নাজিফা তুষি অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘নেটওয়ার্কের বাইরে’। এই সিনেমাটি বেশ আলোচনায় আসে। নায়িকা হিসেবেও তাকে পরিচিতি এনে দেয়। মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘হাওয়া’ সিনেমার নায়িকাও নাজিফা তুষি।
‘হাওয়া’ চলতি মাসের ২৯ জুলাই মুক্তি পাবে। সিনেমাপ্রেমীদের মাঝে হাওয়া সিনেমা দিয়ে টুষিকে নতুনভাবে দেখা যাবে। প্রকাশিত ট্রেইলারের একটা বড় অংশজুড়ে দেখা গেছে গুলতি বা নাজিফা তুষি সম্পর্কিত ঘটনা।
তাহলে তিনিই কি সিনেমার প্রধান টুইস্ট?
‘আমি বিষয়টা এভাবে দেখি না। প্রতিটা চরিত্রের ইমপ্যাক্ট আছে গল্পে। সিনেমায় প্রধান চরিত্র বলে কিছু নাই। আমি এভাবে বলতে পারি যে, আমার চরিত্রটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং আমার চরিত্রটির জন্যই গল্পে অনেক ঘটনা ঘটে।’
মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) বিকেলে সংবাদমাধ্যমকে এভাবেই নিজের চরিত্র সম্পর্কে জানান তুষি।
ট্রেইলারের পুরোটা সময় নাজিফা তুষিকে দেখা গেছে নানা রূপে। প্রথম দৃশ্যে তাকে দেখা গেছে ভীতসন্ত্রস্ত, মাঝখানের দিকে তিনি হাজির হয়েছেন মুখে বিরক্তির ছাপ নিয়ে। শেষ দিকে তুষিকে মারামারি করতে দেখা গেছে, আবার সমুদ্রের পানিতে ভালোলাগার মোহেও পড়তে দেখা গেছে তাকে।
কোনটি আসল গুলতি? তুষি বলেন, ‘আমি একেক জনের সঙ্গে একেক রকম। আর সব রকম মিলিয়েই আমি। সিনেমায় আমার চরিত্রটা অনেক ডায়নামিক। কোথাও আমি ভীত, কোথাও হিংস্র, সাহসী, কোনো সময় তিনি রহস্যময়ী। চরিত্রটির একটি দর্শনগত দিকও আছে। সেটি মুক্তির পর ভালো করে বোঝা যাবে।’
তুষি বলেন, ‘সমুদ্র নিয়ে কিন্তু অনেক মিথ আছে মানুষের মধ্যে। আমাদের সিনেমাতেও মিথের ব্যাপার আছে। ট্রেইলারের বিভিন্ন সংলাপে তা প্রতিষ্ঠিতও। মাছ ধরতে যাওয়ার বোটে নারীদের ওঠা নিষেধ, এটা একটা মিথ। এর মধ্যে মাঝ সমুদ্রে একটা মেয়ে নৌকায় উঠল কীভাবে, এটাই একটা রহস্য।’
এর বেশি কিছু বলতে চাননি তুষি। এর বেশি কিছু দেখতে হবে প্রেক্ষাগৃহে। ২৯ জুলাই মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি।
‘হাওয়া’ ছবির অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেন চঞ্চল চৌধুরী, শরিফুল রাজ, সুমন আনোয়ার, সোহেল মণ্ডল, নাসির উদ্দিন প্রমুখ।
মেজবাউর রহমান সুমন জানান, ‘হাওয়া’ গভীর সমুদ্র ও সেখানে মাছ ধরার ট্রলারকে কেন্দ্র করে নির্মিত গল্পের চলচ্চিত্র। ৮ জন মাঝি মাল্লার ও একজন বেদেনীকে নিয়েই গল্পটি তৈরি। এটি অনুভূতির গল্প। যে ৯ জন কাজ করেছে তাদের মিথস্ক্রিয়া, চরিত্রের সম্পর্কের ভিতরে একে অন্যের বিভেদের গল্পই হাওয়া। সমুদ্র এখানে উপজীব্য মাত্র। ‘হাওয়া’ মিস্ট্রি ড্রামার গল্প, কালের রূপকথা।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সুস্থধারার বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকদের মাঝে সিনেমা হলে যাওয়ার আগ্রহের যে জোয়ার তৈরি হয়েছে, ‘হাওয়া’ আরও এগিয়ে নেবে বলে মনে করছেন দেশের সিনেমাবোদ্ধা ও অভিজ্ঞরা। সাধারণ দর্শক ও তরুণ প্রজন্মের মাঝে ‘হাওয়া’-কে ঘিরে এই আগ্রহ আরও বেগবান করতেই হাওয়ার প্রচারণা টিম ঘুরে ফিরছেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।
প্রযোজনা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে মুক্তির পর ‘হাওয়া’ খুব শিগগিরই মুক্তি পাবে উত্তর আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে।
