ঢাকাই সিনেমার প্রিয়দর্শনী নায়িকা মৌসুমী। দুই যুগের বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্রে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন তিনি। সম্প্রতি একটি ইস্যুতে সমালোচনার মুখে পড়ে কঠিন বাস্তবতা পার করেছেন এ অভিনেত্রী। তবুও নিজেকে শক্ত রেখে সবকিছু স্বাভাবিক করেছেন মৌসুমী।
অভিনয়, সামাজিক কাজসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকের সঙ্গে কথা বলেছেন এ অভিনেত্রী।
তিনি জানান, অভিনয় আর সংসার নিয়ে বেশ ভালোভাবেই কেটে যাচ্ছে দিন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন আপদে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। আসলে অভিনয় দিয়ে মানুষকে বিনোদন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে আজীবন কাজ করে যেতে চাই।
নিজেকে অসাধারণ ভেবেছেন কখনো? জানতে চাইলে মৌসুমী বলেন, না, নিজেকে এমনটা কখনো ভাবিনি। সাধারণ একটা মেয়ে ছিলাম। একটা ছবিতে কাজ করব। সবাই দেখবে, ভালো বলবে। নিজের আলাদা একটা পরিচয় হবে- এটুকু পর্যন্ত স্বপ্ন দেখতে পেরেছি। কিন্তু তারপর যেসব ঘটে গেছে সেগুলো স্বপ্নের বাইরে ছিল।
তিনি বলেন, অভিনয় শুরুর আগে আদর্শ মানতাম শাবানা ও ববিতা ম্যাডামকে। পরবর্তীতে নায়িকা শাবনাজের অভিনয় দেখে অনুপ্রাণিত হই। শাবনাজের ‘চাঁদনী’ ও ‘দিল’ ছবিটি হলে গিয়ে দেখার পর মনে হলো, শাবনাজ পারলে আমি কেন পারব না? দিনে দিনে নিজেকে প্রস্তুত করেছি। এই মনোবলের কারণেই আজকের অবস্থানে আসতে পেরেছি।
দুই দশকেরও বেশি সময়ের অভিনয় ক্যারিয়ারে প্রাপ্তি কেমন? মৌসুমী বলেন, দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি, দর্শকদের ভালোবাসা। শিল্পীজীবনে এত এত মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি, এর কোনো হিসাব মেলাতে পারি না। মাঝে মাঝে মনে হয়, আমি কি আসলেই এত বেশি ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য? যে মানুষটিকে আমি চিনি না, জানি না, সে মানুষটিই আমার অজান্তে আমাকে এত ভালোবাসতে পারে? ভাবতেই অবাক লাগে। আবার ভাবী, এরকম ভালোবাসা একজন শিল্পীর প্রতি আছে। হতে পারে। এরকম হয় বোধহয়।
একজন অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে কতটা পূর্ণ মনে করেন? তিনি বলেন, সত্যিকারের একজন শিল্পী অভিনয়ের পথচলায় নিজেকে কখনই পরিপূর্ণ মনে করেন না। শিল্পীমনে নতুন নতুন চরিত্রে কাজ করার আকাক্সক্ষা থেকেই যায়। আমারও সেই অতৃপ্তি আছে, চ্যালেঞ্জিং আরও নতুন চরিত্রে কাজ করার ক্ষুধা আছে। হ্যাঁ, এটা সত্যি, একটি চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে কাজ করে সাময়িক সময়ের জন্য ক্ষুধা নিবারণ হয়, কিন্তু পরে আবার সেই ক্ষুধা সৃষ্টি হয়। শিল্পীমন এমনই। তবে আমার কর্মজীবনের পূর্ণতা পাবে তখনই যখন দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য, সমাজের অসহায় মানুষের জন্য কিছু করতে পারব।
