চলমান আন্দোলন প্রত্যাহার করে আপাতত ১২০ টাকা মজুরিতেই চা বাগানে কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শ্রমিকরা। পরবর্তীতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রবিবার (২১ আগস্ট) মধ্যরাত পর্যন্ত মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসানের সঙ্গে বৈঠক হয় চা বাগানের শ্রমিকদের। সেখানে এমন সিদ্ধান্ত হয়।
জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, চা শ্রমিকরা প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রেখে তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন এবং কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের অভিভাবক। তিনি আমাদের যে সিদ্ধান্ত দেবেন আমরা তা মেনে নেবো।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দি বলেন, ‘আজ থেকে শ্রমিকরা বাগানে ফিরবেন এবং যথারীতি কাজ করে যাবেন। আর ধর্মঘট চলাকালীন ১০ দিনের মজুরিসহ সকল সুবিধাদি মালিকপক্ষ প্রদান করবে।’
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বালিশিরা ভ্যালির সভাপতি বিজয় হাজরা বলেন, ‘আপাতত ১২০ টাকা মজুরিতে কাজে যোগ দিচ্ছেন শ্রমিকরা। আমরা ১৪৫ টাকা মজুরি প্রত্যাখান করেছি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের অভিভাবক। তার প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা রেখে চা শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন।’
রবিবার রাতে বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো হলো—প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা রেখে তার সম্মানে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন ধর্মঘট প্রত্যাহার করে আজ থেকে কাজে যোগ দেবেন। আপাতত চলমান মজুরি ১২০ টাকা হারেই শ্রমিকরা কাজে যোগ দেবেন। মজুরির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সদয় বিবেচনার পর চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে বলে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ দাবি জানান।
আসন্ন দুর্গাপূজার আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হওয়ার জন্য চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ আবেদন করবেন, যা জেলা প্রশাসক কর্তৃক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপস্থাপিত হবে। শ্রমিকদের অন্যান্য দাবি লিখিত আকারে জেলা প্রশাসকের কাছে দাখিল করবেন। জেলা প্রশাসক প্রধানমন্ত্রীর সময় বিবেচনা জানাসহ তার কার্যালয়ে পাঠাবেন। বাগান মালিকরা বাগানের প্রচলিত প্রথা/দর মোতাবেক ধর্মঘটকালীন মজুরি শ্রমিকদের পরিশোধ করবেন।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া, বিভাগীয় শ্রম দফতর উপ-পরিচালক মো. নাহিদুল ইসলাম, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।
