এ দেশে আর কোনোদিন নায়িকা সুপারস্টার জন্মাবে না: নূতন

একটা ভবিষ্যৎবাণী করি, ৯৯% মিলে যাবে। এই দেশে কোন দিন আর নায়িকা সুপারস্টার জন্মাবে না, কোন দিন না।

ফেইসবুক, টিকটক আর অনলাইন সুপারস্টার হবে, তবে বাস্তবিক নায়িকা সুপারস্টার হবে না। অভিনেত্রী তো দূরের কথা।

প্রথমত, বেশীর ভাগ (৯০%) আসে স্কুলিং ছাড়া, না গান, না নাচ, না কথা, না অভিনয় কিছুই নেই। আর কেহ কেহ মিনিমাম চেহারাও বহন করে না নায়িকা হওয়ার জন্য।

দ্বিতীয়ত, সাময়িক সস্তা পাব্লিকসিটিতে বিশ্বাসী। যেমন ফেইসবুক লাইক, কমেন্টস শেয়ার, সস্তা টকশো (যে যা ইচ্ছা বলে) যে একটু ভিউ হচ্ছে মানুষ চিনে। ভিউ তো সবার হচ্ছে সবাই কেই চিন্তেছে, আর সেল্ফি যা আসলে কোন কাজে দেয় না, কোন ক্ষেত্রেই কাজে দেয় না। যুগের সাথে তাল মিলিয়েও এই সস্তা পাব্লিকসিটিতে লাভ নেই।

তৃতীয়ত, যা সবচেয়ে ভয়াবহ তা হলো প্রপার গাইড লাইন। এ গাইড লাইন হচ্ছে যে, নাম হয়ে যাওয়ার পরে বা নাম হলে ২/৩ টা ছবি করলে এই নাম কিভাবে বহন করতে হয় বা এই নাম কে, কি করে উজ্জীবিত করতে হয় ধরে রাখতে হয় তা না জানা। তাদের ধারণা সারাজীবন নায়িকা আর এমন সস্তা সুপারস্টার থাকবো।

চতুর্থত, সস্তা নাম আর স্বঘোষিত নায়িকা নাম নিয়ে একটা আত্নঅহংকার তৈরী হয় যে আমি মনে হয় বিশাল কিছু। এটা প্রথম-প্রথম সবার হয় তবে তা স্থায়ী হলে সমস্যা। তবে অনেকেই এই ভাবনাকে স্থায়ী করে যে, আমি বিশাল কিছু আমায় দেখলেই নায়িকা বলে এই ভাবনা ভাবতে- ভাবতে যে উদ্দেশ্য নিয়ে আসছে তা ভুলে যায়, যার ফলে নায়িকা মানেই সল্প সময় এর ক্যারিয়ার তার মধ্যে আবার অহংকার সব মিলিয়ে শুরু করার আগেই ছিটকে পড়ে যায়।

পঞ্চমত, কিছু কিছু আছে নায়িকা হয়েই (২/৪/৫টা ছবি করে আর যদি হিট হয় ২/১টা) তাহলে ভাবে আগে এই নাম বেচে গাড়ি- বাড়ি করে নেই। যৌবন থাকতে থাকতে সে চিন্তায় কারো সরনাপন্ন হয়, তবে তা বুঝে না। যে আজ তাকে রেখেছে – সে কাল আরেকজনকে তার যায়গায় রাখবে। মানে লোভ এ পরে নিজেকে পন্য বানায়ে নিজের সত্বা শেষ করে, তবে পন্য যে পুরান হলে দাম কমে তা মাথায় নেই। (২/৩ জনের অবশ্য ভাগ্যে পরিবর্তন আসে)

শেষ পেরেক ঠোকার কাজ টাও নিজেরা করে, যা আমি এই ৬/৭ মাস ফেইসবুক ব্যাবহার করে বুঝলাম। তা হলো মিথ্যা বানোয়াট নিজস্ব সস্তা সংবাদ তৈরী করা, অনেক অনলাইন আছে বা নিজেরা নিজেদের নিউজ করে তা বলে আবার নিজেদের ফেইসবুকে প্রচার করে যার ফলে মিথ্যা সংবাদ এ প্রভাবিত হয়ে নিজের অস্ত্বিত্ব কেও মিথ্যা বানায়।

যে কারনে নিজেরা নিজেদের কাছে নায়িকা থাকে তবে কাজে নাই, হয়তো এভাবে ৩/৪/৫ টা ছবি করে তবে গন্তব্যের মরন হয়।

আর যারা এভাবে শুধু গহনার মতো নায়িকা হয় তারা সে অর্থে বলার মতো ছবিও পায় না,

সব মিলিয়ে কিছুদিন বা বছর যাওয়ার পরে তারা হতাশায় বিশাল সমুদ্রে নিমজ্জিত হয়, সবাই নায়িকা বলে তবে সে জানে সে কি? যে ফেইসবুক সোস্যাল মিডিয়া তাকে নায়িকা সুপারস্টার বানিয়েছে সে ফেইসবুক এই সে নিন্দার স্বিকার হয়।

আমাদের সময় কাজ ছিলো মুখ্য বিষয়, ৫০+ ছবি করার পরে ভাবছি যে আমি বাংলা ছবির নায়িকা, তখন ১ টা ছবি করা মানেই বিশাল ব্যাপার। এখন সে অর্থে ছবি নেই একজন নায়িকা বেশী করলেও ১০০ ছবি করা অনেক কঠিন হয়ে যাবে, তবে সব সস্তা চিন্তা বাদ দিয়ে শুধু কাজে মনোনিবেশ হলে কমের মধ্যেও ভালো কিছু করা সম্ভব।

তারা এটা বুঝে না যে যোগ্য হলে ভালো করলে সারাজীবন সম্মান পাবে, অর্থ আসবে ভালোবাসা আসবে। আর সস্তা সম্মান, অর্থ, এগুলো সাময়িক,
২/৪/৫ জন ভালো মেধাবী ছিলো তারাও বিভিন্ন ভাবে হারিয়ে যাচ্ছে।

যার ফলে নিঃসন্দেহে বলা যায় ৪৫/৫০ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে যে নতুন করে এ দেশে আর বাস্তবিক অর্থে নায়িকা সুপারস্টার জন্মাবে না।

আমাদের সময় এমন ৫-৬ জন ছিলো তাদের অবস্থা পরবর্তীতে খুব ভয়াবহ হয়েছে।

(অভিনেত্রী নূতনের ফেসবুক থেকে নেওয়া)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *