অবশেষে মুখ খুললেন রোশান, দিলেন কঠিন জবাব

চলতি মাসের ১৯ তারিখ মুক্তি পেতে যাচ্ছে মাহিয়া মাহি ও জিয়াউল রোশান অভিনীত সিনেমা ‘আশীর্বাদ’। এই চলচ্চিত্রটির মুক্তি উপলক্ষে গত রাতে রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন হয়েছে তবে সেখানে দেখা যায়নি সিনেমাটির মূখ্য চরিত্রে অভিনয় করা রোশান ও মাহিয়া মাহিকে। এমনকি সিনেমার পোস্টার ফেসবুকে শেয়ার দেননি তারা। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান মানিক এবং ছবিটির প্রযোজক ছিলেন জেনিফার।

ওই সংবাদ সম্মেলনেই প্রযোজক জানান, ফেসবুকে ছবিটির পোস্টার শেয়ার না করায় ছবির নায়ক-নায়িকাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। পাশাপাশি নায়ক-নায়িকাকে অনেকটা অপেশাদার বলেও মন্তব্য তার।

প্রযোজক জেনিফারের অভিযোগের জবাবে পাল্টা অভিযোগ করলেন অভিনেতা জিয়াউল রোশান। তিনি বলেন, ‘প্রযোজক আমাদের নামে সংবাদ সম্মেলনে যা যা বলেছেন, পুরোটাই মিথ্যা। ছবির প্রচারের তো একটা পরিকল্পিত টিম তৈরি করতে হয়। সেটি না করে প্রযোজক মিথ্যা কথা গণমাধ্যমে বলে বেড়াচ্ছেন। ভিডিওতে আমি এসব শুনে আকাশ থেকে পড়েছি। দুঃখজনক।’

এই নায়ক মনে করেন, এই প্রযোজকের মূল টার্গেট এই ছবির মাধ্যমে নিজেকে আলোচনায় আনা। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে, তিনি আমাদের ইচ্ছা করেই ডাকেননি। ডাকলে ক্যামেরা আমাদের দিকে থাকত। তিনি হাইলাইটস হতে পারতেন না। এই কারণে পরিচালককে পাশে বসিয়ে একা একা সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তাঁদের কাছে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে এসব বিভ্রান্তিকর কথা বলেছেন।’

তিনি বললেন, ‘একটা পোস্টার বানাতে হলে ফটোশুট করতে হয়, তাও যদি না হয় অন্তত যে পোস্টার বানানোর পর সেটা নিয়ে অভিনয়শিল্পীদের মতামত নেওয়া দরকার। লো কোয়ালিটির একটা পোস্টার বানিয়ে যদি আমাকে শেয়ার দিতে বলা হয় তাহলে তা মোটেও কাম্য নয়। ’

পোস্টার প্রসঙ্গে নায়ক নায়িকাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। নিজেদের মতো একটা নিম্ন মানের পোস্টার বানানো হয় যেটা সম্পর্কে রোশান নিজের অভিমত জানিয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে রোশান বলেন, ‘আমাকে যখন পরিচালক মানিকভাই পোস্টার পাঠালেন তখন আমি আমার মতামত দিলাম এই বলে যে পোস্টারটা ভালো করতে। তিনি পরে জানাবেন বললেন। কিন্তু পরে জানাননি নিজেই ওটা আপলোড দিলেন উনারা। আমি সেই পোস্টার আপলোড দিইনি। ’

এই অভিনেতা বলেন, ‘সিনেমা মার্কেটিং-এর একটা পলিসি থাকে, সম্মিলিতভাবে আলোচনা করতে হয়। ফেসবুক বা হোয়াটসাপে গ্রুপ খুলতে পারতেন তারা। আমি জানি না কিছুই, আমাকে সাইকো সিনেমার প্রচারে গিয়ে সিনেমা হল মালিকের কাছে শুনতে হলো এই সিনেমা নাকি মুক্তি পাচ্ছে ১৯ আগস্ট। এমন বিশৃঙ্খলভাবে একটা সিনেমার প্রচার হয় কিভাবে?’

জেনিফারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে রোশান বলেন, ‘এটা ৬০ লাখ টাকার অনুদানের ছবি। আমি জানি না আসলে সম্পূর্ণ টাকা দিয়ে সিনেমা বানানো হয়েছে কি না। না হলে এতো কোয়ালিটি কম্প্রোমাইজ করে কেন সিনেমা বানানো হলো। শুটিং ইউনিটে কখনো খাবারের সমস্যা হবার কথা না। অথচ উনি খাবারের সমস্যা করলেন। খাবার পানি পর্যন্ত নিজের ঘরে তালাবন্ধ করে রাখতেন। আমাদের খাবারের ও পানির সমস্যায় পড়তে হয়েছে অনেকবার। টাকা বাচাতে উনি নিজেই বাজার করতে যেতেন। ’

প্রযোজক জেনিফারের কর্মকাণ্ডে বিরক্তি প্রকাশ করে রোশান বলেন, ‘প্রযোজক জেনিফার শুটিংয়ে হস্তক্ষেপ করতেন। প্রতিটি সিন শেষ হতেই উনি এসে সেলফি তুলে ফেসবুকে আপলোড দেন। এভাবে সিন বাই সিন যদি ফেসবুকে দেওয়া হয় তাহলে কিভাবে শুটিং করবো? এসব বিরক্তির মাঝেও উনার আবদার আমরা যে ছবি ফেসবুকে আপলোড দিব তাতে যেন প্রযোজক জেনিফারকেও থাকতে হবে; লিখে দিতে হবে প্রযোজকের নাম। এসব অব্যবস্থাপনা নিয়ে খুবই বিরক্ত ছিলাম। তারপরেও ভেবেছিলাম প্রচারে অংশ নিব। কিন্তু সংবাদ সম্মেলন করে প্রচুর মিথ্যা কথা বললেন। এসব খারাপ লাগছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *