সোনার চামচ মুখে দিয়ে জন্ম নেননি মিঠুন চক্রবর্তী। বলিউডে তখন পায়ের তলার জমিটুকুও নেই, সবটাই কঠিন লড়াই। কখনো কখনো মনে হতো আর বুঝি পারবেন না, হার মানতেই হবে। এমনকি অনেকবার আ’ত্মহ’ত্যার কথাও ভেবেছিলেন আজকের ‘মহাগুরু’। তবু দিনের শেষে তিনি যোদ্ধা। জেতার খিদে ছিল তাঁর রক্তে।
সাড়ে চার দশক ধরে ৩৭০টির বেশি সিনেমায় কাজ করে আসা মিঠুন টাইমস অব ইন্ডিয়াকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আমি সাধারণত এ সম্পর্কে খুব বেশি কথা বলি না। এমন কোনো নির্দিষ্ট পর্বও নেই, যা আমি উল্লেখ করতে চাই৷ কারণ, সবাই সংগ্রাম করে, নিজেকে সেক্ষেত্রে বিশেষ করে দেখানোর কোনো ইচ্ছে নেই।
“কিন্তু সত্যি বলতে কী, আমার সংগ্রাম ছিল সীমাহীন। মাঝেমধ্যে ভাবতাম আমি বোধহয় লক্ষ্য ছুতে পারব না। এমনকি আ’ত্মহ’ত্যার কথাও ভাবতাম।”
ভক্ত-অনুরাগীদের উদ্দেশে মিঠুনের উপদেশ, “কখনই যুদ্ধ শেষ করার কথা ভাবেন না। আমি একজন জন্মগত যোদ্ধা এবং আমি জানতাম না কীভাবে হারতে হয়। দেখুন, আমি এখন কোথায় আছি।”
মিঠুন মনে করেন, সময় এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে মানবিক মূল্যবোধ হ্রাস পাচ্ছে। এ জন্য সোশাল মিডিয়াকে দায়ী করে এই অভিনেতা বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাল কিছু যুক্ত থাকলেও মানুষ এই মাধ্যমকে নেতিবাচক বিষয়গুলো উপস্থাপনের জন্য ব্যবহার করছে। আগে আমরা একে অপরের সঙ্গে ব্সে খেতাম। এখন দুজন মানুষও পাশপাশি থাকলে মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকে।”
ভক্তদের ভালোবাসা এবং প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচকদের কাছে ডিসকো ড্যান্সারের আরেকটু প্রশংসা পাওয়া উচিৎ ছিল কি না- প্রশ্নে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমি মৃণাল সেনের মাস্টার পিস মৃগয়া দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করে জাতীয় পুরস্কার জিতেছিলাম। তারপর আমি ‘তিতলী’, ‘তাহাদের কথা’, ‘শুকনো লঙ্কা’ ও ‘কালপুরুষ’ করেছি। এই সিনেমগুলো সমালোচকদের নজর কেড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিল। তবে এটা সত্যি এই প্রশংসা বাণিজ্যিক সিনেমার তুলনায় কম।”
অ্যাকশন, কমেডি, রোমান্টিক সব ঘরানার সিনেমাই মিঠুন পছন্দ করতেন। তবে তিনি বলেন, “সবকিছুর মধ্যে দর্শকেরা এখনও আমার অ্যাকশন সিনেমা দেখে এবং বিখ্যাত সংলাপগুলো আউড়ে যায়, আমি তখন গর্ব বোধ করি। আমি মনে করি, ওই সিনেমাগুলোই (আ্যাকশনধর্মী) আমাকে এগিয়ে দিয়েছে।”
অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে মুম্বাইয়ের রুপালি জগতে স্থান করে নেওয়া মিঠুনের শুরুর দিকে ধারণা ছিল, প্রতি ক্ষেত্রেই বোধাহয় ‘হ্যাঁ’ বলাটাই সমীচীন হবে।
কাজের বাছ-বিচার করে কিছুটা ধীরগতিতে চলা উচিৎ ছিল কি না- প্রশ্নে মিঠুন বলেন, “কম সিনেমা করলে কি আজ এই অবস্থানে পৌঁছতে পারতাম? আমি আসলে এটা নিয়ে খুব বেশি ভাবি না।“
