তাকে নিয়ে যান। ৩০ এপ্রিল সোনারগাঁ থানায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন তার সঙ্গে থাকা ওই নারী। কিন্তু মামুনুল হকের দাবি, ওই নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *