রাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করে নিজের কষ্টের কথা ফেসবুকে লিখলেন ফারুকী

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বেশকিছু চলচ্চিত্র উৎসবে দারুণ প্রশংসিত নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সিনেমা ‘শনিবার বিকেল’। অনেকগুলো পুরস্কারও রয়েছে এর ঝুলিতে। কিন্তু নির্মাণের সাড়ে তিন বছরেও সিনেমাটি দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দিতে পারছেন না তিনি।

২০১৯ সালে ‘শনিবার বিকেল’ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডে জমা দেওয়ার পর ‘অদৃশ্য’ কারণে সিনেমাটি ব্যান করা হয়। আর এতে বেশ ক্ষুব্ধ ছবিটির নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে একাধিক পোস্ট করেছেন তিনি।

সবশেষ আজ মঙ্গলবার (০৯ আগস্ট) নিজের ফেসবুকে একটি লেখা প্রকাশ করেছেন এই নির্মাতা। সেখানে শুধু এই সিনেমা না, তার নির্মিত সকল ছবির সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

শুরুতেই চলচ্চিত্র নির্মাণকে অপরাধের সঙ্গে তুলনা করে ফারুকী লিখেছেন, ‘আমার কত রাত গেছে অনিদ্রায়। কত দিন গেছে ক্ষমতাবানদের দুয়ারে হাত মুছতে মুছতে। কত দুপুর গেছে রাগে অন্ধ হয়ে। কত বছর গেছে নিজের চিৎকার নিজেই গিলে ফেলে। ধন্যবাদ, হে রাষ্ট্র! ফিল্ম মেকিংয়ের চেয়ে বড় কোনো অপরাধ তো আর নাই। সুতরাং, ঠিকই আছে।’

এরপর তার সিনেমাগুলোর সঙ্গে একচোখা আচরণের দিক তুলে ধরে রাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, “তোমাকে ধন্যবাদ, আমাকে ঠিকঠাক সাইজ করার জন্য। ‘ব্যাচেলরে’র সময় তুমি ভেবেছিলে আমার ছবি সমাজ নষ্ট করে ফেলবে! ‘মেড ইন বাংলাদেশে’ ভেবেছিলে এই ছবি দেশ ধ্বংস করবে! সুতরাং দেড় বছর সেন্সর জেলে আটকে রেখেছ! ঠিকই আছে। ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলারে’র জন্য সেন্সরের জেলটা বোধ হয় কম হয়েছিল। অপরাধ বিবেচনায় ওই ছবি আটকে রাখা উচিত ছিল তিন বছর। যাই হোক, ‘শনিবার বিকেলে’ সেটা পুষিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। উঠতে বসতে এইভাবে পিটিয়ে ছাল তোলার জন্য কৃতজ্ঞ।”

সবশেষে ফারুকী লিখেছেন, ‘কিন্তু এভাবে বোধহয় পুরোপুরি হবে না। কারণ একটা ছবি ভাবা হয়ে গেলে তো পৃথিবীতে তার অস্তিত্ব তৈরি হলো। বানানো হলে তো আরও শক্তভাবে নিজেকে বিস্তার করল। আজ হোক কাল হোক সেটা দেখে ফেলবে মানুষ। তাই বলি কি এমন কিছু একটা করো যাতে ভাবনাটাও বন্ধ করে দেয়া যায়। এমন ওষুধ আবিষ্কার করো, হে রাষ্ট্র, যাতে কারও মনে ক্ষোভ জন্ম না নেয়! কারণ সম্মিলিত ক্ষোভের চেয়ে বিধ্বংসী কোনো অস্ত্র নেই! আরও খেয়াল রাখতে হবে ক্রমাগত চাপে এই ক্ষোভ যেন ঘৃণায় রূপ না নেয়। কে না জানে ঘৃণার চেয়ে বড় কোনো মারণাস্ত্র নাই।’

প্রসঙ্গত, ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজানে সন্ত্রাসী হামলার ছায়া ধরে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী নির্মাণ করেছিলেন ‘শনিবার বিকেল’ তথা ‘স্যাটারডে আফটারনুন’। এটি দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে, এমন আশঙ্কায় ২০১৯ সালের শুরুর দিকে সেন্সর থেকে ছবিটির ছাড়পত্র স্থগিত করা হয়। পরে এই সিদ্ধান্তের বিপরীতে আপিল করেন ফারুকী।

‘শনিবার বিকেল’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন দেশের জনপ্রিয় তারকারা। তাদের মধ্যে অন্যতম জাহিদ হাসান, নুসরাত ইমরোজ তিশা, মামুনুর রশীদ, ইরেশ যাকের, ইন্তেখাব দিনার, গাউসুল আলম শাওন, নাদের চৌধুরী।

দেশের বাইরের অভিনেতারাও কাজ করেছেন এতে। ভারতের পরমব্রত চ্যাটার্জি, ফিলিস্তিনের ইয়াদ হুরানিসহ আরও অনেকে রয়েছেন এ সিনেমায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *