ইভ্যালিতে ফিরছেন শামীমা, বিদায় নিচ্ছে বিচারপতি মানিকের কমিটি

ইভ্যালিতে নতুন চারজন পরিচালকের সঙ্গে ফিরতে যাচ্ছেন এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন। প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডার হিসেবে শামীমার সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছেন তার মা ফরিদা তালুকদার এবং ভগ্নিপতি মামুনুর রশীদ।

এ ছাড়া ই-ক্যাব ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে একজন করে প্রতিনিধি স্বাধীন পরিচালক হিসেবে ইভ্যালির পর্ষদে যোগ দিচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় এমন পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিতে।

আর এর মধ্য দিয়ে বিদায় নিতে যাচ্ছেন সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক এবং সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলনের নেতৃত্বাধীন উচ্চ আদালত কর্তৃক গঠিত পাঁচ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ।

জানা যায়, বর্তমানে ইভ্যালির ২০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে ফরিদা তালুকদার ও মামুনুর রশীদের কাছে। উচ্চ আদালতে শামীমা নাসরিনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিনিসহ তার মা ও ভগ্নিপতিকে ইভ্যালিতে পরিচালক হিসেবে নিয়োগের অনুমতি দেন আদালত। গত ২৪ আগস্ট একক বেঞ্চে এ বিষয়ে আদেশ জারি করেন বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম।

এ আদেশে চলতি ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন শেয়ারহোল্ডারদের নাম প্রতিষ্ঠানে নিবন্ধন করার প্রক্রিয়া শেষ করতে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসসের রেজিস্ট্রারকে নতুন শেয়ারহোল্ডারদের নাম নিবন্ধনেও সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আদেশ দেওয়া হয়। গত ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইভ্যালির অডিট রিপোর্টও প্রতিষ্ঠানটির কাছে জমা দেওয়ার আদেশ দেন বিচারপতি খুরশীদ আলম।

এরই মধ্যে অডিট ফার্মের পক্ষ থেকে সেই রিপোর্ট ইভ্যালির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ই-ক্যাব মনোনীত একজন প্রতিনিধি এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত কমপক্ষে উপসচিব পদমর্যাদার একজন সরকারি কর্মকর্তা স্বাধীন পরিচালক হিসেবে পর্ষদে যোগ দেবেন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর মনোনীত প্রতিনিধির নাম জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। উভয় সংস্থা নিজেদের মনোনীত প্রতিনিধির নাম জমা দিয়েছে। তবে প্রতিনিধিদের নাম এখনো প্রকাশ করেনি কোনো পক্ষ।

জানা গেছে, আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের বোর্ড সভায় শামীমা নাসরিন, তার মা ও বোনের স্বামীকে ইভ্যালি পরিচালনার বোর্ড সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই পরিচালনা পর্ষদে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবের নিচে নয় এমন কর্মকর্তাকে স্বাধীন পরিচালক হিসেবে রাখতে বলা হয়েছে। এছাড়া নতুন বোর্ডে ই-ক্যাবের একজন প্রতিনিধি থাকবেন।

তারপর আদালতের নিযুক্ত পরিচালনা বোর্ড চাইলে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারবে। আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এফিডেভিট আকারে হাইকোর্টকে জানাতেও বলা হয়েছে।

ইভ্যালি পরিচালনার জন্য ২০২১ সালের ১৮ অক্টোবর আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের বোর্ড গঠন করে দেয় হাইকোর্ট।

স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগের সাবেক সচিব মোহাম্মদ রেজাউল আহসান, ওএসডিতে থাকা আলোচিত অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলন, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফখরুদ্দিন আহম্মেদ, কোম্পানি আইন বিশেষজ্ঞ আইনজীবী ব্যারিস্টার খান মোহাম্মদ শামীম আজিজকে বোর্ডের সদস্য করা হয়।

আদেশে বোর্ডের কাজ কী হবে তা-ও বলে দেয়া হয়। কোম্পানির কোথায় কী আছে, সবকিছু বুঝে নেবে বোর্ড। কোম্পানি যেভাবে চলে সেভাবে প্রথমে বোর্ড মিটিং বসবে। সবকিছু করার পর বোর্ড যদি দেখে কোম্পানিটি চলার যোগ্যতা নেই, তখন অবসায়নের জন্য প্রসিড (প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়া) করবে। আর চালানো সম্ভব হলে কোম্পানিটি চলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *