সবাই আমাকে এত মিস করেছে, আমি সত্যিই বাকরুদ্ধ: শাকিব

অনেক অপেক্ষার পর অবশেষে দেশে ফিরলেন ঢাকাই সিনেমার প্রাণভোমরা শাকিব খান। বুধবার (১৭ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখেন তিনি।

কিং খানের পথ চেয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বুধবার সকাল থেকেই ভিড় করেন অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী, হাতে থাকা ব্যানার-ফেস্টুনে ছিল শাকিব বন্দনা। নায়ক যখন বিমানবন্দরে এলেন হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তারা।

বেলা ১টা ৩০ মিনিটে সিআইপি গেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শাকিব। চোখে-মুখে তার উচ্ছ্বাস। পরনে টি শার্ট আর জিন্স। কানে হেডফোন। চোখে সানগ্লাস। যেন নায়ক ফিরলেন নায়কের বেশেই।

ভক্ত-দর্শক-সাংবাদিকদের উদ্দেশে শাকিব বলেন, ‘সবাই যে আমাকে এত মিস করেছে, তা দেখে সত্যিই আমি বাকরুদ্ধ। কী বলব! আমিও ভীষণ মিস করেছি। একটু পরপর এয়ারহোস্টেজকে জিজ্ঞেস করছিলাম, ঢাকায় নামতে আর কতক্ষণ লাগবে? আমার মধ্যেও কিন্তু একই উত্তেজনা কাজ করেছে।’’

এরপরের প্রশ্নই ছিল- ঢাকায় ফেরার পর এখন কোন কাজগুলোতে নজর দেবেন তিনি। স্মিত হেসেই বললেন, ‘মাত্রই তো দেশে এলাম। আগামীতে কী কাজ করবো তা সময়ই বলে দেবে। তবে এটুকু বলতে পারি স্পেশাল খবর আসছে। সামনে অনেক ভালো ভালো কিছু অপেক্ষা করছে। আমার চেষ্টা ছিল সবসময়ই বাংলা ছবির জন্য কিছু করার। আমাদের বাণিজ্যিক ছবি বিশ্ব বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করেছি। একটা জিনিস বুঝতে হবে, সিনেমার জন্য ভাষা কোনও ফ্যাক্ট না। কোরিয়ান ছবি, তামিল ছবি, অন্য ইন্ডাস্ট্রির ছবি বিশ্ব বাজারে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আমাদেরও সেদিকটা নিয়ে কাজ করতে হবে।’

নয় মাস পর আমেরিকা থেকে দেশে ফিরলেন তিনি। সেখানে অবস্থান ও কাজ প্রসঙ্গে এই তারকা বলেন, ‘আমার মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্ব বাজারে বাংলা ছবির ভালো অবস্থান তৈরি করা। এ কারণে একটা ছবির মহরত করেছি নিউ ইয়র্কে। আমেরিকান ক্রু নিয়ে যার কাজ হবে। আরও ইন্টারন্যাশনাল প্রজেক্টসহ নানা কাজ হবে। চাই বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে পড়ুক বাংলা ছবি।’

এদিকে শোনা যাচ্ছে দীর্ঘ ৯ মাসের আমেরিকা সফর শেষে, মাত্র মাস তিনেকের জন্য দেশে ফিরেছেন তিনি। নভেম্বরে আবার পাড়ি দেবেন আমেরিকা। বিষয়টি হেসেই উড়িয়ে দেন শাকিব। বলেন, ‘এটা তো আমার দেশ। আমি তো এখানেই থাকবো। আমি কোথায় যাব?’

প্রবাস জীবনে শাকিব খোঁজ রেখেছেন দেশের ছবিরও। তার মতে, সারাবিশ্বেই কোভিডের কারণে বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ছিল। যার প্রভাব পড়েছিল বাংলা ছবিতেও। বলেন, ‘‘কোভিড পরবর্তী সময়ে ‘স্পাইডারম্যান’ মিলিয়ন ডলার ব্যবসা করেছে। বিশ্বের অনেক ছবি ভালো বিজনেস করেছে। আমাদের বাংলা ছবিও ভালো জায়গায় যাচ্ছে।’’

বিমানবন্দরে নেমে মুগ্ধও হয়েছেন হালের বাংলা ছবির শীর্ষ এ নায়ক। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি ঠিক জানতাম না, এত লোকজন আসবে। ফেসবুকে অত ডিটেইল কিছু দেখতে পারিনি। যতটুকু দেখেছি, তাদের এই ভালোবাসার কাছে আমি সবসময়ই কৃতজ্ঞ।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *