হাতে গোনা কয়েক বছরের ক্যারিয়ার শরিফুল রাজের। একটু একটু করে নিজেকে এগিয়ে নিচ্ছেন। সফলও হচ্ছেন তাতে, যার প্রমাণ মিলেছে ‘পরাণ’ সিনেমায়। এতে তার অভিনয় সমালোচকদের নজর কেড়েছে। কেউ কেউ তো তাকে লম্বা রেসের ঘোড়া মনে করছেন।
যদিও এসবে এখনই তৃপ্ত নন এই তরুণ তুর্কি। সফলও বলতে চান না নিজেকে। তিনি জানেন, ক্ষণিকের সফলতা হাওয়াই-মিঠাই। তাই দীর্ঘস্থায়ী সফলতা অর্জনের লক্ষ্যে পথ চলছেন।
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে শরিফুল রাজ বলেন, আমি তো এখনও সফল হতেই পারিনি। আর আমার সিনেমার ক্যারিয়ারটা চার-পাঁচ বছরের। সবমিলিয়ে সফলতার কথা বলতে গেলে, একের পর এক আমার কাজ আসছে। কারও ভালো লাগছে। আমাকে নিয়ে লেখালেখি হচ্ছে। চরিত্র নিয়ে কথা হচ্ছে, এই বিষয়গুলো উপভোগ করছি। একটি সিনেমার মধ্যে থাকতে চাই না। সামনে আমার আরও কাজ আসছে।
তিনি বলেন, আমি চাই পরবর্তী সিনেমাগুলো নিয়ে সবাই কথা বলবেন। পছন্দ করবেন। চরিত্রগুলো বিশ্লেষণ করবেন। আমার অভিনয় নিয়ে কথা বলবেন, লেখালেখি করবেন। এই বিষয়গুলো চলমান থাকলে মনে হবে দিনশেষে একজন অভিনেতা হিসেবে আমি সফল। ভালোবেসে ফিল্ম করতে এসেছিলাম, তখন মনে হবে ঠিক জায়গায়ই এসেছিলাম।
‘পরাণ’ মুক্তির পর প্রেক্ষাগৃহে ঘোরার অভিজ্ঞতা জানিয়ে রাজ বলেন, একটা কথা চাউর আছে, আমাদের দেশে সিনেমা সিলেক্টিভ অডিয়েন্স দেখেন। আমি অবাক হলাম, সিনেমা দেখার আলাদা কোনো দর্শক নেই। তাঁদের কোনো জাত নেই, ধর্ম নেই, তাঁরা বড়লোক, গরিব কেউ না—সবাই বাংলা সিনেমা, বাংলাদেশের শিল্পীদের সিনেমা দেখতে চান। এ দেশের বিরাট জনগোষ্ঠী আছে, যারা পাগলের মতো বাংলা সিনেমা দেখতে চায়। কিছু মানুষকে পেয়েছি, জড়িয়ে ধরে ছাড়তে চান না। কেউ বলেছেন, ‘৩০ বছর পর সিনেমা দেখতে এলাম।’ কেউ কেউ আবার মেয়ে, স্ত্রী, ছেলেকে নিয়ে ছবি দেখতে এসেছেন। এক ভদ্রলোককে পেলাম, আমেরিকা থেকে এসে বাংলা সিনেমা দেখতে এসেছেন। এসব অনেক বড় পাওয়া।
তিনি বলেন, দর্শকেরাই পারেন বাংলা সিনেমার মোড় ঘুরিয়ে দিতে। দর্শকদের শুধু ভালো মানের বিনোদনধর্মী সিনেমা দেখার সুযোগ করে দিতে হবে।
