বয়স বাড়ে কিন্তু মন কখনো বুড়ো হয় না: সৈয়দ হাসান ইমাম

বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম। একাধিক পরিচয়ে যিনি পরিচিত। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক, অভিনেতা, আবৃত্তিকার, পরিচালক এবং ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আহ্বায়ক। তিনি চলচ্চিত্র, নাটক আর সাংস্কৃতিক আন্দোলনের একজন একনিষ্ঠ কর্মী।

বুধবার (২৭ জুলাই) বরেণ্য এই মানুষটির ৮৭তম জন্মবার্ষিকী।

এবারের জন্মদিন নিয়ে সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, আমি কখনই জন্মদিন পালন করি না। আমার ছেলে থাকে ওয়াশিংটনে, ছোট মেয়ে টরেন্টোতে আর বড় মেয়ে ঢাকায়। আমার ছেলে-মেয়ে-নাতি-নাতনিরাই দিনটা উদযাপন করে।

জীবনের এই বয়সে এসে নিজের উপলব্ধি নিয়ে সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, যতদিন বেঁচে আছি, প্রতিটি দিনই উদযাপন করে যেতে চাই। হাসিমুখে থাকতে চাই। সত্যি বলতে কী, বেঁচে থাকাটাই সুন্দর। বেঁচে থাকার চেয়ে সুন্দর আর কিছু হতে পারে না। জীবন নিয়ে আমার ধারণা হচ্ছে- মানুষের বয়স বাড়ে, মানুষ বুড়ো হয়, কিন্তু মন কখনো বুড়ো হয় না। মন চির যৌবনই থেকে যায়। জীবন মানে কেবল নিজের জন্য নয়, সব মানুষের হয়ে থাকার নামই জীবন।

বর্ণাঢ্য এক জীবন সৈয়দ হাসান ইমামের। তার ভাষায়, ‘কখনো এক পেশায় ছিলাম না। একটা সময়ে ফুটবল খেলতাম। একটা সময়ে ক্রিকেট খেলেছি। পড়ালেখা করেছি ম্যাকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। প্রথম জীবনে চাকরি করেছি দর্শনা চিনি কলে। সেখান থেকে চলে এলাম ব্যাংকে। তারপর টিভি নাটকে। তারপর সিনেমায়। আবার মঞ্চেও অনেকদিন অভিনয় করেছি।

বহু বছর আগেই সিনেমা পরিচালনা করেছি। আবৃত্তি করেছি। গান করেছি। মুক্তিযুদ্ধ করেছি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আন্দোলন করেছি। সেজন্যই বলছি, একটা বিচিত্র জীবন আমি পার করেছি। সেই জীবনটা ছিল অর্থময়।’

১৯৩৫ সালের ২৭ জুলাই ভারতের বর্ধমানে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। সেখানেই কাটে তার শৈশব।

১৯৫০ সালে কলেজের বার্ষিক অনুষ্ঠানের এক নাটিকায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে অভিনয় জীবন শুরু হয় সৈয়দ হাসান ইমামের। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের এ শিল্পী সভাপতি হিসেবে দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

সৈয়দ হাসান ইমাম ১৯৬৪ সালের সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী আন্দোলনের সক্রিয় সংগঠক ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে নানা জায়গায় গিয়েছেন।

সাংস্কৃতিক চেতনার উন্মেষ ঘটিয়ে সম্প্রীতি ও মৈত্রী স্থাপনের কাজ করেছেন। ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলন ও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ তার জীবনের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবিতে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলনেরও অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব তিনি।

সৈয়দ হাসান ইমাম শ্রেষ্ঠ অভিনেতা ও শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার পেয়েছেন।

এছাড়াও পেয়েছেন স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদকসহ অনেক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *